আগে তো মানুষ, ঈদ ভুলে চন্দনের শ্মশানবন্ধু আবদুলরা https://ift.tt/3ynpTzk - MAS News bengali

আগে তো মানুষ, ঈদ ভুলে চন্দনের শ্মশানবন্ধু আবদুলরা https://ift.tt/3ynpTzk

এই সময়, পোলবা: সবার উপরে মানুষ সত্য... বন্ধু হিন্দু। তাই বন্ধুর বাবা মারা যাওয়ার খবরটা এল যখন, ওঁরা নিমেষে খুশির ঈদের উৎসব থামিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। করোনার ভয়ে নিজের গ্রামে কেউ সৎকারের কাজে হাত লাগাতে রাজি হননি। তাই পাশের গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারাই এগিয়ে এলেন ধর্মের তথাকথিত বেড়াজালকে সরিয়ে রেখে। বন্ধুর বাবাকে কাঁধে নিয়ে অন্তিম যাত্রায় হাজির হওয়ার পাশাপাশি দাহর কাজে সহযোগিতা করে মানবিকতাকে আগে রাখলেন ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো। আতঙ্ক, বিদ্বেষের মতো শব্দগুলোকে হেলায় হারিয়ে দিয়ে শুক্রবার এমনই সম্প্রীতির সাক্ষী থাকল বাংলা। শুক্রবার ঈদের নমাজ পড়ে পোলবা দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাবনান গ্রামে উৎসব পালন করছিলেন মোমরেজ আলি, শেখ আবদুল হাকিম, আমির হোসেন, সামসুদ্দিন, গোলাম সুবানিরা। এরই মধ্যে হঠাৎ খবর আসে, পাশের গ্রামের ৭২ বছরের হরেন্দ্রনাথ সাধুখাঁ ভোরে মারা গিয়েছেন। গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। করোনা পরীক্ষা করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ভয়ে হরেন্দ্রনাথের কোনও পাড়া-পড়শি মৃতের বাড়ির চৌকাঠে পা দেননি। একমাত্র ছেলে, পেশায় শিক্ষক চন্দন বাবার সৎকারের জন্য দিশেহারা হয়ে সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু তাতেও কেউ এগিয়ে আসেননি। বন্ধু চন্দনের এই অসহায়তার কথা শুনেই উৎসব শিকেয় তুলে পাশে দাঁড়াতে বেরিয়ে পড়েন মুসলিম প্রতিবেশীরা। করোনার ভয় উপেক্ষা করে হাজির হন মৃতের বাড়িতে। নিজেরা খাট বেঁধে, ফুল-মালায় সাজিয়ে খালি পায়ে দেহ তোলেন খাটে। চার ভিনধর্মী মানুষের কাঁধেই শেষ যাত্রায় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় হরেন্দ্রনাথকে। শ্মশানেও হাতে হাতে কাঠ এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে দাহ করার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিতৃহারা সন্তানের পাশে ছিলেন সামসুদ্দিন, আমির, হাকিমরা। শোকের মধ্যেও তাঁদের মুখে ছিল মাস্ক, মেনে চলেছেন শারীরিক দূরত্বও। দাহ শেষ হওয়ার পর চন্দনকে একেবারে বাড়িতে পৌঁছে নিজেদের গ্রামে ফেরেন 'শ্মশানবন্ধু'রা। মোমরেজ আলি বলছিলেন, 'বন্ধু চন্দনের বাবা অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। উনি মারা গিয়েছেন শুনেই আমরা ঈদের আনন্দ ভুলে ওঁকে শ্মশানে নিয়ে যাই। মানুষ আগে, উৎসব পরে।' সামসুদ্দিন জানান, 'চন্দন আমাদের ছোটবেলার বন্ধু। আমাদের এখানে জাতপাতের কোনও ব্যাপার নেই, আমরা-ওরার ভেদ নেই। দুর্গাপুজো-কালীপুজোয় আমরা অংশ নিই, আমাদের পরবে হিন্দুরাও আসেন। আমাদের কাছে আগে মানুষ, পরে ধর্ম।' মোমরেজ-সামসুদ্দিনকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা পাচ্ছিলেন না চন্দন। বাবাকে হারানোর শোককেও যেন ম্লান করেছে তাঁর বন্ধুদের মানবিকতা। বলছিলেন, 'প্রতিবেশীরা করোনার ভয়ে কেউ বাবার মৃতদেহের সৎকারে এগিয়ে আসেনি। কিন্তু আমার সংখ্যালঘু বন্ধুরা যে ভাবে এগিয়ে এলো, তাতে আমি অভিভূত। ওরা ঈদের আনন্দ ভুলে যে ভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে পিতৃহারা হওয়ার যন্ত্রণায় যেন কিছুটা মলম পড়েছে।' জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, শিক্ষক-নেতা মনোজ চক্রবর্তীও বলছিলেন, 'গ্রামে-শহরে মানুষ মানুষের পাশেই থাকবে- এটাই আমরা চাই। আজকের দিনে ধর্মীয় হানাহানির ঊর্ধে উঠে গ্রামের ছেলেরা মানবতার নজির গড়েছে। এটাই তো আমাদের ভারতবর্ষ।' সত্যিই তো- সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই!


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3buciw9
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads