শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে দিনমজুর https://ift.tt/Mg5FWzw - MAS News bengali

শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে দিনমজুর https://ift.tt/Mg5FWzw

জয় সাহা বছর ৪০-এর রীতা বালা দেববর্মার বাড়ি ত্রিপুরার ধলাই জেলায়। ২০১০-এ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক হিসেবে স্কুলে চাকরি শুরু। প্রায় ১২ বছর পর ২০২০-র মার্চে তাঁর চাকরিটি চলে যায়। জনজাতি পরিবারের রীতা অথৈ জলে পড়েন বৃদ্ধা মা ও বোনকে নিয়ে। প্রায় ৩১ মাস তিনি চাকরিহীন। সংসারে হাঁড়ি চড়াই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনিক ২৫০ টাকার বিনিময়ে এখন লোকের জমিতে দিনমজুরি করেন রীতা। পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁর মতো ত্রিপুরা দক্ষিণ জেলার সুব্রত দেবনাথ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে বছর দশেক ধরে শিক্ষকতা করেছেন। আদালতের রায়ে ১০,৩২৩ জনের মতো তাঁরও চাকরিটি গিয়েছে। বছর আটেকের ছেলে, স্ত্রী, সত্তরোর্ধ্ব বাবা-মায়ের সংসার টানতে শুরু করেছেন দিন মজুরি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক - নিয়োগ দুর্নীতিতে তোলপাড় বাংলা। ত্রিপুরাতেও এমনই দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক। দিনআটেক হলো আমরণ অনশন চালাচ্ছেন আদালতের নির্দেশে চাকরি হারানো শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যে বিজেপি বাংলায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেই দলের নেতারাই ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার আগে তাঁদের চাকরি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা আর অন্দোলনকারীদের চিনতে পারেন না। ১৪২ জন শিক্ষক মারাও গিয়েছেন বলে অধের দাবি। অভিযোগ, অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অনশনে অন্তত ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রদীপ বণিক নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, 'ত্রিপুরায় সিপিএম সরকারের ভুলে কোর্টে আমাদের চাকরি গিয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী ৪৬২ জনের বেশি চাকরি যাওয়ার কথা নয়। তারপরেও তৎকালীন সরকারের ভুলে ১০,৩২৩ জন শিক্ষক আজ চাকরি খুইয়ে পথে।' প্রাক্তন সেনাকর্মীর কোটায় চাকরি পেয়েও তা হারিয়েছেন অরবিন্দ শর্মা। তাঁর বক্তব্য, 'আমাদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। সরকার বদলের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিজেপিকে সমর্থন করলে চাকরি থাকবে। এখন আর বিজেপি বা সরকারের কেউ আমাদের চিনতে পারেন না।' ফ্লাইটে দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের কথা বলানো হয়। এমনকী, বিজেপির ভিশন ডকুমেন্টেও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কথা রাখা হয়নি। রীতা, অরবিন্দরা বাংলায় আন্দোলনের কথা জানেন। বলেন, 'কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতিতে পা দেবেন না। আমরা ভুক্তভোগী। নেতারা কথা রাখেন না।' এ কথা শুনে কলকাতায় ৫৯৪ দিন ধরে আন্দোলনমঞ্চে থাকা এসএসসি আন্দোলনকারীদের তরফে শহিদুল্লাহ বলেন, 'আমরা ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়ছি। রাজনীতির নেতারা আমাদের মঞ্চে দলীয় পতাকা ফেলেই আসছেন।'


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/5dwl4hg
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads