ভুল ইনপুটে তুলে চার ঘণ্টা থানায় 'ধমক' নির্দোষকে https://ift.tt/34ziTYI - MAS News bengali

ভুল ইনপুটে তুলে চার ঘণ্টা থানায় 'ধমক' নির্দোষকে https://ift.tt/34ziTYI

সোমনাথ মণ্ডলরাত দেড়টা। হঠাৎ দরজায় সজোরে ধাক্কা। বাইরে বেশ কয়েকজনের তারস্বরে চিৎকার, 'দরজা খোল। না হলে ভেঙে দেবো। আর কতদিন লুকিয়ে থাকবি!' ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠে দরজা খুলতেই এক ঝটকায় ধাক্কা গৃহকর্তাকে। এর পর ঘর লন্ডভন্ড করে চলে তল্লাশি। মোবাইল-ল্যাপটপ-কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে বেলঘরিয়া থানায় ওই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যায় ওডিশা পুলিশ। ঘণ্টা চারেক বসিয়ে রেখে ২০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে চলে ধমক-চমকও। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় মধ্যরাতে বেলঘরিয়া থেকে যে ব্যক্তিকে থানায় তুলে আনা হলো, পরে জানা যায় তিনি নাকি আসল অভিযুক্তই নন। যে ব্যক্তিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তাঁর সঙ্গে শুধু ওই ব্যক্তির নামের মিল রয়েছে! এটাই তাঁর 'দোষ'! 'ভুল' বুঝে ওই ব্যক্তিকে বাড়িও ফিরিয়ে দিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু মাঝরাতে এভাবে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ায় যে সামাজিক সম্মান নষ্ট হলো, তা কে ফেরাবে- এই প্রশ্ন তুলে এখন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের চিঠি দিয়েছেন সুতনু সরকার নামে ওই ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রের খবর, টানা জেরার পরে গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার মুহূর্তে জন্মের তারিখ, বাবার নাম মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে ভুল। পেশায় বিমা এজেন্ট সুতনু রবিবার বলেন, 'আমি দোষী নই। অথচ মধ্যরাতে যে ভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গেল, তাতে আমার সামাজিক সম্মানহানি হলো। তার খেসারত কে দেবে? কার ভুল? রাজ্য পুলিশই বা সবকিছু খতিয়ে না-দেখে ওডিশা পুলিশকে কী ভাবে সাহায্য করল?' সুতনু ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি থেকে শুরু করে ওডিশা পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ে ই-মেল করে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসেও ই-মেল করে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। আইনি লড়াইয়ে যেতেও প্রস্তুত তিনি। সুতনু ইমেলে জানিয়েছেন, ওডিশা পুলিশ লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখার সাহায্য নিয়েছিল। সেখান থেকে ব্যারাকপুরের ডিসিপি-র কাছে বিষয়টি পৌঁছয়। শেষে বেলঘরিয়া থানার আইসি ওডিশা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গত ৪ জুন মধ্যরাতে সুতনুর বাড়িতে হানা দেন। সুতানুর বক্তব্য, 'ওডিশা পুলিশ দু'টো মোবাইল নম্বর পেয়েছিল। একটির টাওয়ার লোকেশন পায় দিঘায়, অন্যটি বেলঘরিয়ায়। যেটি আমার কাছে ছিল। গোলমালের পর ওডিশা পুলিশ ভুল স্বীকার করেছেন। বেলঘরিয়া থানাও বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।' এ বিষয়ে লালবাজারের এক পুলিশ কর্তা বলেন, 'ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ আমাদের কাছে এলে সাহায্য করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় লালবাজারের ভূমিকা নেই।' ব্যারাকপুর পুলিশের দাবি, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদিও ওডিশার বালেশ্বরের এসডিপিও দিলীপ সাহু এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ফোন করেন সুতনুকে।


from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/p16xKzQ
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads