গ্যাস চেম্বার ঘরে শেষ মা, দুই মেয়ে https://ift.tt/ZdHOfxa - MAS News bengali

গ্যাস চেম্বার ঘরে শেষ মা, দুই মেয়ে https://ift.tt/ZdHOfxa

এই সময়, নয়াদিল্লি: ''প্রাণঘাতী গ্যাসে ঘরটা ভর্তি...দয়া করে দেশলাই বা মোমবাতি জ্বালাবেন না...সাবধান'' বড় বড় অক্ষরে ডায়েরির পাতায় লেখা একটা সুইসাইড নোট ঝুলছে ঘরের দেওয়ালে। দিল্লির (Delhi) বসন্ত বিহারে () বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে মা ও দুই মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার আর এই সুইসাইড নোট চমকে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ আধিকারিকদের। প্রাথমিক ভাবে এটাকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে পুলিশ। বেডরুমকে 'গ্যাস চেম্বার'-এ পরিণত করে তিন জনে যে ভাবে পরিকল্পিত উপায়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন, তাতে হতবাক তদন্তকারীরাও। শনিবার রাত ৮.৫৫ নাগাদ পুলিশের কাছে খবর যায় বসন্ত বিহারের বসন্ত অ্যাপার্টমেন্টের ২০৭ নম্বর ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ, বার বার ধাক্কা দিয়েও কারও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্বিগ্ন প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশের দল। আর সেখানেই উদ্ধার হয় মঞ্জু শ্রীবাস্তব (৫৫) এবং তাঁর দুই মেয়ে অংশিকা এবং অঙ্কুর দেহ। মেয়েদের একজনের বয়স ৩০, অন্য জনের ২৬ বছর। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে ফ্ল্যাটের সব ক'টি জানলা-দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ঢোকে পুলিশ। বেডরুমের দরজা খুলতেই দেখা যায় বিছানার উপর পড়ে তিন জনের নিথর দেহ। আর বিছানার পাশে চারটে পাত্রে কয়লা জ্বলছে। ঘরের প্রতিটি জানলা, ভেন্টিলেটর প্লাস্টিক এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো জিনিস দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ঘরের গ্যাস কোনও ভাবেই বাইরে বেরোতে না পারে। গ্যাসের সিলিন্ডারের নব ছিল খোলা। সেই সঙ্গে কয়লার আগুনে উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড। এই বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এ ভাবে ঘরটাকে গ্যাস চেম্বার বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনলাইনে কিনেছিল শ্রীবাস্তব পরিবার। তবে, গ্যাসের নব খোলা অবস্থায় ঘরে কয়লা জ্বললে আগুন লাগার আশঙ্কা যথেষ্ট, তেমন কিছু কেন ঘটল না, থাকছে প্রশ্ন। ঘরে ঢুকেই যে জিনিসটা পুলিশের চোখে পড়ে, তা হলো ডায়েরির কয়েকটা পাতা ছিঁড়ে লেখা সুইসাইড নোট, যা সেলোটেপ দিয়ে ঝোলানো ছিল দেওয়ালে। পুরোদস্তুর ইংরেজিতে লেখা সেই সুইসাইড নোটের বক্তব্য, ''ঘরের ভিতরে প্রাণঘাতী কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস রয়েছে। এটি দাহ্য। ঘরে যে এসেছেন, তাঁর কাছে অনুরোধ, দয়া করে দেশলাই, মোমবাতি বা কিছু জ্বালাবেন না! জানলা খুলে আর ফ্যান চালিয়ে আগে রুমের গ্যাস বের করে দিন। নাকমুখ ঢেকে রাখুন। সাবধানে পর্দা সরাবেন, কারণ গ্যাসটা প্রাণঘাতী...'' তবে সুইসাইড নোটে মৃত্যুর কোনও কারণ উল্লিখিত আছে কি না, সে ব্যাপারে মুখ খুলতে চায়নি পুলিশ। বাড়ির পরিচারিকা এবং প্রতিবেশীদের থেকে কিছু সূত্র অবশ্য মিলেছে। মঞ্জুর স্বামী উমেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব গত বছর এপ্রিলে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার পর থেকেই পরিবারটি অবসাদে ভুগছিল। মঞ্জু বিগত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে প্রায় শয্যাশায়ী ছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অবসাদেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বসন্ত বিহারের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৮ সালে বুরারির গণআত্মহত্যার ঘটনার কথা। এক রবিবার সকালে একই পরিবারের ১০ জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল দিল্লির বুরারির একটি বাড়ি থেকে, পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক মহিলাকে গলা টিপে খুন করা হয়েছিল। পরে পুলিশ জানায়, ধর্মীয় কারণেই গণআত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল পরিবারটি!


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/2WRH8uT
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads