'...বড় লেখক হতে পারতাম', জীবনের পাঠ দিলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় https://ift.tt/icCQSoD - MAS News bengali

'...বড় লেখক হতে পারতাম', জীবনের পাঠ দিলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় https://ift.tt/icCQSoD

() মানুষের যত বয়স বাড়ে, তত অভিজ্ঞতা বাড়ে। আমি ব্রিটিশ শাসনকাল দেখেছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি। ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখেছি। ১৯৪২-এর বিরাট ঝড় এবং আন্দোলন দেখেছি। দেশ বিভাগ দেখেছি। স্বাধীনতা দেখেছি। এত অভিজ্ঞতার ঝাঁকা আমি বহন করে নিয়ে আসছি ৮৮ বছরের পথরেখা ধরে। এটা মস্ত বড় সৌভাগ্য। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমাকে এই জীবন দেওয়ার জন্য। এমনিতে পৃথিবী একটা খুব সুখের জায়গা নয়। প্রতি মুহূর্তে লড়াই করতে হয়। নিজের সঙ্গে, পরিবেশের সঙ্গে, আবহাওয়ার সঙ্গে, আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই দেখেছি। এবড়ো খেবড়ো, কাঁকুরে, পলিমাটিতে পূর্ণ পথ ধরে হেঁটেছি। আমার বাড়ির পিছনেই গঙ্গা রয়েছে। এই গঙ্গার পাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দক্ষিণেশ্বর চলে গিয়েছি। এসব অভিজ্ঞতা এখন আমার ভিতরে গজগজ করছে। এইসব যদি ঠিক করে লেখা যেত তাহলে অনেক বড় লেখক হতে পারতাম। কিন্তু, সেই দখল তো নেই। সেইজন্য মনে মনে ভাবি। অভিজ্ঞতার ঝাঁকা থেকে এক একটা দৃশ্য টেনে এনে অঙ্ক কষার চেষ্টা করি। এক একটা সিন তৈরি করি। একটাই দুঃখ রয়ে গেল। ভাবি, কোথায় পাব তারে? এবার এই তারে শব্দটিকে আন্ডারলাইন করে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, "মশাই এই তারের ডেফিনেশন কী বলুন তো?" তাহলে বলব, এই তার মানে একটা শান্তির জীবন। প্রাচুর্য নয। পিস চাই। অবশ্য আজকাল এই পিস বলতে যুদ্ধ না করা বোঝায়। যাকে ওয়ার্ল্ড পিস বলে। কিন্তু তার কথা বলছি না। মানুষের মন আজকাল উনুনে বসানো দুধের ডেকচির মতো। খানিকটা তরল পদার্থ সেখানে ফুটছে, ফুলছে, উপচে পড়ছে। এই তরল পদার্থের মতো জীবন যেন না হয়। একটা অদ্ভুত ধরনের শান্তি দরকার। সাম্য দরকার। সকলের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। এমন একটা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে হবে, যাতে কোনও লোক তাকিয়ে তাচ্ছিল্য করে। সকলের ভালোবাসার মধ্যে প্রবেশ করার টেকনিক কী সেটা বলা খুবই মুশকিল। ভগবান তুমি আমাকে কোলে তুলে দাও না বলে মনুষ্য সমাজ, আমাকে তোমার কোলে স্থান দাও বলাটা খুব জরুরি। টাকাপয়সা কিছু চাই না। চাই একটু ভালোবাসা। এই ভালোবাসা একটা ফিলিংস। এই ভালোবাসা কাছে না থাকলে কেমন যেন একটা অভাব বোধ হয়। এইসব নানা ব্যাপার ভাবতে ভাবতে ৮৮ বছর কেটে গেল। এবার কী হবে সেটা তো জানি না। থিয়েটার শেষ হওয়ার সময় পর্দা ধীরে ধীরে নেমে আসে। একেবারে শেষের পর্যায়ে পর্দা এবং স্টেজের মধ্যে বেশ কিছুটা গ্যাপ থাকে। যেখান থেকে পর্দার ওপারের আলো দেখা যায়। এটা আমার ভারী ভালো লাগে। তবে একেবারে শেষে পর্দা এবং স্টেজের অন্তর ঘুচে যায়। আলোটাও নিভে যায়। ৮৮ বছরে দাঁড়িয়ে বসে আছি পথ চেয়ে… ফাগুনেরও গান গেয়ে।


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/Zukylhc
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads