Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3wzHCSc
ইয়াস মোকাবিলায় রাতভর কন্ট্রোল রুমে দিদি https://ift.tt/3votJpJ
এই সময়: ঠিক এক বছর পাঁচ দিন আগের ঘটনা। সুপার আমফানের তাণ্ডবে যখন ত্রস্ত কলকাতা-সহ সারা বাংলা, তখন গভীর রাত পর্যন্ত নবান্নে কন্ট্রোল রুম নিজেই সামলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই একই ছবি মঙ্গলবারও। এ বার চোখ রাঙাচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় কোথাও বৃষ্টি, কোথাও ঝোড়ো হাওয়া, কোথাও স্থানীয় ভাবে ঝড়ের খবর আসছে মুহুর্মূহু। আজ, বুধবার সকালে আছড়ে পড়ার কথা ইয়াসের। তার আগে ফের সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতাই দিনভর তাঁর প্রশাসনিক অফিসারদের নিয়ে সামলালেন কন্ট্রোল রুম। এদিন বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ তিনি নবান্নে পৌঁছন। এসেই চলে যান পাশে উপান্নের কন্ট্রোল রুমে। রাজ্যের কোথায় কী অবস্থা, তার সরাসরি খোঁজখবর নিয়ে চলে আসেন নবান্নে। আসন্ন দুর্যোগের প্রাকমুহূর্তে হাল-হকিকত খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জেলার ডিএমদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দফায় দফায় কথা বলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিপর্যয় মোকাবিলা সচিব-সহ প্রশাসনিক ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে। আমফানের মতো এত অভিঘাত হবে না ইয়াসের- এমন আশ্বাসবাণী দিয়ে রেখেছেন আবহবিদরা। তবে তাতে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। কারণ শুধু ঝড়ের মোকাবিলা নয়, ঝড়ের প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও চিন্তা থাকছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে। এদিন সকালে নবান্নের তিনতলায় বিপর্যয় দপ্তরের কন্ট্রোল রুমে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, নবান্নকে না-জানিয়ে কোনও ভাবেই যেন কোনও জলাধার থেকে জল ছাড়া না-হয়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, 'আমি রাতভর থাকছি। বুধবার সকাল থেকেই ঝড়ের দাপট শুরু হবে।' এর মধ্যেই তাঁর কাছে খবর আসে, দুই মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনা তো বটেই, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমও ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিঘায় দুপুরের পর থেকে জল ঢুকেছে। নানা জায়গা বন্যার জলে প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরবনে তীব্র গতিতে হাওয়া বইছে। এর উপর রয়েছে ভরা কোটালের চাপ। এ সব মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি যে জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি দাপট দেখাতে পারে ঘূর্ণিঝড়, সেখান থেকেও মানুষকে সরিয়ে আনার কাজ দ্রুততার সঙ্গে করারও জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও প্রায় ৯ লাখ মানুষকে উপদ্রুত এলাকাগুলি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেককেই রিলিফ সেন্টার, ফ্লাড শেল্টার ও বেশ কিছু স্কুলে রাখা হয়েছে। এই রিলিফ ও ফ্লাড শেল্টারগুলি আমরাই বানিয়েছি।' সন্ধের মধ্যে আরও প্রায় দু'লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আনা হয় বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ নবান্নে দ্বিতীয় দফার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ল্যান্ডফল হতে পারে। ঝড় আছড়ে পড়ার পর দু'-তিন ঘণ্টা অর্থাৎ সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রভাব থাকতে পারে। তাই সকলে সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকবেন। ঝড় না-কমা পর্যন্ত বাড়িতেই থাকুন।' গোটা পরিস্থিতি যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সামাল দিচ্ছে নবান্ন, তা নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'চিন্তা করবেন না। আমরাও নবান্নে থাকছি। ওয়্যার রুম করে নবান্ন থেকে কাজ করছি।' পাশাপাশি, তৃণমূল স্তরে মাইক্রো পর্যায়ে আগাম পরিকল্পনা নিয়ে যে ইয়াসের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছে নবান্ন, তা এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিটি জেলাস্তরে একজন আইএএস-কে এই ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা এবং কলকাতা পুর এলাকায় যে অফিসার, মন্ত্রী-বিধায়ক, প্রশাসকরা মোকাবিলায় দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গেও নিজে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মমতা বলেন, 'পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএম-এর সঙ্গে কথা বললাম। তিনি কোভিড আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সারা রাত নানা জায়গা থেকে মানুষদের সরানোর তদারকি করেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় গিয়েছেন।' এদিন সন্ধে ৬টার কিছু আগে আবার নবান্নে বিপর্যয় মোকাবিলা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সাধারণ ভাবে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান প্রশাসনিক সদরে যান, এমন নজির নেই। এর আগে এদিন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, 'রাজ্য সরকার সব রকমের সক্রিয়তা দেখিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা এবার অনেক বেশি ব্যবস্থা করে রেখেছে। ভারতীয় নৌসেনাও বিশাখাপত্তনম থেকে বিশেষ দল নিয়ে এসেছে। এনডিআরএফ-ও প্রস্তুত। সবসময় এ ভাবেই সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করা দরকার।' তিনি নবান্নে এলে মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের নীচে নেমে তাঁকে স্বাগত জানান। রাজ্যপাল কিছুক্ষণ মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুরে দেখেন কন্ট্রোল রুম। তার পর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন কিছুক্ষণ। ঘণ্টাখানেক তিনি ছিলেন নবান্নে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। মমতা সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের প্রায় ৭৪ হাজার কর্মী ও অফিসার দুর্যোগের কাজে সহায়তা করছেন। এছাড়া দু'লাখ পুলিশকর্মী, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার এনডিআরএফের কর্মীরাও রয়েছেন। ইয়াসের মোকাবিলায় যে প্রশাসনিক বিন্যাস, তার মধ্যে সব মিলিয়ে তিন লাখ কর্মী রয়েছেন। তাঁরা পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের মতো নানা কাজ সামলাচ্ছেন।' তাঁর কথায়, 'উম্পুনের থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবার ঝড়ের মোকাবিলায় নেমেছি। নদীর ধার ঘেঁষে যাঁরা থাকেন, তাঁদের প্রতি বছরই এই ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েন। নদীর ভাঙন বা নদীর চড়াইয়ের মতো সমস্যা। এটুকুই বলব, নিরাপদে থাকুন, স্টে সেফ, মাস্ক পরুন। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।'
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3wzHCSc
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment