স্বাস্থ্যসাথী সিঙ্গল কার্ডে অনিয়মে বিপাকে সিঙ্গলরা https://ift.tt/BCJgAzm - MAS News bengali

স্বাস্থ্যসাথী সিঙ্গল কার্ডে অনিয়মে বিপাকে সিঙ্গলরা https://ift.tt/BCJgAzm

তাপস প্রামাণিক স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে () 'সিঙ্গল' কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সিঙ্গল কার্ড মানে যাঁর নামে দেওয়া হচ্ছে, তিনি একা, তাঁর পরিবার বলতে কিছু নেই, কেউ নেই। কিন্তু এমন বহু সিঙ্গল কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর তার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত পেয়েছে। ফলে, সিঙ্গল কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা নিতে হবে বলে পরিষ্কার জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই সিঙ্গল কি না, সেই ব্যাপারে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত কোনও সিঙ্গল আবেদনকারীর নাম নথিভুক্ত করা হবে না। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আবেদনকারীর ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে ভালো ভাবে খোঁজ নেবেন। কিন্তু এর ফলে আবার সমস্যায় পড়েছেন সত্যিকার 'সিঙ্গল' আবেদনকারীদের অনেকে- যাঁরা সত্যিই একা, কোনও পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নন। কেবল গ্রামেগঞ্জে নয়, খাস কলকাতাতেও ওই সমস্যা দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে। কলকাতা পুর এলাকার ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিতা কর মজুমদার বলছেন, 'আমার ওয়ার্ডে চার জন সিঙ্গল আছেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করানোর জন্য তাঁরা আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু দুয়ারে সরকারের শিবিরে তাঁরা ওই প্রকল্পে কার্ড পেতে আবেদনই করতে পারেননি। ওঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেই নাকি সিঙ্গলদের নাম কেটে দিচ্ছে।' অনিতার বক্তব্য, 'আমি খোঁজ নিতে গেলে আমাকে বলা হলো, আমি যেন আমার পরিবারের মধ্যে ওঁদের নামগুলিও যুক্ত করে নিই। কিন্তু আমি ক'জনকে আমার পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখাব?' স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম মঙ্গলবার বলেন, 'স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের গাইডলাইন অনুযায়ী, কেবল পরিবারকেই বিমা দেওয়ার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোনও পরিবারের সদস্য হয়েও অনেকে আলাদা ভাবে সিঙ্গল কার্ডের জন্য আবেদন করছেন। এ ক্ষেত্রে সত্যি-মিথ্যে বুঝতে আমাদের প্রবল সমস্যা হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভালো করে খতিয়ে দেখে তবেই সিঙ্গল কার্ড দেওয়া হবে।' স্বাস্থ্যসাথী পোর্টালে নথিভুক্ত মোট ১০ লক্ষ আবেদনকারী নিজেদেরকে 'সিঙ্গল' বলে দাবি করেছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, অনিয়মে কার্ডের সংখ্যা অনর্থক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে খরচের বহর। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রেরই খবর, একবার অনিয়ম ধরা পড়ায় ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হওয়ার পর এবং সত্যি-মিথ্যে বুঝতে সমস্যা হওয়ায় ভালো করে খতিয়ে দেখার মধ্যেই যাচ্ছেন না নিচু তলার সরকারি কর্মী বা অফিসাররা। সিঙ্গল আবেদনকারী দেখলেই তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। গৃহ সহায়িকাকে নিয়ে কিছু দিন আগে দুয়ারে সরকার শিবিরে হাজির হয়েছিলেন দক্ষিণ শহরতলির ব্রহ্মপুরের অনির্বাণ চক্রবর্তী। কিন্তু অনির্বাণের বক্তব্য, সেখানে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা সাফ জানিয়েছেন, কোনও সিঙ্গল মানুষের নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে উপরতলার নিষেধ আছে। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী অনির্বাণের প্রশ্ন, 'মেয়েটির বাড়ি সুন্দরবনে। সত্যিই ওঁর না-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। তা হলে কী হবে?' রাজ্যের এক জনও যাতে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না-হন, সেই জন্য স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya sathi) প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ()। নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির গৃহকর্ত্রীর নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়ার কথা। ওই একটি কার্ডে পরিবারের বাকি সদস্যদের নামও যোগ করা থাকে। সেই কার্ড দেখিয়ে ওই পরিবারের যে কোনও সদস্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ নিতে পারেন। এক-একটি পরিবার বছরে সর্বাধিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধে পান স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহু ক্ষেত্রে এক-একটি পরিবারের নামে একাধিক স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হয়েছে। কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধে পাওয়ার যোগ্য বলে যে সব পরিবার বিবেচিত হবে, তাতে সুবিধেভোগী পরিবার মাত্র এক জনের হওয়ার সম্ভাবনা বিরল। অথচ নিজেদের 'সিঙ্গল' বলে দাবি করেছেন নথিভুক্ত মোট ১০ লক্ষ আবেদনকারী। যদি দেখা যায়, কোনও সিঙ্গল আবেদনকারীকে কোনও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব, সে ক্ষেত্রে তাঁদের সিঙ্গল কার্ড ব্লক করা হবে।


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/DQf4XaW
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads