বালুরঘাটে অপহরণের করে খুনের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে দ্বিমত তৃণমূল কাউন্সিলর https://ift.tt/ygUCWSp - MAS News bengali

বালুরঘাটে অপহরণের করে খুনের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে দ্বিমত তৃণমূল কাউন্সিলর https://ift.tt/ygUCWSp

West Bengal News : দেড়দিন পর নিখোঁজ শিশুর দেহ উদ্ধার ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাটে (Balurghat)। রবিবার স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে প্রতিবেশী এক যুবক। শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের এ কে গোপালন কলোনী এলাকায় নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে আসার পর থেকে থমথমে রয়েছে এলাকা। নতুন করে যাতে এই এলাকায় আর কোনও উত্তেজনা না তৈরি হয় তার জেরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় মানস সিং সহ তার পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বালুরঘাট থানার পুলিশ () সোমবার ভোরে বালুরঘাট জেলা আদালতে () পেশ করেছে ধৃতদের। এদিকে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ পুলিশ এই খুনকে কেন্দ্র করে যে তত্ত্ব খাঁড়া করেছে তা অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ। ঠিক কী হয়েছিল? গোপালন কলোনি এলাকার বাসিন্দা দীপ। মা নেই। বাবা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। ওই নাবালক তার ঠাকুরমার কাছেই থাকত। সে স্থানীয় কেন্দ্রে পড়ত। শনিবার সন্ধ্যায় গোপালন কলোনির প্রতিবেশী যুবক মানস সিং ওই নাবালককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে ওই যুবকের সঙ্গে আরও দু'জন অপরিচিত ব্যক্তি ছিল বলে জানা যায়। এদিকে সন্ধে গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও দীপকে বাড়ি ফিরতে না দেখে খোঁজাখুজি শুরু করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এলাকা সহ আত্মীয়দের বাড়ি খোঁজ নিয়েও তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তারপরই সন্দেহ হয় পরিবারের। এরপরই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। তারপরই তদন্তে নামে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। সেই ফুটেজ দেখেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার সন্ধাতেই ঘটনার মোড় ঘুড়ে যায় অন্যপথে। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পরে অবশেষে সন্ধায় আত্মসমর্পণ করে অভিযুক্ত। সঙ্গে ওই যুবকের বাবা রবিন সিং, মা দুলো সিং ও বোন মানসী সিংকে গ্রেফতার করে। পরে ঝোঁপের মধ্যে থেকে দীপের বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করা হয়। কী বলছে পুলিশ? এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে বলেন, "নিখোঁজ থাকার পরে সোমবার বিকেলে ওই শিশুর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে বচসার জেরেই নাবালককে খুন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।" যদিও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "ঘুড়ির কোনও বিষয় ছিল না। আসলে দীপকে ঘুড়ি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাচার করার উদ্দেশ্যে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত। মূলত পাচার করার জন্যই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ যা বলছে সেটা ভুল। এই ঘটনাকে পুরো ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে আমরা এই ঘটনার শেষ দেখতে চাই। কোনও বিবাদ ছিল না। পাচারের জন্যই দীপকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দীপ বেশিরভাগ সময় তাদের বাড়িতেই থাকত। তখন থেকেই হয়তো তারা দীপকে পাচার করার ছক কষেছিল।" পুলিশের বক্তব্য মানতে নারাজ তৃণমূল কাউন্সিলরও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ বলেন, "আমার মনে হয় ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয়টা একেবারেই ঠিক নয়। এক্ষেত্রে আমি এলাকাবাসীর সঙ্গে সহমত। রবিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত আমি এই এলাকাতেই ছিলাম। তো তাতে আমার যেটা মনে হচ্ছে ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে কোনও বিবাদ হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় অজানা মানুষের আনাগোনা বাড়ছিল। অনেক আগে থেকেই দীপকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আমাদের যেটা মন হচ্ছে ওই নাবালককে বাইরে পাচার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই আমরা সবাই চাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। এসপি কী বলেছেন তা আমার জানা নেই। ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয় সঠিক নয় বলেই আমার মনে হচ্ছে। দীপের পাশাপাশি হয়তো এলাকার অন্য ছেলেদের টার্গেট করা হয়েছিল। আর সেই কারণেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। তবেই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।"


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/0yfkXDs
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads