সাগরের ডিফেন্স ফাঁকি দিয়ে গঙ্গায় জব্বর সব ইলিশের ঢল https://ift.tt/jvrsBRh - MAS News bengali

সাগরের ডিফেন্স ফাঁকি দিয়ে গঙ্গায় জব্বর সব ইলিশের ঢল https://ift.tt/jvrsBRh

সুপ্রকাশ মণ্ডলসাগরের দুর্যোগ কার্যত শাপে বর হয়ে দাঁড়াল গঙ্গার কাছে! যে রুপোলি শস্যের জন্য বাঙালির চিরকালীন হাহাকার, এই বর্ষায় কেমন করে যেন সেই ইলিশের দল উজান বেয়ে গঙ্গার ভরা গাঙে চলে এসেছে। তা-ও আবার যে সে ইলিশ নয়, মাপে দশাসই-স্বাদে জব্বর। গত দেড় দশক ধরে মিঠে জলে ইলিশের যে ভাটা এ পার বাংলায় চলছিল, তাতে এ বার খানিকটা জোয়ার। যেটা তাক লাগিয়েছে, তা হলো ইলিশের মাপ- প্রায় ৩ কেজির ইলিশও আছে। জেলেদের জালে কেজি খানেকের ইলিশও ধরা পড়ছে ভালোমতো। বিশেষজ্ঞ এবং জেলেদের বক্তব্য, সম্প্রতি খারাপ আবহওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই ফাঁক গলে নদীতে ঢুকে পড়েছে ইলিশ। এ বাদেও আছে আরও দু'-তিনটি কারণ। এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশ মেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজ়ারগঞ্জ, রায়দিঘি, ক্যানিং ইত্যাদি এলাকার মৎস্যজীবীরা মূলত সমুদ্র থেকে ইলিশ তোলেন। এ ছাড়া দিঘা-শঙ্করপুর থেকেও বেশ কিছু ইলিশ পাওয়া যায়। কিন্তু সমুদ্রের। কোলাঘাটের রূপনারায়ণ থেকে বহুদিন আগেই মুখ ফিরিয়েছে রুপোলি শস্য। বর্ষাকালে গঙ্গায় তা মিললেও সংখ্যায় নগণ্য। বর্ষা পেরিয়ে কোনও কোনও বছর মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা এবং রঘুনাথগঞ্জে বেশি ইলিশ মেলে। দীর্ঘদিন মিঠে জলে থেকে সে ইলিশের স্বাদও হয় খোলতাই। সমুদ্রের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন নদীতেও জেলেরা ছিপ নৌকায় বর্ষাকালে ইলিশ শিকারে বেরোন। গঙ্গা-সহ বিভিন্ন নদীর সঙ্গে সমুদ্রের যোগাযোগের কারণে সেগুলিতে ইলিশ আসে। গত এক সপ্তাহ ধরে গোদাখালি, ফলতা, রায়পুর, ডায়মন্ড হারবারে হুগলি নদীতে ধরা পড়েছে বড় মাপের বেশ কিছু ইলিশ। রায়পুর ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন মাছ ধরেন ধর্ম বিশ্বাস। গত শনিবার তাঁর জালে ওঠে তিনটি প্রমাণ মাপের ইলিশ। সর্বোচ্চটি ২ কেজি ৭০০ গ্রামের। বাকি দু'টি ২.৬ এবং ২.৪ কেজির। সবচেয়ে বড় ইলিশটি কিনেছে, কেন্দ্রীয় সংস্থা সিফরি (সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ় রিসার্চ ইনস্টিটিউট)-এর ব্যারাকপুর অফিস। তারা সেটিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে। এ ছাড়াও বাকিদের জালে ধরা পড়ছে ১ কেজি থেকে ১,২০০ গ্রামের বেশ কিছু ইলিশ। যদিও এর তুলনায় ছোট ইলিশই সংখ্যায় বেশি। কিন্তু আচমকা এত বড় ইলিশ কী করে এসে পড়ল হুগলি নদীতে? ইলিশ বিশেষজ্ঞ, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অসীমকুমার নাথ বলেন, 'শ্রাবণে ডিম পাড়তে মিঠে জলে আসে ইলিশ। সময়ের একটু এদিক-ওদিক হয়। দিন ১৫ আগে নিম্নচাপ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভালো বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সমুদ্রের জলের লবণাক্ত ভাব কেটেছে অনেকটা। সমুদ্র লাগোয়া নদীর জলের লবণাক্ততা মেপে দেখেছি, প্রায় শূন্য। এই সময়ে পূবালি হাওয়া ইলিশকে মিঠে জলের দিকে টেনেছে।' দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ শিকার করেন এবং অন্যদের থেকে মাছ কিনে বিক্রি করেন গোদাখালির পূর্ণ পাত্র। তিনি বলেন, 'অন্য সময়ে ইলিশ পূবালি হাওয়ায় নদীর পথ ধরলে মোহনা বা তার আগেই ট্রলারের জেলেদের জালে বন্দি হয়ে যায়। এ বার সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে অবাধে ইলিশগুলি নদীতে ঢুকে পড়েছে।' পূর্ণ জানান, প্রতি বছরই এই সময় কলকাতা থেকে বহু মানুষ ইলিশ কিনতে গোদাখালি-রায়পুরে পৌঁছন। তবে এ বার আর তাঁদের নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে না।


from Bengali News, বাংলা সংবাদ, আজকের বাংলা খবর, Live Bangla News, News in Bangla, Bengali News Today - Ei Samay https://ift.tt/ogtw4WO
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads