অতি বিপজ্জনক ১০০টি বাড়ির বাসিন্দাদের এবার সরতেই হবে https://ift.tt/q3GLKDi - MAS News bengali

অতি বিপজ্জনক ১০০টি বাড়ির বাসিন্দাদের এবার সরতেই হবে https://ift.tt/q3GLKDi

এই সময়: কলকাতায় প্রায় প্রতি বছরই বর্ষায় বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয় সেখানকার বাসিন্দাদের, কখনও জখম হন আশপাশের মানুষ বা পথচারীও। এই বছর তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না-হয়, তা নিশ্চিত করতে বিপজ্জনক বাড়িগুলিতে স্থানীয় থানার অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা। পুলিশ ও পুরসভার অফিসাররা মিলে ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বোঝাবেন, বিপজ্জনক বাড়িতে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বাড়ির মালিকের কাছে বাড়িটি সংস্কারের আর্জিও জানাবে পুরসভা। বুধবার কলকাতা পুরসভার সদর কার্যালয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এ দিনের বৈঠকে পুর কমিশনার বিনোদ কুমারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা। সেখানেই বিপজ্জনক বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে বহু বার দেখা গিয়েছে, একবার বাড়ি থেকে বেরোলে আর ফেরা যাবে না, এই ভয় থেকে বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দারা বাড়ি ছাড়তে চান না। পুরসভা সূত্রের খবর, সেই কারণেই এ বার তাঁদের একটি শংসাপত্র দেওয়া হবে বলে এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে। যেখানে লেখা থাকবে, ভবিষ্যতে বাড়িটি যিনিই সংস্কার করুন, সেখানে বসবাসকারীদের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। বাসিন্দারা যাতে বঞ্চিত না-হন, নথিতে সে কথা উল্লেখ থাকবে। তবেই বাড়িটি সংস্কারের অনুমোদন দেবে পুরসভা। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, শহরে বর্তমানে বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা ৩ হাজার। যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে, এমন বাড়ির সংখ্যা প্রায় ১০০। এই বছর বর্ষার আগে ওই ১০০টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরানো হবে বলে এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে। কিন্তু অতি বিপজ্জনক ওই সব বাড়ি ছেড়ে বেরোনো ভাড়াটেদের কোথায় রাখা হবে? পুরসভা সূত্রের খবর, বাড়িটির সংস্কার যদি বাড়ির মালিক করেন, তা হলে ভাড়াটেদের রাখার ব্যবস্থা তাঁকেই করতে হবে। মালিক ব্যবস্থা না-করলে ভাড়াটেদের রাখা হবে কমিউনিটি হল-এ। কলকাতায় আরও দু'টি বড় সমস্যা হলো, বেআইনি নির্মাণ এবং জলাশয় ভরাট। এ দিন মেয়র ও সিপি-র বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শহরে কোথায় কোথায় বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে, সে দিকে বিল্ডিং বিভাগের অফিসাররা নজর রাখবেন। কাজ বন্ধের নোটিস পাঠানোর পরেও কাজ বন্ধ না-হলে স্থানীয় থানায় এফআইআর করা হবে। এর পর থানা যেমন পদক্ষেপ করবে, তেমনই ব্যবস্থা নেবে পুরসভা। কিন্তু বেআইনি নির্মাণ ঠেকানো না-গেলে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার এবং বিল্ডিং বিভাগের অফিসারদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ ঠেকানোর জন্য কলকাতা পুলিশের কোনও যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে একটি টিমও দ্রুত তৈরি হবে বলে ফিরহাদকে বিনীত জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। লালবাজারের ওই বিশেষ দল পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করবে এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুরসভাকে সাহায্য করবে। একই ভাবে কোনও তল্লাটে জলাশয় ভরাট হচ্ছে কি না, সে দিকে পুলিশকে নজর রাখতে হবে। কোথাও জলাশয় ভরাট হলে স্থানীয় থানার অফিসারদের বিরুদ্ধে পুরসভার তরফে এফআইআর করা হবে বলে মেয়র এ দিন জানিয়েছেন। ফিরহাদ বলেন, 'জলাশয় ভরাটের ঘটনা আটকানো না-গেলে পুলিশকে তার দায় নিতে হবে।' কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মদতে জলাশয় ভরাট হচ্ছে বলে শহরে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে মেয়রের বক্তব্য, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে সাফ বলে দিয়েছেন, কারও কথা শুনবে না। নেতাদের নাম করে পুলিশ পয়সা নেবে, সেটা হবে না। অবৈধ কাজ রুখতেই হবে।'


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/1E6nRLl
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads