পড়শির ঘরে রাশি রাশি টাকা, রাতের ঘুম উড়েছে আবাসনে https://ift.tt/lTtipVZ - MAS News bengali

পড়শির ঘরে রাশি রাশি টাকা, রাতের ঘুম উড়েছে আবাসনে https://ift.tt/lTtipVZ

এই সময়: হরিদেবপুরে ২২ কোটি, বেলঘরিয়ায় () ২৮ কোটি। সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার হিসেব ধরলে ৫০ কোটি পার! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের () ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) দু'টি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল নগদ-ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত শুক্রবার হরিদেবপুরের পরে বুধবার রাতভর বেলঘরিয়ার ক্লাব টাউন হাইটস আবাসনে অর্পিতার ফ্ল্যাটে চলে তল্লাশি। বেডরুম তো বটেই, সেখানকার বাথরুমেও মিলেছে টাকার বান্ডিল। আরও টাকা-গয়নার সন্ধানে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চলে বেলঘরিয়ার আরও একটি ফ্ল্যাটে। তদন্তকারীরা যান চিনার পার্ক এবং নয়াবাদের দু'টি ঠিকানাতেও। শুধু তা-ই নয়, এদিন সন্ধেয় ফের ক্লাব টাউন হাইটসে যান ইডির চার অফিসার। গন্তব্য ছিল ২ নম্বর ব্লকের ৮সি ফ্ল্যাট, বর্তমানে যেখানে থাকেন ব্যাঙ্ককর্মী শুভজিৎ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন ইডির আধিকারিকেরা। জানা গিয়েছে, এই ফ্ল্যাটটির মালিক অসীম সরকার। শুভজিৎ ভাড়াটে। ইডি সূত্রের খবর, অর্পিতার একটি নথিতে এই ফ্ল্যাটটির উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। এর আগে ব্যাঙ্ক থেকে ন'টি টাকা গোনার অত্যাধুনিক মেশিন এনে লাগাতার ২০ ঘণ্টা তল্লাশির পরে বেলঘরিয়ায় অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে ইডি উদ্ধার করে মোট ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। পাওয়া যায় ৪ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা মূল্যের অলঙ্কারও। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আটটি ট্রাঙ্কে টাকা-গয়না ভরে ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরোন ইডির অফিসার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডির তরফে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া টাকার সবটাই পাঁচশো ও দু'হাজার টাকার নোটে। এক একটি মোটা খামের বান্ডিলে দু'হাজার টাকার নোটে ৫০ লক্ষ টাকা এবং পাঁচশো টাকার নোটে ২০ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছিল। গয়নার মধ্যে এক কেজি ওজনের তিনটি সোনার বার, পাঁচশো গ্রাম ওজনের ছ'টি কঙ্গন, আরও কিছু গয়না, একটি সোনার কলম মিলেছে। আবাসন কমিটির কর্তা অঙ্কিত চুরোরিয়াকে নিয়ে অভিযান চালানোর সময়ে বেডরুমে ব্যাগ, ওয়ার্ডরোব থেকে রাশি রাশি টাকার হদিশ মেলে। এ দিন অঙ্কিত জানান, বাথরুমের দেওয়ালের একটি অংশ দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। আপাতদৃষ্টিতে সেটিকে দেওয়াল বলেই মনে হবে। কিন্তু সেখানে টোকা মেরেই অফিসাররা বুঝতে পারেন, আড়ালে ক্যাবিনেট করা আছে। সেটি ভাঙতেও মেলে টাকার বান্ডিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে চিনার পার্কের একটি ফ্ল্যাটে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। পূর্ব যাদবপুরেও একটি ঠিকানায় হানা দেয় আর একটি টিম। রাত পর্যন্ত দু'টি জায়গাতেই তল্লাশি চলে। বুধবার রাত থেকে কসবায় 'ইচ্ছে এন্টারটেনমেন্ট' নামে একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালায় ইডি। সেখান থেকে কোনও টাকা না-মিললেও প্রচুর নথি উদ্ধার হয়। এখনও পর্যন্ত যে সব নথি ও দলিল পেয়েছেন তদন্তকারীরা, তাতে নয়াবাদ, মাদুরদহ, ঠাকুরপুকুর-সহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে। সেগুলি কার নামে রয়েছে, কবে সেই সব সম্পত্তি কেনা হয়েছে, তার সঙ্গে এসএসসি দুর্নীতির কোনও যোগ রয়েছে কি না - সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের হেফাজতে থাকা এবং অর্পিতাকে বিভিন্ন নথির ভিত্তিতে কখনও আলাদা ভাবে, কখনও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অর্পিতা টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একসময়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও সূত্রের খবর। দাবি করেন, তাঁর দু'টি ফ্ল্যাট থেকে বিপুল নগদ মিললেও, এর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে সেটা বিশ্বাস করছেন না তদন্তকারীরা। এ দিন বাগুইআটি থানা এলাকায় চিনার পার্কের আটঘরায় 'রয়্যাল রেসিডেন্সি' নামে একটি অভিজাত আবাসনে অভিযান চালায় ইডি। বি ব্লকে অর্পিতার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তল্লাশি চলে। তালা ভাঙতে আনা হয় বিশেষজ্ঞদের। তবে ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ সংযোগ না-থাকায় অন্ধকারে বেগ পেতে হয় আধিকারিকদের। ২০১৯-এর মাঝামাঝি সময়ে ৯১২ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাটটি কেনেন অর্পিতা। প্রতি স্কোয়ার ফিটের দাম পড়েছিল ৩৮০০ টাকা। আবাসনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শ্যামচন্দ্র পোদ্দারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, নিউ টাউনের এই ফ্ল্যাট কেনার পর থেকে কারও যাতায়াত ছিল না। মেনটেন্যান্স বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। এদিন সন্ধে সাড়ে সাতটার কিছু পরে ফ্ল্যাটটি সিল করে বেরিয়ে যান ইডির আধিকারিকেরা। তদন্তকারীদের আতসকাচে রয়েছে কসবার রাজডাঙায় অবস্থিত 'ইচ্ছে এন্টারটেনমেন্ট'ও। পার্থর বাড়ি থেকে উদ্ধার দলিলে এই সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে অর্পিতার সঙ্গেই নাম ছিল কল্যাণ দর নামে এক ব্যক্তির। অর্পিতা আবার সম্পর্কে তাঁর শ্যালিকা। অর্পিতার সংস্থায় গাড়িও চালাতেন কল্যাণ। ঘটনা হলো, ২২ জুলাই ইডির হানার আগে বেলঘরিয়ার আবাসনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানকার রেজিস্টারে তাঁর নাম পাওয়া গিয়েছে। যদিও এদিন কল্যাণ দাবি করেন, অর্পিতার এক আত্মীয়া কিছুদিন আগে মারা যান। শ্মশানযাত্রী হিসেবে তিনি গিয়েছিলেন। তাই ১৯ জুলাই সকালে মিষ্টি, ধূপের প্যাকেট নিয়ে অর্পিতার আবাসনে যান। তবে তাঁর দাবি, অর্পিতার সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে যে তাঁর নাম রয়েছে, তা তিনি জানতেন না। তাঁর বক্তব্য, 'আমি যদি ডিরেক্টর হতাম, তা হলে এ রকম একটা ঘরে থাকতাম? অর্পিতা ফ্ল্যাটে আগে গিয়েছি। তবে এ ভাবে টাকা মজুত করে রাখা আছে, এমনটা ধারণাই ছিল না। কখনও উনি আমাকে সে কথা বলেননি। কখনও বলেননি, এদিক-ওদিক হাত দেবে না।'


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/ENrYQSb
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads