গীতাঞ্জলির হাত ধরে দেশের মুকুটে নতুন শ্রী https://ift.tt/eajLfYX - MAS News bengali

গীতাঞ্জলির হাত ধরে দেশের মুকুটে নতুন শ্রী https://ift.tt/eajLfYX

এই সময়: সময়টা সত্তরের দশক। তখন তাঁর উনিশ বছর বোধ হয়! তখন একশো টাকারও অনেক দাম। আইএএস বাবা মহার্ঘ্য একশো টাকার একটা নোট হাতে দিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ''এটা নিয়ে তুমি যা ইচ্ছে করতে পারো।' সেই বাবাই বিয়ের শর্ত দিয়েছিলেন, 'যাকে খুশি বিয়ে করতে পারো। তবে ছেলেটিকে ব্রাহ্মণ হতে হবে, সঙ্গে আইএএস।'' ঝরঝরে ইংরেজি লিখতে পারেন। হঠাৎ একদিন মনে হলে, হিন্দিই তাঁর ভালো ভাষা। মেতে উঠলেন হিন্দি ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টিতে। অন্য পথগামী এই মেয়েরই দৌলতে আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ ভারত। '' বইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেলেন গীতাঞ্জলি শ্রী। ২০১৮-য় প্রকাশিত গীতাঞ্জলির 'রেত সমাধি' নামের হিন্দি উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ 'টুম্ব অফ স্যান্ড'। মার্কিন অনুবাদক ও লেখক ডেইজি রকওয়েল বইটির অনুবাদ করেছেন। তাঁর হাত ধরে ভারতীয় ভাষায় লেখা কোনও বই পেল প্রথম বুকার প্রাইজ। এর আগে অরুন্ধতী রায় ও অরবিন্দ আডিগা ম্যান বুকার পেয়েছেন, তবে তা তাঁদের ইংরেজি সাহিত্যসৃষ্টির জন্য। গীতাঞ্জলি-রকওয়েলের জাদুছোঁয়ায় বোরা চুংয়ের 'কার্সড বানি', জন ফসের 'আ নিই নেম: সেপটোলজি ৬-৭', মিয়েকো কাওয়াকামির 'হেভেন', ক্লাউদিয়া পিনেরোর 'এলেনা নোজ' এবং ওলগা তোগারচুকের 'দ্য বুকস অফ জেকব'-কে টক্কর দিয়ে বুকার জিতল 'টুম্ব অফ স্যান্ড'। ২০১৯-এ সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন এই তোগারচুকই। 'টুম্ব অফ স্যান্ড'-এ যে গল্পটি গীতাঞ্জলি শুনিয়েছেন, তার মূল সুরটা বোধহয় বহু আগেই বেঁধে গিয়েছিলেন রবি ঠাকুর। 'পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে!...' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। প্রেক্ষাপট দেশভাগের। ছত্রে ছত্রে কাঁটাতারের রক্তাক্ত যন্ত্রণা। স্বামী হারানোর পর ওই বৃদ্ধা সংসার-সন্তানের আপত্তি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে যেতে চান পাকিস্তানে। দেশভাগের ক্ষতে প্রলেপ, একজন নারীর উপলব্ধির পরিপূর্ণতাই ফুটে উঠেছে গীতাঞ্জলির ৭২৫ পাতার উপন্যাসে। বুনোট, নিঃশ্বাসের ওঠাপড়ার মতো এগিয়ে যাওয়া এই উপন্যাসে আগাগোড়া সম্পর্ক, ভারত ও ভারতীয়ত্বের জয়জয়কার। যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বুকারের 'চেয়ার অফ জাজেস' ফ্র্যাঙ্ক ওয়াইন বলেছেন, 'ক্যালাইডোস্কোপের কাচের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক, বয়স, নারী, পুরুষ, পরিবার এবং সর্বোপরি একটা দেশ, একটা জাতিকে দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে। ভারত এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে জ্বলন্ত দলিল এটি।' অকপটে ফ্র্যাঙ্ক স্বীকার করে নিয়েছেন এই রকমের উপন্যাস এর আগে তিনি পড়েননি। আর যাঁর জন্য এত প্রশংসা, সেই লেখক বলছেন, ''বুকার পাব বলে কখনও কল্পনাও করিনি। পেতে পারি বলে মনেও হয়নি। এটা অসম্ভব একটা পাওনা। আমি অভিভূত, আনন্দিত, সম্মানিত এবং বিনীত।'' ৬৪ বছরের গীতাঞ্জলির বেড়ে ওঠার সঙ্গে হিন্দি ভাষার যোগটা বহুলাংশেই একাত্ম। উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীতে আইএএস পরিবারে জন্ম। দেহাতি হোক বা উত্তরপ্রদেশীয় কবিসভার 'খাঁটি' হিন্দি-সবের সঙ্গেই আজন্ম যোগ। সেটা দীর্ঘ দিন সুপ্তই রয়ে গিয়েছিল। ইংরেজিতেই ওঠাবসা, সব রকমের যাপন। সেই মেয়েরই দিল্লি আসার পর একদিন মনে হয়, হিন্দিই বা কম কীসে! হিন্দিতে দীর্ঘ চিঠি লিখতে শুরু করলেন মাকে। তাই তিনি স্বীকার করতে ভোলেনি, তাঁর 'রেত সমাধি' অনুবাদ করাটা মোটেও সহজ ছিল না। গীতাঞ্জলির সোজাসাপ্টা সওয়াল, 'প্রতিটা বই সহজপাঠ্য হতে হবে, তার কি কোনও মানে আছে? আমি ভাষার শ্রুতিতে বিশ্বাস করি। ভাষা শুধু গল্পের বাহক নয়, আমি ভাষার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসী। সেটা সব সময়ে সহজ নিঃশ্বাস হতে যাবে কেন! মজার নিঃশ্বাস, অন্য রকমের নিঃশ্বাসও আমরা নিই। সেটা অনিয়ন্ত্রিত নিঃশ্বাস না হলেই হলো। আমি বিশ্বাস করি, ভাষার নিজস্ব উপস্থিতি, স্বাধীন ব্যক্তিত্ব আছে।' তাই বোধহয় তাঁর উপন্যাসের কয়েকটি অধ্যায় শেষ হয়েছে একটিই মাত্র বাক্যে। কিছু অধ্যায়ে আবার একটি বাক্যেরই সম্প্রসারণ হয়েছে তিন পাতা জুড়ে। পাঁচটি উপন্যাস এবং অসংখ্য ছোটগল্পের রচয়িতা গীতাঞ্জলির প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৮০-তে, জনপ্রিয় হিন্দি পত্রিকা 'হংস'-এ। লেখার ক্ষেত্রে বরাবরই 'শান্তি' এবং 'নিঃস্তব্ধতায়' বিশ্বাসী গীতাঞ্জলি সদ্য শেষ করেছেন তাঁর ষষ্ঠ উপন্যাস 'শাহ-সা'। এখনও এই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি তিনি প্রকাশককে পাঠাননি। কারণ কী! গীতাঞ্জলির কথায়, 'কোভিডকালে এটা উচিত বলে মনে হয়েনি। সত্যিই আগামী আছে কি? পৃথিবী কি সত্যিই নিজেকে পুনরুদ্ধার করবে, নাকি আমরা শেষের পথে যাচ্ছি। উত্তরটা পাওয়ার পরই আমি পাণ্ডুলিপিটা প্রকাশকের কাছে পাঠাব।' এহেন 'অনন্য' নারীর জন্যই ফের সাহিত্যে বিশ্বজয় ভারতের। কবিগুরুর নোবেলজয়ী সাহিত্যসৃষ্টির সমনামীরও!


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/ICWBHPo
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads