বক্সায় ছ'দশক পর ফিরছে একশৃঙ্গ গন্ডার https://ift.tt/Noyd2GD - MAS News bengali

বক্সায় ছ'দশক পর ফিরছে একশৃঙ্গ গন্ডার https://ift.tt/Noyd2GD

পিনাকী চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ারষাটের দশকের পর ফের একশৃঙ্গ গন্ডারদের পা পড়তে চলেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে। এ বার পশ্চিমের নিমাতি রেঞ্জের নতুন গড়ে ওঠা তৃণভূমিতে বিচরণ করতে দেখা যাবে গন্ডারদের। অর্থাৎ রাজ্যে একশৃঙ্গ গন্ডারদের চতুর্থ আবাসস্থলের স্বীকৃতি পাবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। গোরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের পর কোচবিহার রাজাদের মৃগয়াক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত পাতলাখাওয়ার রসমতির জঙ্গলও গন্ডারদের বসতির জন্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের যে কোনও সময় সেখানে জলদাপাড়া থেকে গন্ডার এনে ছাড়া হবে সেখানে। এর পর চতুর্থ আবাসস্থল হতে চলেছে বক্সা। তাতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন বনকর্তারা। মূলত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গন্ডারদের ভিড় কমাতে ও মাদি পুরুষের সংখ্যার অনুপাত ঠিক রাখতেই রাজ্যে আরও বেশ কয়েকটি গন্ডার আবাস তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বন দপ্তর। তাতে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।জলদাপাড়ার ২১৬.৫১ বর্গ কিলোমিটারের জঙ্গলে ইতিমধ্যেই গন্ডারের সংখ্যা তিনশো ছুঁয়েছে। যেখানে মাদি পুরুষের হার ১:১। অথচ গন্ডারদের জীবনশৈলি অনুসারে প্রতিটি পুরুষ গন্ডার পিছু কমপক্ষে তিনটি মাদি গন্ডার থাকার কথা। স্বাভাবিক ভাবেই জলদাপাড়ায় সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে নেমে অহরহ জখম হচ্ছে পুরুষ গন্ডাররা, ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। অন্যদিকে একই জিনভুক্ত গন্ডারদের মধ্যে যুগ যুগ ধরে প্রজননের ফলে অচিরেই তাদের শরীরে জিনগত ব্যাধি বাসা বাঁধার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গন্ডার বিশেষজ্ঞরা। অন্য দিকে, গোরুমারার ৭৯.৯৯ বর্গ কিলোমিটারের অপরিসর জঙ্গলেও গন্ডারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৫ ছাড়িয়ে গিয়েছে। দুই জাতীয় উদ্যানে গন্ডারদের ভিড় কমাতেই রাজ্য বন দপ্তর গন্ডারদের বিকল্প আবাসস্থল গড়ার পরিকল্পনা নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর। তিনি বলেন, 'বক্সার নিমাতির সঙ্গে সঙ্গে নাথুয়া ও চাপড়ামারির একটি অংশকেও গন্ডারদের জন্যে প্রস্তুত করার কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত মিলেছে। যার মধ্যে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যেই বক্সার নিমাতি অগ্রাধিকার পেতে চলেছে।' বন দপ্তরের নথি অনুসারে, ষাটের দশকে শেষ বারের মতো বক্সার জঙ্গলে গন্ডারদের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তারপর ধীরে ধীরে বক্সার জঙ্গলের চরিত্র বদল হয়ে রুক্ষতা বেড়ে যাওয়ায় ও জলের অভাবে বক্সা থেকে বিদায় নেয় ও ওয়াইল্ড বাফেলোরা। গন্ডাররা দু'টি ভাগে বিভক্ত হয়ে জলদাপাড়া ও অসমে ঠাঁই নিলেও ওয়াইল্ড বাফেলোর দল পাকাপাকি ভাবে অসমে চলে যায়। বক্সায় ভিনরাজ্য থেকে বাঘ আনার পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে বছর সাতেক আগে নতুন করে তৃণভূমি তৈরি ও জলাধার তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তার জন্যে নিমাতি রেঞ্জের ষাট হেক্টর জমিকে বেছে নেওয়া হয়। যার মধ্যে ত্রিশ হেক্টর তৃণভূমি এখন সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই জমিকেই গন্ডারের আবাসভূমি হিসেবে কাজে লাগানো হবে। বাকি আরও কিছুটা জমি তৈরি করতে কোমর কষে কাজ করছে বন দপ্তর।এশিয়ান রাইনো গ্রুপের চেয়ারম্যান বিভব তালুকদার বলেন, 'আমরা সাত বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরকে রাজ্যে গন্ডারদের আবাসভূমি বৃদ্ধির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলাম। শুনে ভালো লাগছে যে, তাঁরা আমাদের পরামর্শ মেনে সেই কাজে হাত দিয়েছেন। যা রাজ্যের গন্ডার সংরক্ষণকে আরও সুসংহত করবে।'


from Bengali News, বাংলা সংবাদ, আজকের বাংলা খবর, Live Bangla News, News in Bangla, Bengali News Today - Ei Samay https://ift.tt/tTrj4Cp
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads