'যাঁরা কাজ করেছিল, তাঁদের দুর্নীতি ধরা হবে', 'সাবালকের' কাজে খোঁচা 'নাবালকের' https://ift.tt/3plaWtp - MAS News bengali

'যাঁরা কাজ করেছিল, তাঁদের দুর্নীতি ধরা হবে', 'সাবালকের' কাজে খোঁচা 'নাবালকের' https://ift.tt/3plaWtp

এই সময়, দিঘা ও বারুইপুর: ইয়াসের দাপটে পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নাম না-করে শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানা থেকে বাদ যাননি কাঁথির বর্ষীয়ান সাংসদ শিশির অধিকারীও। বুধবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ঝড়-বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। এর কিছুক্ষণের মধ্যে রাজভবন থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী 'নাবালক নেতা' বলে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেককে। সেদিন কিছু না বললেও বৃহস্পতিবার শুভেন্দুকে ইঙ্গিত করে 'সাবালক নেতা' বলে পাল্টা তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দেন যুব তৃণমূল নেতা। বলেন, 'সাবালকের ব্যর্থতা নাবালককে এসে দেখতে হচ্ছে। নাবালককে তো ক্যামেরার সামনে কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখা যায়নি। সাবালককে দেখা গিয়েছে। আপনি বরং সাবালকত্বের প্রমাণ দিন। আপনার কী অবস্থা তা জেলার মানুষ টের পাচ্ছে।' উল্টো দিকে, নদী বাঁধ ভাঙার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন শুভেন্দু। বারুইপুরে তিনি বলেছেন, 'রাজ্যে স্থায়ী বাঁধের পরিকল্পনা করাই হয়নি। সাইক্লোন বা কোটাল এলে ভেঙে গেলে কিছু লোক বসানো আছে তারা তখন কিছু কাজ করে দেয়। পরে আবার সেটা জলে তলিয়ে যায়।' বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ হেলিকপ্টারে রামনগরের আরএসএ ময়দান হেলিপ্যাডে নামেন অভিষেক। তার পর গাড়িতে করে সোজা চাঁদপুর, জলধা-সহ শঙ্করপুর লাগোয়া এলাকা পরিদর্শনে যান। হেঁটে স্থানীয় ত্রাণশিবিরে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। জানতে চান, 'আপনারা ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করছেন তো? খাবার পাওয়া যাচ্ছে?' স্থানীয়রা দাবি তোলেন, বাঁধ ঠিক করতে হবে। অভিষেক তাঁদের বলেন, 'সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন। যাঁরা কাজ করেছিল, তাঁদের দুর্নীতি ধরা হবে। পাশাপাশি নতুন করে কাজও শুরু হবে।' এর পর শিবির থেকে বেরিয়ে জলোচ্ছ্বাসে ধসে যাওয়া সমুদ্রবাঁধ ঘুরে দেখেন তিনি। রাস্তার পাশে কিছু গ্রামবাসী সাদা কাগজের ওপর লাল কালিতে লেখা 'বাঁধ চাই' পোস্টার নিয়ে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। জলধা গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন দোলই, চাঁদপুরের নিমাই জানা,গীতা দোলইরা ২৬ তারিখ কী ভাবে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকল সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁকে বলেন, 'বাঁধ ঠিক ভাবে তৈরি করা হলে ভাঙত না।' পরে সাংবাদিকদের অভিষেক বলেন, 'আমি এলাকা ঘুরে দেখে কথা বললাম। কষ্টের মধ্যে রয়েছে মানুষ। যারা বাঁধ তৈরির দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা এই পরিস্থিতির দায় অস্বীকার করতে পারেন না। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মানুষের জীবনের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছে। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এই রাস্তা দিঘা-শঙ্করপুর ডেভলপমেন্ট অথরিটির। এর চেয়ারম্যান কে ছিলেন আপনারা জানেন। গার্ডওয়ালগুলো হয়েছে, সেচ দপ্তরের দায়িত্বে কে ছিল তাও জানেন। একটা পরিবারকে বাঁচাতে গোটা জেলার সর্বনাশ করা হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, কেউ রেহাই পাবে না। চুরি ধরা পড়বেই।' এখানেই না-থেমে প্রাক্তন সেচমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেকের মন্তব্য, 'জেলার একজনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেচমন্ত্রী করেছিলেন। যাতে জেলার মানুষের কষ্ট তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছেন তিনি। নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে তিনি অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। মানুষের অর্থ সরিয়ে নিজের সম্পদ বাড়িয়েছেন। আমি বাক্‌রুদ্ধ।' এর উত্তরে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'আমরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হই তাহলে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের বাকি বিধায়ক, ভাইস চেয়ারম্যান-সহ সরকারি আমলারা সে দিন সবাই ঘুমোচ্ছিলেন নাকি! অভিষেকের বাণী তো অমৃত সমান। ভোটে মানুষ সব জবাব দিয়ে দিয়েছে। শুভেন্দু দুর্নীতি করেছে বলেই তো মুখ্যমন্ত্রী ওর কাছে হেরে গিয়েছেন।' ভোটের ফলাফলের আগে অধিকারী গড় হিসেবে পরিচিত ছিল তাজপুর-কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের রসুলপুর ও শ্যামপুরে ইসাস এলাকা। এদিন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ওই সব জায়গা পরিদর্শনের পর শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন অভিষেক। বলেন, 'উনি যদি কাজ করতে পারছিলেন না, তা হলে আগে সাংবাদিক বৈঠক করে ছেড়ে দিলেন না কেন? ২০১৬ সালে মন্ত্রী ছিলেন তখন ছাড়লেন না কেন, '১৭ সালে ছাড়লেন না কেন,'১৮ সালে '১৯ সালে ছাড়লেন না কেন? '২০-তে ছাড়তে হচ্ছে কেন? মানুষ সব বোঝে। আমরা দলগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব যাঁরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3uNYSSv
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads