সোয়াব টেস্টে S জিন নেই? সন্দেহে Omicron https://ift.tt/3lnOmjb - MAS News bengali

সোয়াব টেস্টে S জিন নেই? সন্দেহে Omicron https://ift.tt/3lnOmjb

অনির্বাণ ঘোষ নিয়ে এখন সতর্ক সব মহল। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার নয়া এই রূপভেদ চিহ্নিত করতে বেশি করে দরকার জিনোম সিকোয়েন্সিং। তবেই ধরা পড়বে Omicron। তবে তা সময়সাপেক্ষ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য বলছেন, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের আগেই Omicron-র ব্যাপারে আঁচ মেলা সম্ভব সাধারণ RT-PCR পরীক্ষাতেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণও মঙ্গলবার কেন্দ্র-রাজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে জানিয়েছেন, RT-PCR ও র‍্যাট পরীক্ষাতেই Omicron-র খোঁজ মিলতে পারে। আসলে সরাসরি ধরা না-দিয়েই নিজের অস্তিত্ব জাহির করতে পারে Omicron। কিন্তু, কী ভাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড টেস্টের ফল পজিটিভ আসার পরেও যদি কারও সোয়াব নমুনায় এস জিনের (স্পাইক প্রোটিন) অস্তিত্ব না মেলে, তা হলেই সেই নমুনাকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। তখন ধরে নিতে হবে, করোনা পজিটিভ সেই নমুনায় ভাইরাসের এস জিনকে চিনে ওঠা যাচ্ছে না। Omicron-এ যেহেতু বিস্তর মিউটেশন হয়েছে স্পাইক প্রোটিনে, তাই তার প্রভাবে এস জিন চিনতে সমস্যা হতে পারে কোভিড টেস্টে ব্যবহৃত কিটের পক্ষে। ইতিমধ্যেই Omicron নিয়ে অতিসতর্ক হয়ে, নয়া ভ্যারিয়েন্টের আগাম আঁচ পেতে মুম্বইয়ের ধাঁচে কলকাতাতেও কিছু ল্যাব কোভিড টেস্টে এস জিন দেখতে শুরু করে দিয়েছে। মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ সৌগত ঘোষ জানাচ্ছেন, যখন RT-PCR-এ সোয়াব নমুনার করোনা পরীক্ষা হয়, তখন ভাইরাসের আরএনএ থেকে খুঁজে বের করা হয় পাঁচ ধরনের জিন। সেগুলি হল এস, এন, ই, আরডিআরপি এবং ওআরএফ জিন। এর মধ্যে সাধারণত দু'টি বা তিনটি জিন খুঁজে বের করা গেলেই সেই নমুনাকে পজিটিভ ধরা হয়। কিন্তু এখন সোয়াব পরীক্ষায় এস জিনের অস্তিত্ব না মিললেই চিন্তা বাড়ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ইমিউনোলজির গবেষক দীপ্যমান গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'মিউটেশনের ফলে Omicron-র স্পাইক প্রোটিনে যেহেতু ৩২টি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, তাই সাধারণ RT-PCR পরীক্ষায় সব সময়ে যে এস জিন ধরা পড়বেই, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই যদি নমুনায় এন, ই, আরডিআরপি এবং ওআরএফ জিনের মধ্যে কোনও একটি বা দু'টি জিন ধরা পড়ে যায় এবং এস জিনটি ধরা না পড়ে, তখন ধরে নিতে হবে, এই ভাইরাস Omicron প্রজাতির হলেও হতে পারে।' তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে অবিলম্বে ওই নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো দরকার। তবেই নিশ্চিত ভাবে বোঝা যাবে, করোনার এই রূপভেদটি Omicron প্রজাতির কিনা। আর এক মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ অরিন্দম মুখোপাধ্যায় বলেন, 'RT-PCR কোভিড টেস্টে একটা কিট সাধারণত দু'টি বা তিনটি টার্গেট জিনকে শনাক্ত করতে পারে। Omicron ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে স্পাইক প্রোটিন বা এস জিনকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে চলতি কিটগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এমন এস জিন ড্রপআউটের ক্ষেত্রে সেই নমুনার অবশ্যই জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হবে।' তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের করোনা পরীক্ষায় অবশ্যই এস জিন পরখ করা উচিত। এস-নেগেটিভ নমুনা দেখলেই তা হলে আগাম সতর্ক হতে পারা যাবে। একই সুর শহরের একটি বিখ্যাত বেসরকারি প্যাথ ল্যাব চেনের কর্ণধার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি মনে করেন, 'শুধু বিদেশ থেকে আগতদেরই নয়, Omicron আগ্রাসনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের ক্ষেত্রেই এস জিন দেখার চেষ্টা করা উচিত। এবং সেটা সব ল্যাবেরই করা উচিত। যাতে অন্য জিন পজিটিভ আসার পরেও যদি এস জিন নেগেটিভ আসে, তা হলে সাবধান হওয়া যায়। আমরা সে জন্যই এস জিন ধরতে শুরু করেছি। তবে এমন নমুনা এখনও মেলেনি যা দেখে Omicron সন্দেহ হয়।' স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের একাংশও এ বিষয়ে একমত। কোভিড ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে Omicron-র আগাম আঁচ পেতে সরকারি-বেসরকারি সব ল্যাবেই এবার এস জিন যাচাই করা উচিত। তবে এই মর্মে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা বের হয়নি। হয়তো আগামী দিনে আদেশনামা বেরোবে।'


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/2ZDXJTY
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads