জঙ্গলে নিষিদ্ধ ক্যাম্প ফায়ার, ডিজে বক্স https://ift.tt/QJUsuTV - MAS News bengali

জঙ্গলে নিষিদ্ধ ক্যাম্প ফায়ার, ডিজে বক্স https://ift.tt/QJUsuTV

এই সময়, শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার: রাজ্যের সমস্ত বনবাংলো ও সংরক্ষিত অরণ্য সংলগ্ন বেসরকারি রিসর্টগুলিতে ক্যাম্প ফায়ার, চড়া সাউন্ড সিস্টেম বাজানো ও লেজার বিমের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করছে বন দফতর। ফলে জঙ্গল পর্যটনে গিয়ে এখন আর ক্যাম্প ফায়ারের সঙ্গে খোলা জায়গায় বার-বি-কিউর অ্যাডভেঞ্চারে মাততে পারবেন না পর্যটকরা। আইন ভাঙার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে বন দফতর। সম্প্রতি সংলগ্ন লাটাগুড়ি ও মূর্তি এলাকার বেশ কয়েকটি বেসরকারি রিসর্টে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্দাম ডিজে চালিয়ে লেজার আলোর চমকানিতে ক্যাম্প ফায়ারে মাততে দেখা গিয়েছে এক শ্রেণির পর্যটককে। এতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কায় বন দপ্তরের কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন বহু সচেতন মানুষ। বিষয়টি গোচরে আসতেই বনাঞ্চল লাগোয়া রিসর্টগুলিকে আইনের অনুশাসনে বাঁধতে চায় বন দপ্তর। বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না-করে কী ভাবে পর্যটন ব্যবসা চালানো সম্ভব, সেই ব্যাপারে রিসর্ট মালিকদের জন্য অনুশাসন তৈরি করে দিয়েছে বন দপ্তরের জলপাইগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ দপ্তর। বন দফতরের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে যে, রাতে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার যে কোনও আগুন, চড়া শব্দের আওয়াজ ও লেজার লাইটের ঝলকানি বন্যপ্রাণীদের দিশেহারা করে তোলে। যার প্রভাব যে কোনও মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে লোকালয়ে এবং তার বেশ কিছু প্রত্যক্ষ প্রমাণ বন দপ্তরের কাছে রয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, রাতভর উদ্দামতা চালানোর পর বেশির ভাগ বেসরকারি রিসর্টের রোয়াকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। যার লোভে বন্যপ্রাণীরা অনেক সময়ই ছুটে এলে শুরু হয় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত। অনেক রিসর্ট মালিক রাতে পর্যটকদের জঙ্গলে বেড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। রিসর্টের সামনে অথবা পিছনে প্রচুর আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। বিষয়গুলি লক্ষ্য করেই এবার কড়া পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। আপাতত গোরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকার বেসরকারি রিসর্টগুলিতে ওই নির্দেশিকা জারি করা হলেও, ধাপে ধাপে রাজ্য জুড়েই লাগু হবে ওই নিষেধাজ্ঞা। নয়া অনুশাসনে কোনও বেনিয়মই আর বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও রিসর্ট মালিক আইন ভঙ্গ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ আইনে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে প্রথম জঙ্গলকেন্দ্রিক পর্যটন শুরু হয় গোরুমারা লাগোয়া লাটাগুড়ি থেকে। এতদিন পরে রিসর্ট মালিকদের বিরুদ্ধে কেন এই অভিযোগ উঠল, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এই ব্যাপারে লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিব্যেন্দু দেব বলেছেন, ''আমাদের সমিতি বন দপ্তরের আইন মেনে ব্যবসার পক্ষপাতী। কিছু প্রভাবশালী রিসর্ট মালিক বন দপ্তরের আইন মানছেন না বলে আমরাও অভিযোগ পেয়েছি।'' রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল জেটি ম্যাথু বলেন, ''বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সবাইকে নির্দেশ মেনে চলতে হবে।'' বন দপ্তরের ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বিশ্বজিত সাহা বলেন, ''বন ও বন্যপ্রাণীরা না থাকলে পর্যটন টিকবে কীভাবে? ফলে অযথা বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা থেকে আমাদের সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আমি পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বন দপ্তরের ওই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার পরামর্শ দিতে চাই।'' উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ''গোরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বেসরকারি বেশ কিছু রিসর্টে রাতের পরিস্থিতি মোটেও পরিবেশ বান্ধব ছিল না। এক শ্রেণির পর্যটক লিখিত প্রতিবাদ জানানোয় আমরা কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছি। কেউ নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধাপে ধাপে সমস্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় ওই একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হবে।'' হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেছেন, ''বন দফতরের নয়া নির্দেশিকা আমাদের হাতেও পৌঁছেছে। নির্দেশিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।''


from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/2sTahB1
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads