Ajker Khobor
Bangla News
Bengali News
Latest Bengali News - Ei Samay
বাংলা খবর
from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/Yk8eMPx
৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ছেলে, উদযাপন মা-বাবার https://ift.tt/Hm1Uqvx
এই সময়: নম্বরই যে জীবনের শেষ কথা, তা নানা ভাবে মনে করিয়ে দেওয়াটা দস্তুর। তাই ক্লাস টেন বা টুয়েলভের পরীক্ষায় যদি কেউ কম নম্বর পায়, তা হলে 'গেল গেল' করে তার জীবন এতটাই দুর্বিষহ করে তোলেন তারই আত্মীয়-পরিজন যে অনেক সময়েই সে বেছে নেয় আত্মহত্যার রাস্তা। কখনও বা এতটাই গভীর মানসিক অবসাদে চলে যায় যে নিজেকে সমাজের মাপকাঠিতে বেমানান মনে হয়। কিন্তু সেখান থেকে যেন একমুঠো রোদ্দুর মুম্বইয়ের এই পরিবার। তাদের ছেলে এ বছর রাজ্য বোর্ডের ক্লাস টেনের পরীক্ষা পাশ করেছে, 'মাত্র' ৩৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে। কিন্তু তা নিয়ে সেই কিশোরকে কোনও বকাঝকা তো করেননিই তার মা-বাবা, বরং তার উদযাপন করেছেন! সেই ভিডিয়ো নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন ছত্তিসগড়ের আইএএস অফিসার অবনীশ শরণ। সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, 'মুম্বইয়ের এই ছেলে ৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ক্লাস টেনে। তার মা-বাবা রেগেও যাননি, দুঃখও পাননি। বরং তা ছেলেকে নিয়েই সেলিব্রেট করেছেন।' অবনীশের শেয়ার করা এই ভিডিয়ো বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, দু'টি মোবাইলের একটিতে তাঁরা ছেলের মার্কশিট দেখাচ্ছেন। অন্যটার স্ক্রিনে ৩৫ শতাংশ জ্বলজ্বল করছে। স্বাভাবিক ভাবেই এটি একজন আইএএস অফিসার শেয়ার করেছেন বলে অনেকেই বাড়তি উৎসাহ পেয়েছেন। নেটিজেনদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, 'একটা পরীক্ষায় কম পারসেন্টেজই জীবনের সব কিছু নয়। অনেক পথ চলা বাকি এখনও।' আবার এক জন বলেছেন, 'আমি ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়েছি। কিন্তু মনখারাপ ছিল। স্যর, আপনার এই ভিডিয়ো মন ভালো করে দিল।' আসলে যেখানে এখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে ভর্তির জন্য কাট অফ মার্কস থাকে ৯৮-১০০ শতাংশ, দেশের অন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির জন্যও অন্তত ৮৫-৯০ শতাংশ নম্বর পেতেই হয়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বসতে হয় প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও, সেখানে ৩৫ শতাংশে উদযাপন সত্যিই চমকপ্রদ ব্যাপার। তবে অবনীশের সঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত, তাঁরা জানেন তিনি এই ধরনের খবর/ভিডিয়ো শেয়ার করে তরুণদের এগিয়ে চলার শক্তি জোগান। ২০২২ সালে তিনি নিজের মার্কশিটই শেয়ার করে বলেছিলেন, 'ক্লাস টেনে ৪৪.৭%, ১২-এ ৬৫% ও গ্র্যাজুয়েশনে ৬০% পেয়েছি। সিডিএস ও সিপিএফে ফেল। রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রিলিমসে ১০ বারের বেশি ফেল। কেন্দ্রের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমবার ইন্টারভিউয়ে পৌঁছয়ই, দ্বিতীয়বার ৭৭ র্যাঙ্ক করি।' তাই এ দিনের ভিডিয়ো শেয়ার করে যে তিনি 'নম্বর কোনও বাধা নয়' সে বার্তাই দিতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট। তবে তিনি নিজে ভিডিয়োটির বিষয় ছাড়া আর কোনও মন্তব্য করেননি। বর্তমানে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যে একেবারেই নম্বরকেন্দ্রিক, তা নানা ভাবেই সামনে এসেছে। রাজস্থানের কোটাতে প্রত্যাশার চাপ পূরণ করতে না পারার ভয়ে অনেক পড়ুয়াই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সম্প্রতি এক আত্মঘাতী ছাত্রী তাঁর সুইসাইড নোটে লিখেছিলেন, 'মা, আমি তোমার ও বাবার মনের মতো নম্বর পাইনি। নিটেও পাশ করব না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।' অন্য আর এক ছাত্র নিজেকে চূড়ান্ত পরিণতির মুখে ঠেলে দেওয়ার আগে লিখেছিল, 'নিজের কাছে হেরে গেলাম। পারলাম না। আমি অনেক চেষ্টা করেও ক্লাস ১২-এ পাশ করতে পারিনি। চললাম।' তাই মনোবিদ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা সকলেই মনে করেন, মা-বাবার সন্তানের পাশে থাকা খুব জরুরি। খারাপ ফল হলেও যাতে সে ভেঙে না পড়ে বা কোনও চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফেলে, সে জন্য অভিভাবকদেরই সতর্ক হতে হবে। কিন্তু তা যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় না, তা বিভিন্ন পরীক্ষার আগে ও পরে যে সংখ্যক পড়ুয়ারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। একটা পরীক্ষায় খারাপ নম্বর পাওয়া, প্রথম বারেই পাশ করতে না পারা বা মাঝারি মানের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ তা হলে কী হবে, এমনই প্রশ্ন ছিল কয়েক জন আমলার কাছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খণ্ডবহালে উমেশ গণপত যেমন নিজেই ক্লাস টুয়েলভে পাশ করতে পারেননি। পরে মনের জোরে ও বন্ধুদের উৎসাহে পড়াশোনা করে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (সিভিল সার্ভিস)-এ পাশ করে আইপিএস হয়েছেন। তিনি তাই নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'বোর্ড পরীক্ষা একজন পড়ুয়ার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য জরুরি হলো নম্বর। তাই তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কিন্তু তা বলে শুধু সেটা দিয়েই একজন পড়ুয়ার দক্ষতা বা কোয়ালিটি দেখা উচিত নয়। অনেক পড়ুয়াই বোর্ডের পরীক্ষায় ভালো ফল না করেও পরবর্তীতে সাফল্য পেয়েছেন।' আইআইএম আমেদাবাদের প্রাক্তনী পূর্ব বর্ধমানের এসপি কামনাশিস সেন মনে করেন, 'একটা পরীক্ষা জীবনের মেক অর ব্রেক হতে পারে না। তাই প্রবল গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই।' একই সুর বাংলায় কর্মরত আর এক আইপিএস অফিসারের গলাতেও। তাঁর কথায়, 'অনেক কিছু আছে যা বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই হয় না। তাই ক্লাস ১০-১২ এর পরীক্ষা একটা মাইলফলক হলেও সেটাই সব নয়। অনেক কিছুই নির্ভর করে পরবর্তীতে সে কতটা পরিশ্রম করছে।' এই আমলা বাংলা থেকেই পাশ করছিলেন ইউপিএসসি ও সে বছর রাজ্যে প্রথম হয়েছিলেন। তবে সহমত নন অন্য এক অফিসার। তাঁর সাফ কথা, 'কম নম্বর পেয়ে ১০০ জনে হয়তো ২ জন সফল হন, কারণ তিনি সেই ধাক্কা খেয়ে উপলব্ধি করতে পারেন যে তাঁর মনযোগী হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এটার সরলীকরণ করা উচিত নয়। পড়াশোনা প্রথম থেকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করা উচিত ও প্রতি ক্ষেত্রেই নিজের সেরাটা পেতে চেষ্টা করতে হবে, তা হলেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।' তবে সকলেই যে কথা বলছেন, তা হলো 'ব্যর্থতা সাফল্যেরই সিঁড়ি। তাই একটু মনযোগ ও পরিশ্রমে অনেক দূর চলা যায়।'
from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/Yk8eMPx
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment