ইউএস কগরস মদর তর রগ https://ift.tt/lvzAhZD - MAS News bengali

ইউএস কগরস মদর তর রগ https://ift.tt/lvzAhZD

ওয়াশিংটন: বৃহস্পতিবার ভারতে যখন প্রায় রাত দু'টো তখন ইউএস ক্যাপিটলে ভারতের তাঁর বক্তব্য রাখা শুরু করেছেন। ইউএস পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে এটা তাঁর দ্বিতীয় বক্তৃতা, যা যে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার কাছেই বিরল সম্মান। শুরুতেই তিনি আইনসভার সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাচীনতম এবং ভারত বৃহত্তম গণতন্ত্র। এই দীর্ঘ সম্পর্কের উদযাপন করতেই আজ এখানে একসঙ্গে করছি। ইয়েস, ডেমোক্র্যাসি ক্যান ডেলিভার।' হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের মাটিতে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে নানা বিতর্ক চলতেই পারে। তা হওয়াই উচিত। কিন্তু যখন দেশের হয়ে কথা বলা হয়, তখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত, যেটা আপনারা করে দেখিয়েছেন। কনগ্র্যাচুলেশনস!' এর পরেই প্রশ্ন উঠে গেছে মোদী এ কথা কেন বললেন?মোদী যে এ কথা রাহুলকে লক্ষ্য করেই বলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল প্রায় নিঃসংশয়। অতি সম্প্রতি তিনিও আমেরিকায় এসেছিলেন, তার আগে যান ব্রিটেনে। বক্তব্য রাখেন নিজের ইউনিভার্সিটি কেমব্রিজে। দু'জায়গাতেই তিনি 'ভারতে কী ভাবে সরকারি উদ্যোগে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, বিরোধী স্বর দমন করা হচ্ছে ও একাংশের মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে' সে কথা কোনও রাখঢাক না করেই তুলে ধরেছিলেন। তা নিয়ে দেশে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। বিজেপির প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা পালা করে রোজ রাহুলকে তোপ দেগে বলে গেছেন, কংগ্রেস নেতা কী ভাবে বিদেশে গিয়ে দেশকে অপমান করছেন। দেশের ও সরকারের বেইজ্জতি করছেন। তিনি প্রতিহিংসা থেকে এ সব করছেন, কারণ রাহুল মোদীর নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে ভারতের জায়গা করে নেওয়া মেনে নিতে পারছেন না। রাহুল নিজে মুখ না খুললেও কংগ্রেস পাল্টা বলেছিল, একটা কথাও মিথ্যে বলেননি সনিয়া-পুত্র। বিজেপি আগে নিজেদের দিকে তাকাক, তার পর বলতে আসবে! বৃহস্পতিবারই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক সাবরিনা সিদ্দিকি আমেরিকা সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যে প্রশ্নটা করেছিলেন, তার দু'টো ভাগ ছিল। প্রথমটা, ভারতীয় গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু বিশেষত মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও দ্বিতীয়টা একাংশের সংবাদমাধ্যম-সহ বিরোধী কণ্ঠরোধের। তিনি প্রথম প্রশ্নের উত্তর নিজস্ব ঢঙেই দিয়েছেন ও খারিজ করেছেন ধর্মের নিরিখে কোনও রকম বৈষম্যের অভিযোগ। বলেছেন, 'ভারতের ডিএনএ গণতন্ত্র। বিভাজনের প্রশ্নই ওঠে না।' কিন্তু দ্বিতীয় ভাগের উত্তরই তিনি দেননি! তবে ইউএস কংগ্রেসে মোদী টেনে আনলেন সেই প্রসঙ্গই। সমালোচকরা বলছেন, আমেরিকান সাংবাদিকের প্রশ্ন এড়িয়ে বেছে নিলেন তাঁর চিরাচরিত অস্ত্র, নাম-না-করে বিরোধীদের আক্রমণ ও তাঁদের 'রাজনৈতিক বোধ' নিয়ে প্রশ্ন তোলা। নিজেই মানলেন না 'বিদেশের মাটিতে ঐক্যবদ্ধ' থাকার নিজেরই বলা নীতি! অবশ্য মার্কিন কংগ্রেসেও সকলে উপস্থিত ছিলেন না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংসের চেষ্টা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব-সহ নানা বিষয়ে তাঁরা মোদীর ভাষণ বয়কট করেছিলেন। সেটা আগাম জানিয়েওছিলেন। ঘটনাচক্রে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওবামা বৃহস্পতিবারই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'এথনিক মাইনরিটি'দের অধিকার ও নিরাপত্তা ভারতে বিপন্ন। তা রক্ষা করতে না পারলে দেশের মধ্যে বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, 'বাইডেনের সঙ্গে ওবামার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সুবিদিত। তাই প্রেসিডেন্ট ডিপ্লোম্যাটিক প্রোটোকল মেনে এ কথা মোদীকে বলতে না পারলেও ওবামাকে দিয়ে বলিয়েছেন।' আর কী মনে করছে মার্কিন প্রেস? আমেরিকার যে সব সংবাদ প্রতিষ্ঠান মোদীর প্রথম 'স্টেট ভিজ়িট' কাভার করেছে, তাদের একাংশ প্রথম থেকেই ভারতের বর্তমান সরকার ও তার একাধিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি প্রসিদ্ধ মার্কিন দৈনিক শুক্রবার তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, আমেরিকা-ভারত ন্যাচারাল অ্যালাই। কিন্তু বিশেষ করে গত ৯ বছরে যে ভাবে ভারতে, সে দেশের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা থেকে সিভিল রাইটস, পলিটিক্যাল রাইটস, ধর্মীয় অধিকার, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, তা আশঙ্কার। তাই ইউএস প্রেসিডেন্টের সেই বিষয় নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।' উল্লেখ করা হয়েছে গুজরাট গণহত্যার (২০০২) পরের ১০ বছর যে আমেরিকার সরকারই মোদীকে ঢুকতে দেয়নি, সে কথাও। মোদী কিন্তু এখনও নির্বিকার। বরং তিনি ভাষণ শেষে মার্কিন এমপি-দের সঙ্গে সেলফি ও অটোগ্রাফে ব্যস্ত ছিলেন!


from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News https://ift.tt/aTnYAFH
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads