বাচ্চাদের কী হবে? জেলেনস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন ওলেনা https://ift.tt/zesMbin - MAS News bengali

বাচ্চাদের কী হবে? জেলেনস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন ওলেনা https://ift.tt/zesMbin

এই সময়, কিইভ: আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল সেই দিনটা। সন্ধেবেলা বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল। বাড়িতে গল্পগাছা, পরের দিনের স্কুলের প্রস্তুতি। আর সে সবকিছুর মাঝে একটা প্রশ্ন, আচ্ছা রাশিয়া কি সত্যিই ইউক্রেন আক্রমণ করবে? সকলে যে বলাবলি করছে। আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু বিশ্বাস হয়নি। একবিংশ শতাব্দীতে এমন হামলা হয় নাকি! আর তাই নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। কিন্তু ভোররাতে একটা কানফাটানো শব্দ! ঘুম ভেঙে পাশে হাতড়ে দেখলেন বিছানা ফাঁকা। বিছানার সামনে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাদা শার্ট, কালো কোর্ট পরে বেরোনোর জন্য প্রস্তুত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এই ভোররাতে কোথায় যাবেন? স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ভলোদিমির শুধু বলেছিলেন, ''হামলা শুরু হয়ে গেছে।'' যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনটার কথা স্পষ্ট মনে আছে ওলেনা জেলেনস্কার। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে এমনই কিছু অভিজ্ঞতা 'ভোগ' ম্যাগাজিনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, আর পাঁচটা মায়ের মতো সেদিন ভোররাতে তিনিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেছিলেন, ''বাচ্চাদের কী হবে?'' চিন্তিত স্বামী, উদ্বিগ্ন দেশনায়ক জবাব দিয়েছিলেন, ''এখন আপাতত দরকারি কিছু জিনিস আর কাগজপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখো। তোমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।'' সেই দিন থেকেই তাঁদের লড়াই শুরু। বাচ্চাদের আলাদা করে কিছু বোঝাতে হয়নি। তারা সবটুকু দেখেছে, বুঝেছে। সাইরেন বাজলেই মায়ের কথামতো ছুটে গিয়েছে বেসমেন্টে, বুঝেছে ওই সময়ে আলো জ্বালাতে নেই। তবু ১৭ বছরের মেয়ে ওলেকসান্দ্রা এবং ৯ বছরের ছেলে কিরিলো প্রায়ই প্রশ্ন করে, ''মা, বাবার সঙ্গে কবে দেখা হবে?'' ওলেনা জবাব দেন, ''খুব শিগগির''। তাঁর কথায়, ''প্রেসিডেন্টের অফিস এখন সেনা ঘাঁটি। সেখানে ছেলেমেয়ে নিয়ে আমার থাকা চলবে না। তাই ইউক্রেনের তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় সরানো হলো আমাদের (যদিও তেমন জায়গা আছে কি না সন্দেহ!)। তার পর থেকে ভলোদিমিরের সঙ্গে শুধু ফোনে যোগাযোগ।'' অবশ্য ইউক্রেনের প্রতিটি বাড়ির অবস্থাই এখন এমন, তাই আলাদা করে নিজের পরিবারের কথা ভাবেন না ফার্স্ট লেডি। বলেন, ''রাশিয়া আমাদের মধ্যে বিভেদ, ঝামেলা লাগাতে চেয়েছিল, কিন্তু ইউক্রেনীয়দের সঙ্গে এমনটা করা সহজ নয়। এখানে একজন নিগৃহীত, ধর্ষিত বা খুন হলে সকলে সেই যন্ত্রণা নিয়ে রুখে দাঁড়ায়। তাই রাশিয়া যত আগ্রাসন দেখিয়েছে, তত আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই দৃঢ় হয়েছে।'' যুদ্ধে ইউক্রেনীয় মহিলাদের কী অবস্থা? ফার্স্ট লেডি জানালেন, বুচা, গোস্তোমেলের মতো শহর থেকে প্রাণ হাতে করে বাচ্চা, বয়স্কদের নিয়ে পালিয়েছেন মহিলারা। বাড়ির পুরুষ রুশ সেনার হাতে বন্দি। তাঁদের মায়া ত্যাগ করে সন্তানকে আঁকড়ে, খালি পায়ে, এক কাপড়ে ঘর ছেড়েছেন মা। মারিউপোলে এখনও হাজার হাজার মা সন্তান নিয়ে বাঁচার লড়াই চালাচ্ছেন। পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে খুঁজছেন খাবার। ৪০ লক্ষেরও বেশি মহিলা-শিশু অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ওলেনার কথায়, ''যখন নিজের পরার জামাকাপড় থাকে না, বাচ্চাকে শোয়ানোর মতো একটা বিছানা থাকে না, তখন একজন মায়ের অনুভূতি কেমন হয়, ভাবতে পারেন?' তাই ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে ওলেনার অনুরোধ, 'যে ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা আপনাদের দেশে গেছে, দয়া করে ওদের আপন করে নিন। ওরাও নিজের দেশ, নিজের ভিটেতে ফিরতে চায়। যতক্ষণ না পারছে, ততক্ষণ অন্তত ওদের আগলে রাখুন।'' রাশিয়ার দাবি ওরা নাকি আগ্রাসন কমাচ্ছে, কিন্তু সত্যিই কি তাই? ওলেনার দাবি, ''ওদের কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ, মারিউপোলে ধ্বংসের ছবি মানুষ দেখেছে। রাস্তায় রাস্তায় দেহ পড়ে। তাঁরা কিন্তু কেউ সেনা নন, সাধারণ মানুষ! বাচ্চাদের খেলার মাঠ এখন সমাধিক্ষেত্র। ২০০-রও বেশি শিশু মারা গেছে, মায়েদের কোল খালি হয়ে গেছে। এ সব দেখলে গলা বুজে আসে...'' ন্যাটো আর আমেরিকার ভূমিকাতেও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ভলোদিমির-পত্নী। তাঁর কথায়, ''রাশিয়া জানত পশ্চিমি দেশ আকাশসীমা বন্ধ করবে না, তাই ওরা নৃশংস ধ্বংসলীলা চালানোর লাইসেন্স পেয়ে গেছে। এর পরেও কী করে বলি, নিরীহ ইউক্রেনীয়দের খুনের জন্য দায়ী শুধু রাশিয়া?'' তবে, এত ধ্বংসের পরও শান্তির আশা রাখেন ওলেনা। আশা করেন, ইউক্রেনে আবার সব স্বাভাবিক হবে। স্কুলে যাবে বাচ্চারা। সাইরেনের শব্দ নয়, কচিকাঁচাদের হুল্লোড়েই গমগম করে উঠবে 'শান্তিপ্রিয়' ইউক্রেন।


from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/U6iRXVB
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads