ভোটে ভীত নন 'করোনাজয়ী' ভলান্টিয়াররা https://ift.tt/3lbCK2j - MAS News bengali

ভোটে ভীত নন 'করোনাজয়ী' ভলান্টিয়াররা https://ift.tt/3lbCK2j

প্রসেনজিৎ বেরা চেনা নম্বর থেকে মেসেজ ঢুকছে মোবাইলে। আবার কিছু হল নাকি? অক্সিজেন চাই? নাকি ওষুধ! শুক্রবার বিকেলে ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন পুরভোটে উত্তর কলকাতার ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সিপিএমের প্রার্থী হওয়া রমেশ পাণ্ডে। এঁরা তো কেউ বাম সমর্থক নন যে প্রার্থী হওয়ার জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাবেন। মেসেজ খুলতে অবশ্য কপালভরা চিন্তা বদলে গেল একগাল হাসিতে। শুভেচ্ছাবার্তাই এসেছে, ঠিক পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো। এবং প্রেরক তাঁরাই, করোনা অতিমারিতে যাঁদের পরিবারের কেউ না কেউ সংক্রামিত হওয়ার পর রেড ভলান্টিয়ার্স টিম বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া, অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করে দেওয়ার কাজ করেছে। ঘটনাচক্রে বেলগাছিয়া, টালা-পার্কে সিপিএমের ছাত্র-যুব এবং আরও উৎসাহী তরুণদল নিয়ে তৈরি সেই রেড ভলান্টিয়ারদের মধ্যে অতিপরিচিত মুখ রমেশ। অতিমারির প্রথম ঢেউ এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে বাইকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রমেশ রাতবিরেতে দিনের পর দিন চক্কর কেটেছেন। বহু পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মোবাইলে রমেশের নম্বর সেভ হয়ে রয়েছে। তাই তিনি প্রার্থী হওয়ায় খবর পেয়েই শুভেচ্ছাবার্তা আসতে শুরু করেছে সেই সাহায্যপ্রাপ্ত পরিবারগুলির থেকে। সিপিএমের এই প্রার্থীর কথায়, 'যখন অক্সিজেনের হাহাকার, অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যাচ্ছে না, বেড নেই, তখন যেখানে থেকে ফোন এসেছে, দৌড়ে গিয়েছি। এখন অনেকেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, দলের সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানলাম তাঁদের অনেকেই আমাদের সমর্থক নন।' অসময়ে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া ভোটে তাঁর দলকে কতটা অক্সিজেন দেবে, জানেন না রমেশ। কিন্তু পুরোনো অভ্যেসটা ছাড়ছেন না। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি করোনা নিয়ে সচেতনতার প্রচারও চালাচ্ছেন তিনি। কলকাতায় বাম প্রার্থী তালিকায় সিপিএম প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩৫-৪০ জন রেড ভলান্টিয়ার। প্রত্যেকেই বুঝছেন, নতুন যুদ্ধটা সহজ নয়। যেমন কাশীপুর-বেলগাছিয়া অঞ্চলেই ভোটে হিংসা, বুথ দখল, রক্তপাতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সেখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের প্রার্থী দলের যুব ফ্রন্টের পল্লব মুখোপাধ্যায়। অতিমারিতে টানা কাজ করেছেন রেড ভলান্টিয়ার হিসাবে। কোনটা বড় চ্যালেঞ্জ? পল্লবের উত্তর, 'যেদিন রেড ভলান্টিয়ার হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করি, তখন পিপিই কিট জোগাড় করতে পারিনি। নিজেরা স্যানিটাইজার তৈরি করেছি। কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না আমাদের। সম্বল শুধু সাধারণ মাস্ক, এন ৯৫-ও নয়। বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা। ভোটে দাঁড়ানোর থেকে সেই কাজ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের ছিল।' শুক্রবার রাত থেকেই প্রচারে নেমেছেন পল্লব। বললেন, 'বাড়ি বাড়ি যখন যাচ্ছি, তখন ভোট নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি এটাও বলছি অতিমারি কিন্তু এখনও চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।' বেলেঘাটায় রেড ভলান্টিয়ার হিসেবে যে দিন প্রথম রাস্তায় নেমেছিলেন, সে দিন শাশ্বতী দাশগুপ্তর সঙ্গে দু'তিন জন ছাত্র-যুব ফ্রন্টের কর্মী ছিলেন মাত্র। শনিবার সন্ধ্যায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার করতে করতে শাশ্বতী বললেন, 'বসে না থেকে সে দিন ছাত্রজীবনের জুলজি এবং ফিজিওলজির জ্ঞান নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছিলাম। তার পর পাশে পেয়েছি অনেককে। আমি নিজেই অন্তত ১৫০-২০০ পরিবারে অক্সিজেন দিয়ে এসেছি। এখন সেই ক্রাইসিস হয়তো নেই। কিন্তু পুরভোটের প্রচারে শহরের মাত্রছাড়া দূষণ, নিকাশির অব্যবস্থার কথা বলছি।' এই ভাবেই বেহালায় ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের হয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন সিপিএমের রেড ভলান্টিয়ার রঞ্জন দাশগুপ্ত, ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন সিপিএমের ছাত্র ফ্রন্টের অন্বেষা ভৌমিক। অধিকাংশই এই প্রথম ভোটের ময়দানে। কিন্তু সবার একই কথা, 'ভোটে দাঁড়ানো, আক্রান্ত হওয়া, মামলা হওয়া, জয়-পরাজয়ের থেকে অতিমারির ভয়ঙ্কর দিনগুলিতে কাজ করা ছিল অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।'


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3cV9gkV
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads