ওয়শটন-তহরনর বরফ গলর আভস! https://ift.tt/79SZTgN - MAS News bengali

ওয়শটন-তহরনর বরফ গলর আভস! https://ift.tt/79SZTgN

এই সময়: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তলানিতে ঠেকেছিল আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক শোধরাতে নীরবেই সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। আশু লক্ষ্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে রাশ টানা এবং সেখানে বন্দি আমেরিকানদের মুক্তি হলেও এই উদ্যোগ সফল হলে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে ভারসাম্য ফেরার আশা দেখছে আন্তর্জাতিকমহল। এই কূটনৈতিক প্রয়াস নিয়ে সরকারি ভাবে কেউ মুখ না-খুললেও প্রয়াস যে চলছে, ইজরায়েল, ইরান এবং আমেরিকার সরকারি আধিকারিকদের সূত্রেই তার নিশ্চয়তা মিলেছে। কোনও চুক্তি-স্বাক্ষর নয়, বরং অলিখিত 'পলিটিক্যাল সিজ-ফায়ার'-এর লক্ষ্যে দুই দেশ এগোচ্ছে বলে ওই সব সূত্রের ব্যাখ্যা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, ওমানে চলছে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় দু'দেশের 'গোপন' আলোচনা। যদিও এর সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল গত বছরের শেষে, যখন ইরান সংক্রান্ত আমেরিকার বিশেষ দূত রবার্ট ম্যালি রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের প্রতিনিধি আমির সইয়েদ ইরাভানির সঙ্গে দু'দফা বৈঠকে মিলিত হন। যে ভাবে ২০১৮-র পর থেকে পরমাণু বোমার উপযোগী গুণমানের ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার তৈরি করছে ইরান, ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্যে উন্নতমানের ড্রোন জোগাচ্ছে রাশিয়াকে, চিনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে--সে-সবই পশ্চিম এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে মস্ত মাথাব্যথা আমেরিকার। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ওমানে শুরু হয়েছে দু'দেশের আলোচনা। ২০১৫-য় পরমাণু প্রশ্নে যে রফা দু'দেশের হয়েছিল, তাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বদলে বিবিধ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি ছিল আমেরিকার তরফে। কিন্তু ট্রাম্প ২০১৮-য় সেই চুক্তি ভেঙে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চাপাতেই তেহরান আর মিত্র থাকেনি ওয়াশিংটনের। উত্তরোত্তর গতি বেড়েছে তাদের পরমাণু কর্মসূচির। বাইডেন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বর্তমান আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তে ইউরেনিয়াম প্রসেসিং কমিয়ে আনা, সিরিয়া, ইরাকে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত আমেরিকান নাগরিকদের উপর আক্রমণ বন্ধ, রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি বন্ধে তেহরানও রাজি বলে খবর। নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনৈতিক দুর্বিপাক থেকে বেরোতে মরিয়া ইরান। সংঘর্ষ এড়ানোর বিষয়ে সক্রিয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানের ডিরেক্টর আলি ভায়েজের বক্তব্য, 'এখনই অভূতপূর্ব কোনও সাফল্য অর্জন সম্ভব না-হলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা উত্তেজনা প্রশমন, সংঘর্ষের পরিস্থিতি এড়ানোই আলোচনার বর্তমান পর্যায়ের লক্ষ্য। সেটা সম্ভব হলে আরও বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে কথার রাস্তাও খুলবে।' এই আলোচনা যে সদর্থক পথে এগোচ্ছে, তার ইঙ্গিত দিয়ে শক্তি-ক্ষেত্রে ইরানের পাওনা ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার দিতে ইরাককে অতি-সম্প্রতি সবুজ-সঙ্কেত দিয়েছে আমেরিকা। যদিও এই টাকা ইরানের নাগরিকদের খাদ্য ও ওষুধ খাতেই শুধু ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত জোড়ার ক্ষেত্রে বাইডেনের কিছু বাধ্যবাধকতাও অবশ্য রয়েছে। কারণ, এর আগে ইরান সম্পর্কে লিবারেল দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে বারাক ওবামাকে দেশে রিপাবলিকানদের থেকে কম আক্রমণ সইতে হয়নি। সামনের বছর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, নতুন করে রিপাবলিকানদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে নারাজ বাইডেন প্রশাসন। তেল-বিক্রি বাবদ দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে প্রাপ্য ৭ বিলিয়ন ডলার আদায়েও ইরান-প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে, বিনিময়ে বন্দি কয়েক জন আমেরিকান নাগরিককে মুক্তি দিতে প্রস্তুত তারা। এমনিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নেটো-নেতা আমেরিকার মাথাব্যথার শেষ নেই, পশ্চিম এশিয়ায় তারাও এখনই আর নতুন সঙ্ঘাতে জড়াতে চায় না। সব মিলিয়েই ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের বরফ গলার আশা তৈরি হচ্ছে।


from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News https://ift.tt/bEQ4u8S
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads