স্বামীর থাপ্পড়? সমস্যা নেই তো! যুক্তি নারীর https://ift.tt/3cXt0Ep - MAS News bengali

স্বামীর থাপ্পড়? সমস্যা নেই তো! যুক্তি নারীর https://ift.tt/3cXt0Ep

হায়দরাবাদ: কথায় বলে 'মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু'। কথাটা লিঙ্গ বৈষম্যমূলক, কিন্তু অসত্য কি? জাতীয় সমীক্ষার রিপোর্টে ফের সামনে এল এই প্রশ্ন। স্বামীর হাতে মার খাওয়া নিজেদের ভবিতব্য এবং তা সঙ্গত বলে মনে করেন দেশের বহু মহিলা। এবং এ ক্ষেত্রে তেলঙ্গানার তথ্য চোখ কপালে তোলার মতো। দক্ষিণের এই রাজ্যে ৮৩.৮ শতাংশ মহিলা মনে করেন, স্ত্রীকে স্বামী মারধর করতেই পারেন। এই নিরিখে পুরুষদের জবাবের বিচারে শীর্ষে কর্নাটক। কর্নাটকের ৮১.৯ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, তাঁরা স্ত্রীয়ের গায়ে হাত তোলা যুক্তিসঙ্গত। কেন? কারণগুলো ঘুরেফিরে সেই চার দেওয়ালের ভিতরের নিত্যনৈমিত্তিকতা বা শরীরী চাহিদা না-মেটানোর আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। দিনদুয়েক আগে জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা বা ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-তে জানা গিয়েছিল, দেশের গড় ফার্টিলিটি রেট কমেছে, এই প্রথম পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যাও বেড়েছে। স্বস্তি মিলেছিল অর্ধেক আকাশের রুপোলি রেখায়। সেই সমীক্ষারই উল্টোদিকটা সামনে আসায় বোঝা গেল, গার্হস্থ্য হিংসার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ পেরোনো বাকি। প্রশ্ন উঠল, নারী স্বাধীনতা, ক্ষমতায়নের এত উদ্যোগ, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোনোর পথে কি তা হলে স্বামীর প্রতি মেয়েদের দীর্ঘলালিত প্রভুত্ব স্বীকারের মানসিকতাই অন্তরায় নয়? অনেকটা এ কথাই প্রতিফলিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধিকর্তা সারদা এ এল-এর বক্তব্যে। তিনি বলেন, 'এ ধরনের পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা বহু মহিলার মনের গভীরে গাঁথা। তাঁরা মনে করেন, পরিবার ও স্বামীর সেবাই তাঁদের প্রধান কাজ।' সমীক্ষায় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল - আপনার মতে কি স্বামীরা স্ত্রীদের মারধর বা আঘাত করতে পারেন? জম্মুকাশ্মীর-সহ দেশের ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুরুষ-মহিলাদের উপরে এই সমীক্ষা চালানো হয়। স্বামীর হাতে মার খাওয়াকে সমর্থনের নিরিখে মহিলাদের জবাবের বিচারে শীর্ষে তেলঙ্গানা। আর তালিকার শেষে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ (১৪.৮ শতাংশ)। পুরুষদের ক্ষেত্রে শীর্ষে কর্নাটক আর তালিকার শেষে সেই হিমাচল প্রদেশ (১৪.২ শতাংশ)। কিন্তু মারধরকে সঙ্গত ভাবার কারণ কী? এ ক্ষেত্রে সাতটি পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে সমীক্ষায় - স্বামীকে না বলে বাড়ির বাইরে বেরোলে, বাড়ি বা ছেলেমেয়েদের অবহেলা করলে, মুখে মুখে তর্ক করলে, যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অরাজি হলে, ঠিকঠাক খাবার রান্না না করলে, অন্য সম্পর্কে জড়িত বলে সন্দেহ করলে বা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অবজ্ঞা করলে। এই সাত কারণে স্বামী গায়ে হাত তুললেও মহিলাদের আপত্তি থাকে না বলে উঠে এসেছে সমীক্ষায়। এর মধ্যে দু'টি কারণ সবচেয়ে বেশি করে উঠে এসেছে। সেগুলি হলো - শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অসম্মান এবং বাড়ি বা ছেলেমেয়েদের প্রতি অবহেলা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ্যের মহিলা মনে করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অসম্মান করাই স্বামীর হাতে মার খাওয়ার প্রধানতম কারণ। অসম, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, গোয়া, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, কর্নাটক, কেরালা, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, তেলঙ্গানা, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে এই সমীক্ষা চালানো হয়। তেলঙ্গানা বাদে যে রাজ্যগুলিতে বেশি সংখ্যক মহিলা মার খাওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করছেন, সেগুলি হলো - অন্ধ্রপ্রদেশ (৮৩.৬ শতাংশ), কর্নাটক (৭৬.৯ শতাংশ), মণিপুর (৬৫.৯ শতাংশ) এবং কেরালা (৫২.৪ শতাংশ)। ২০১৫-১৬ সালের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার যে রিপোর্ট ২০১৮-র জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে কিন্তু ৫২ শতাংশ মহিলা মারধরকে সমর্থন করেছিলেন। আর ৪২ শতাংশ পুরুষ জানিয়েছিলেন, তাঁরা গার্হস্থ্য হিংসাকে সমর্থন করেন। ২০১৯-২১ এর সাম্প্রতিকতম সমীক্ষাটিতে এ ক্ষেত্রে জাতীয় গড় অনেক বেশি বলেই উঠে আসছে। বস্‌, ইতনি সি বাত! ২০২০-র তাপসী পান্নুর 'থাপ্পড়' ছবির মুখ্যভূমিকায় একটি থাপ্পড়, স্ত্রীকে স্বামীর। সুখী দম্পতি অমৃতা সাধু ও বিক্রম সভরওয়ালের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে যখন বাড়ির এক পার্টিতে সকলের সামনে স্ত্রীকে চড় মারেন বিক্রম। ধীরে ধীরে অমৃতা বুঝতে পারেন, ছোটখাটো কত ঘটনায় তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে সংসারে। সকলেই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, 'সামান্য' একটা থাপ্পড় থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু অমৃতা সেই সম্পর্কে আর ফিরতে নারাজ। এক সময়ে অমৃতার আইনজীবী থেকে শ্বশুরবাড়ির পরিচারিকা, সকলেই নিজেদের পরিবারের ফাটলগুলো দেখতে শুরু করেন। নিজের পথ থেকে নড়েন না অমৃতা। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচেন। একটি আপাত ছোট ঘটনা যে আদতে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, মহিলাদের সম্মানের ক্ষেত্রে কতখানি হানিকারক, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল 'থাপ্পড়'। কিন্তু দেখতে পেয়েছেন ক'জন? ফের প্রশ্ন তুলে দিল জাতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3Ibbdbx
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads