'মা'-এর কাছেই মেয়ে, শিশু মন জানবে কোর্ট https://ift.tt/3qOvPjd - MAS News bengali

'মা'-এর কাছেই মেয়ে, শিশু মন জানবে কোর্ট https://ift.tt/3qOvPjd

অমিত চক্রবর্তী আপাতত 'মা'-এর কাছেই থাকবে তিন্নি (নাম পরিবর্তিত)। তবে সপ্তাহে একদিন সকাল থেকে সন্ধে বাবাও তাকে রাখতে পারবেন। এর পরে তিন্নি নিজে কী চায়, তা-ও জানার চেষ্টা করবে আদালত। পালক বাবা-মা না জন্মদাতা, চার বছরের শিশু অধিকার কার কাছে যাবে, তা নিয়ে নিম্ন আদালত থেকে টানাপড়েন এসেছিল হাইকোর্টে। গত ১৫ নভেম্বর সে খবর প্রকাশিত হয়েছিল 'এই সময়'-এ। সেই মামলাতেই বুধবার এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাটি করেছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিরা এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার একটিই- যে কোনও আঘাত থেকে শিশুমনকে রক্ষা করা। আদালতের বক্তব্য, শিশু নিজেকে কোথায় নিরাপদ মনে করে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, আদালতের এ দিনের নির্দেশ একপ্রকার ব্যতিক্রমই। সাধারণত এ সব ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্কে গুরুত্ব দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেখানে শিশুর মনের দিকটি গৌণ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালত শিশুর মনের দিকেই নজর দিয়েছে। বুধবার শুনানিতে শিশুটির বাবার আইনজীবী সপ্তাংশু বসু প্রতিবেশী মহিলার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রসঙ্গ টেনে সন্তানের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অর্থের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন। পুরোনো একটি মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে দেড় বছরের শিশুর অধিকারে রক্তের সম্পর্ককে অগ্রাধিকারের উদাহরণও দেন। কিন্তু আদালতের যুক্তি, দেড় বছরের শিশুর তুলনায় চার বছরের শিশুর অনুভূতি অনেক বেশি। মামলাকারী মহিলার আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী ও শুভাশিস চক্রবর্তীও বলেন, রক্তের সম্পর্ক কখনওই অস্বীকার করা যায় না। তবে জন্ম থেকে ওই মহিলার কোলে বেড়ে ওঠা শিশুকে এখনই সরানো হলে তার মনের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর পরেই আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত শনিবার সকাল ন'টা থেকে রাত ন'টা পর্যন্ত শিশুটিকে সপ্তাহে একদিন বাবা নিজের কাছে রাখতে পারবেন। পরবর্তী শুনানি ২৯ নভেম্বর। ওইদিন শিশুটিকে আদালতে আনতে হবে। আদালত শিশুটির সঙ্গে কথা বলতে চায়। এই মামলা প্রসঙ্গে গত ১৫ তারিখ 'এই সময়' পত্রিকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন 'পোস্ত' ছবিতে আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতা এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর নিজের জীবনের মিল থাকার কথাও জানিয়েছিলেন। এ দিন আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া, 'আদালত মানবতার খোঁজ করেছে। একটি চারা গাছ যেখানে জল-বাতাস পেয়ে বড় হচ্ছে, তাকে যদি জোর করে উপড়ে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হয়, তা চারাটির বেড়ে ওঠার পথে অন্তরায়। আদালত আইন বা রক্তের সম্পর্কের থেকেও শিশুর আবেগের কথা ভেবেছে। এটাই আমাদের কাছে পরম পাওয়া।' কয়েক বছর আগে হাওড়ার তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয় নোয়াপাড়ার যুবকের। পারিবারিক অশান্তির মধ্যেই তাঁদের মেয়ে হয়। তখন থেকেই হাওড়ায় বাপের বাড়িতে থাকতেন তরুণী। এরই মধ্যে সন্তানের ছ'মাস বয়সে তরুণী আত্মহত্যা করেন। গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে তরুণীর পরিবার তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। স্বামী গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি জামিন পেয়ে মেয়ের অধিকার দাবি করে নিম্ন আদালতে যান। এ দিকে ওই একরত্তি সন্তান দিদিমার হেফাজতে থাকলেও বস্তুত প্রতিবেশী পরিবারে বড় হয়ে উঠছিল। সেই মহিলাকেই 'মা' বলে ডাকে শিশুটি। এরই মধ্যে শিশুটির দিদিমাও আত্মহত্যা করেন। তার আগে বাবা নিম্ন আদালতের রায় (শিশুটি প্রতিবেশী মহিলার কাছেই থাকবে) চ্যালেঞ্জে করে হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলাতেই যুক্ত হয়ে এ বার শিশুর 'মা' অধিকার দাবি করেছেন।


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3Fs2Mq0
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads