ডোজের ব্যবধানে সায় বিজ্ঞানের, পদ্ধতি অস্বচ্ছ https://ift.tt/3oil6dA - MAS News bengali

ডোজের ব্যবধানে সায় বিজ্ঞানের, পদ্ধতি অস্বচ্ছ https://ift.tt/3oil6dA

অনির্বাণ ঘোষ ও সৌভিক ঘোষ নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের তত্ত্ব। কিন্তু কোভিশিল্ডের দুই ডোজের ব্যবধান বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এমন ভাবে বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ করে দিয়েছে যে, মানুষের মনে দানা বেঁধেছে সন্দেহ- তা হলে কি ভ্যাকসিনের জোগানে টান বলেই এমনটা করল কেন্দ্র! এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখে পড়ছে রঙ্গ-ব্যঙ্গও। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, স্বচ্ছতার অভাব আছে বলে এমনটা মনে হতেই পারে। কিন্তু একদিকে এই সিদ্ধান্তের পিছনে যেমন বিজ্ঞানের ভিত্তি আছে, তেমন এই সিদ্ধান্তে টিকাপ্রত্যাশী আমজনতার জন্যও আখেরে সব দিক থেকেই ভালো হলো। শুক্রবার ভারতের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখ্য মেডিক্যাল উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি-ও। তাঁর কথায়, 'কঠিন পরিস্থিতিতে যত বেশি সম্ভব মানুষকে টিকা দেওয়া যায়, সেই পন্থা বাছতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ানো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।' কেন এমনটা মনে করা হচ্ছে? চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ ১২ সপ্তাহে নিলে যে তার কার্যকারিতার (এফিকেসি) নিরিখে ভালো বই মন্দ হয় না, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। অর্থাৎ, নেপথ্যে যদি রাজনীতি থেকেও থাকে, তা হলেও আখেরে জয় বিজ্ঞানের। ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শান্তনু ত্রিপাঠী যেমন বলছেন, 'ভালোই হলো ব্যবধান বাড়িয়ে। কিন্তু ভ্যাকসিন অনটনের আগেই যদি সরকার এই কাজটাই করত এবং কারণটা স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষকে বোঝাত, যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা সর্বসমক্ষে তুলে ধরত, তা হলেই আর এই সন্দেহ জাগত না মানুষের মনে।' বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ তাই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য হন্যে হয়ে ঘোরা মানুষজন সাময়িক স্বস্তি পাবেন এই ভেবে যে, দেরি হলে ক্ষতি নেই, বরং ভালো। ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জোয়ারদারের কথায়, 'নয়া সিদ্ধান্তে উপরি পাওনা হলো, মাঝের এই তিন মাস সময়টায় আরও বেশি মানুষকে প্রথম ডোজের আওতায় আনা সম্ভব হবে।' অন্য দিকে তেমনই দেরিতে ভ্যাকসিন নিয়ে নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধটাও আরও শক্তপোক্ত হবে। কিন্তু এতে লাভ কী? শান্তনুর ব্যাখ্যা, 'মাঝের এই সময়কালে ১০ জনকে দুটো ডোজ না-দিয়ে, যদি ২০ জনকে প্রথম ডোজের আওতায় নিয়ে চলে আসা যায়, তা হলে ওই ২০ জনের শরীরে কিছুটা হলেও ইমিউনিটি গড়ে উঠবে করোনার বিরুদ্ধে। সার্বিক ভাবে দেশের জন্য তা বেশি ভালো।' তিনি জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, ১২ সপ্তাহের মাথায় কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজের প্রভাবে সর্বোচ্চ ইমিউনিটি পাওয়া যায়। অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম গবেষণায় তৈরি এই ভ্যাক্সিন চ্যাডক্স-১ নামে ব্যবহার হয় ব্রিটেনে। তার ক্ষেত্রেও ১২ সপ্তাহের মাথাতেই সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা গিয়েছে। যেহেতু তার চেয়ে বেশি দিনের স্টাডি আর হয়নি, তাই ১২ সপ্তাহকেই সীমা ধরে নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিলে যে সবচেয়ে ভালো, তা পরিষ্কার।' সঙ্গে তিনি এ-ও বলছেন যে, '১৬ সপ্তাহ ব্যবধানের পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ নেই বটে। কিন্তু সাধারণ বিজ্ঞানবোধ বলে, প্রথম ডোজের সৌজন্যে মেলা ইমিউনিটি ১২ সপ্তাহের পর থেকে পরবর্তী চার সপ্তাহে এমন কিছু কমে যাবে না, যার জেরে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে এই সময়কালে দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নিলে আরও জোরদার সুরক্ষাকবচ মেলে।' এই ব্যাখ্যা দিয়েও শান্তনু মনে করছেন, সরকার নিজে থেকেই দেরিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নিজে হাতেই। সিদ্ধার্থও তাঁর সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, 'মার্চের গোড়ায় ল্যান্সেটে প্রকাশিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্টে যখন দেখা গেল, চার সপ্তাহের বদলে ১২ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিলে ৫৫% নয়, ৮১% কার্যকারিতা হয় ভ্যাকসিনের, তখনই তো এই ব্যবধান ১২ সপ্তাহের করে দিতে পারত সরকার। তা না-করে ২২ মার্চের নির্দেশিকায় শুধু শুধু ৬-৮ সপ্তাহের ব্যবধান কেন যে সরকার ধার্য করল!' এঁদের সঙ্গে সহমত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ গণেশকুমার পাণ্ডেও। তাঁর বক্তব্য, 'সরকার যদি সৎ ভাবেও বলত যে, বৈজ্ঞানিক কারণের পাশাপাশি অনটনের কারণেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা হলে অন্তত তাদের মুখ পুড়ত না। আসলে সমস্যাটা স্বচ্ছতার। আর বিজ্ঞানে অস্বচ্ছতা চলে না।' যদিও কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করে দেওয়ায় যে আখেরে ভালোই হল, সে ব্যাপারে একমত তিনিও।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2SNjvRr
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads