Ajker Khobor
Bangla News
Bengali News
Latest Bengali News - Ei Samay
বাংলা খবর
from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/NEldTgW
আধ্যাত্মিকতা আর জঙ্গলকে চিনেই আমাজন-মিরাকল, রসদ ঠাকুমার গল্প https://ift.tt/mTcU0wf
বোগোটা: মিরাকল-মিরাকল-মিরাকল-মিরাকল - শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটের সময় সেনার রেডিয়ো আমাজ়নের সুগভীর নিস্তব্ধতাকে চিরে বেজে উঠেছিল। কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন ১৫০ সেনাকর্মী ও প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। তার মানে তো...? হ্যাঁ, ওই চার ভাইবোনকে পাওয়া গেছে। পাওয়া শুধু যায়নি, অক্ষত অবস্থায় তারা রয়েছে। ওরা মানে চার জন 'মিরাকল কিডস', যারা ৪০ দিন আগে প্লেন দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই এই চার খুদের হদিশ মিলেছিল, যাদের বয়স ১৩ বছর, ৯ বছর, ৪ বছর ও ১১ মাস। ঘোর কাটতেই বাচ্চাদের কাছে পৌঁছে যান উদ্ধারকারীদের অনেকেই। তাদের অক্ষত শরীরে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছিলেন সকলেই। ওদের কাছে সকলের আগে যেই সেনাকর্মী ও ইনডিজেনাস (মূলবাসী) নেতা আকোস্তা পৌঁছেছিলেন, তাঁদের দেখে ১৩ বছরের কিশোরী বলেছিল, 'ওই দেখো, উইলসন। ও-ও আমাদের মতো হারিয়ে গেছিল। দেখো, কেমন হাড় জিরজিরে চেহারা হয়েছে!' ঘাড় ঘুরিয়ে তাঁরা দেখেছিলেন, একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে এক বেলজিয়ান শেফার্ড। লেজ নাড়ছে তাঁদের দেখে। এই ঘোর বিপদ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এত দিন কাটানোর পরেও সদ্য কিশোরীর সবার আগে মনে হয়েছে কুকুরের কথা। অবাক হয়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছিল সেনার হারিয়ে যাওয়া স্নিফার ডগ উইলসকে ফের খুঁজে পেয়ে।কিন্তু কেমন করে ওরা বেঁচে রইল ৪০টা দিন? উদ্ধারকারী দলের এক মূলবাসী নেতার কথায়, 'আধ্যাত্মিক শক্তি ও জঙ্গলের গাছপালা চেনার জোরেই ওরা নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে।' বিষয়টা ঠিক কেমন? ১৩ বছরের জাকোবম্বেয়ার মুকুতাই যা জানিয়েছে, তার মোদ্দা কথা হলো ওরা প্রথম দিকে কাসাভা ও ফারিনার আটা খেত। ওই আটা প্লেনে ওদের সঙ্গেই ছিল, তাই সেটা ভেঙে পড়লেও কিছু খাবারদাবার ওরা ওখানে খুঁজে পেয়েছিল, সেগুলো খেয়ে প্রথম দিন কয়েক চলেছিল। তার পর অবশ্য এই চার ভাই-বোনকে খাবার খুঁজতে হয়েছিল। উদ্ধারকারী এক সেনাকর্মী বলছেন, 'জাকোম্বেয়ার বলছিল, ওদের ঠাকুমা ওদের নানা গল্প বলতেন। তার মধ্যে প্রকৃতির অনেক গল্প থাকত। কারণ প্রকৃতিকেই ওরা পুজো করে। পাহাড়-জঙ্গলের কাছে প্রার্থনা করে। ১৩-র কিশোরীর এই ঘন জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে প্রথমেই মনে হয়েছিল তারা আসলে ঈশ্বরের আশ্রয়েই আছে! তাই ভয় পায়নি।' ন্যাশনাল ইনডিজেনাস অর্গানাইজেশন অফ কলোম্বিয়ার সদস্য আকোস্তা, যিনি উদ্ধারকারী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, বলেন, 'আসলে আমাজ়নের আশেপাশে যত মূলবাসী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই মনে করে কোনও এক আধ্যাত্মিক শক্তি তাদের সহায়, সেটাই তাদের উজ্জীবিত করে। এই বাচ্চারা তার বাইরে ভেবেছে বলে মনে হয় না।' আকোস্তা মনে করছেন, এখন যে মিলিটারি হাসপাতালে বাচ্চাদের চিকিৎসা চলছে সেখানেও বাচ্চাদের পরিবারের বা মূলবাসী নেতাদের দু'একজনের থাকা উচিত। কারণ সেটা না করলে 'সভ্য সমাজ'কে ওই বাচ্চারা তাদের 'স্পিরিচুয়াল ফোর্স' সম্পর্কে বোঝাতে পারবে না। তিনি মনে করছেন, ওই শিশুদের যদি কোনও ট্রমা হয়ে থাকে, তা হলে এই অধ্যাত্মবাদ তা কাটাতে সাহায্য করবে, যেটা ডাক্তারদের জানা দরকার। আর এক মূলবাসী গোষ্ঠীর প্রধানের কথায়, 'আমরা সবাই প্রকৃতির কোলেই বড় হই। জীবনধারণের জন্য জঙ্গলে আমাদের নিত্য যাতায়াত। তাই ছোটবেলা থেকেই মোটামুটি সকলে জেনে যায় জঙ্গলে কী করা যায়, আর কী করা যায় না।' তাঁর সংযোজন, 'কোন গাছের ফল, পাতা, শিকড়, ফুল, কাণ্ড ইত্যাদি খাওয়া যায়, কী ভাবে হিংস্র পশুর সামনে পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেকে বাঁচাতে হয় - এ সব কিছুই বলা যায় আমাদের জানা। তাই ছোট দু'জন না বুঝলেও ১৩ ও ৯ বছরের বাচ্চা দু'টির এই সম্পর্কে ভালোই ধারণা থাকবে। সেটাই ওরা কাজে লাগিয়েছে।'কী ভাবে এতটা নিশ্চিত হচ্ছেন মূলবাসী বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা?আকোস্তা বলছেন, 'আমরা যখন থেকে উদ্ধারে নামলাম তার ৮ দিন আগে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো আমাদের ডেকে বলেছিলেন, আপনাদেরও এই সার্চ অপারেশনে যেতে হবে। সেনা একা পারবে না। কারণ জঙ্গলের চরিত্র বোঝা, বাচ্চাদের ভাষা জানা, মূলবাসীদের চিরাচরিত বিশ্বাস ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। সে জন্য আপনাদের প্রয়োজন। আমরা সম্মতি জানাতে দেরি করিনি।' এরপরেই সেনারা অপারেশনাল ডিটেলস ছকে ফেলেন, আর এই নেতারা অভিযানে যাওয়ার আগে রীতি মেনে জঙ্গলের অধিবাসী 'আত্মাকে' তুষ্ট করতে মাম্বে (কোকা পাতা ও ছাই দিয়ে বানানো একটা পেস্ট) ও চিরিনচি (ফার্মেন্টেড ড্রিঙ্ক) উৎসর্গ করেন। তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই কাজে যদি কোনও ত্রুটি না থাকে তা হলে যে কাজে যাওয়া হচ্ছে তাতে সাফল্য আসবেই! জঙ্গলে ঢোকার পর অনেক গাছই উদ্ধারকারীদের কাটতে হয়েছে। সেই কাটা গাছের উপর তারা স্প্রে দিয়ে পেন্ট করে দিতেন, যাতে বাচ্চারা নিজেরা যদি বেরিয়ে আসে তা হলে পথ হারিয়ে না ফেলে। এ ছাড়াও মূলবাসীদের গাছগাছালির ঔষধি গুণ সম্পর্কে জ্ঞান অগাধ। কাটা-ছেঁড়া-ব্যথা-বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড় ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন ভেষজ উপাদান কাজে দেবে, তা তাঁরা জানেন। সেটা উদ্ধারকারী দলের জন্য বিরাট সহায় হয়েছিল।সব থেকে বড় কথা, আমাজ়নের আশেপাশে অগুনতি ইনডিজেনাস গ্রুপ রয়েছে। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক তলানিতে। অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একজন আর একজনের উপর। তাই তাঁরা যখন অস্ত্র ফেলে রেখে প্রেসিডেন্টের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে এল উদ্ধারে, তখনই একটা বড় লড়াই জেতা হয়ে গিয়েছিল। বাকিটা ছিল সময়ের অপেক্ষা - ছোট ছোট পায়ের ছাপ খুঁজে, বাচ্চাদের ঠাকুমার কণ্ঠস্বরের অডিয়ো শুনিয়ে উদ্ধারকাজ চলেছে ... ভার্জিন আমাজ়নের ভিতর আটকে পরা চারটি প্রাণ প্রমাণ করে দিয়েছে, শিশুরাই পারে দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে এক করতে। তাই ঠাকুরদাদার কাছে যারা 'চিলড্রেন অফ দ্য বুশ', দেশের প্রেসিডেন্টের কাছে তারাই 'চিলড্রেন অফ দ্য কান্ট্রি!'
from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/NEldTgW
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment