ইয়াসের জেরে বাংলায় বন্যার আশঙ্কা https://ift.tt/3oOoJIN - MAS News bengali

ইয়াসের জেরে বাংলায় বন্যার আশঙ্কা https://ift.tt/3oOoJIN

এই সময়: দুশ্চিন্তা কমলো ঠিকই, কিন্তু রয়েই গেল। বাংলাকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় মঙ্গলবার আরও বাঁক নিয়েছে ওডিশার দিকে। আজ, বুধবার সকালে বালেশ্বর ও ধামড়া বন্দরের মধ্যে তার আছড়ে পড়া মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু, তাতেও ইয়াসের ঘূর্ণবলয়ের প্রভাবে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের দু'টি জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। আর সেই দুরন্ত ঘূর্ণির সঙ্গেই চিন্তা বাড়িয়েছে বুধবার সকালে বুদ্ধপূর্ণিমার ভরা কোটাল ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই তিন প্রভাবে আজ, সারাদিন বাংলার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও তা থেকে সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কা। দিঘা, শঙ্করপুর, নামখানা, সুন্দরবন-সহ উপকূলের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরের পরেই বাঁধ উপচে জল ঢুকেছে। আজ সেই পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হবে, আশঙ্কা আবহবিদদের। ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার বিকেলে আচমকা স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া টর্নেডোয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যান্ডেল ও হালিশহরে। হুগলির পাণ্ডুয়ায় বাজ পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দু'জন। ইয়াস যে বাংলার বদলে ওডিশায় মাটি ছুঁতে পারে, সে কথা আগেই জানিয়েছিল মৌসম ভবন। ইয়াস উপকূলের আরও কাছে আসতে ছবিটা যেন আরও পরিষ্কার। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে সরে পুরোপুরি বালেশ্বরও নয়, তার আরও কিছুটা দক্ষিণে বালেশ্বর ও ধামড়ার মাঝামাঝি উপকূলে আছড়ে পড়বে। বুধবার সকালেই ওড়িশা উপকূলের ধামড়া ও চাঁদবালির কাছে পৌঁছে যাবে ইয়াস। বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে চলা আজ বিকেলেই তাণ্ডব চালাবে পারাদ্বীপ এবং সাগরের মাঝ বরাবর বালেশ্বরে। এর পর তা ক্রমশ এগিয়ে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার দুপুরে বলেছিলেন, 'মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই তীব্র ঘূর্ণিঝড় আরও অনেকটা শক্তি বাড়িয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ঝড়ের দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে কলকাতার তেমন ভয় নেই।' মৌসম ভবন ও নবান্নের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের চিন্তাও পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা নিয়ে। কারণ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ শুরু হবে ভরা কোটাল। তার আগে ইয়াসের ল্যান্ডফল হয়ে গেলে তার প্রভাবে উপকূলে অতিরিক্ত জলস্ফীতি তো হবেই। আবার ইয়াস যদি সেই সময়ের মধ্যে ধামড়ায় আছড়ে না-পড়ে বাংলা-ওডিশার উপকূলের কাছাকাছি থাকে, তাতেও অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের জেরে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস তৈরি হবে, যা পূর্ণিমার কোটালের জলস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে কয়েক গুণ। আবহবিদদের ধারণা, ঝড়ের কারণে বুধবার ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এবং তা জোয়ারের জলের উচ্চতার উপর। ওডিশায় ১৮৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ইয়াসের ল্যান্ডফলের সময়ে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে প্রায় ১৪৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ ইয়াসের অবস্থান ছিল দিঘা উপকূল থেকে ২৯০ কিমি দূরে। ফলে এই দুই জেলার নিচু জমি বানভাসি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহবিদরা। নামখানা থেকে হিঙ্গলগঞ্জ- একাধিক এলাকায় মঙ্গলবারই বাঁধ উপচে বা ভেঙে জোয়ারের জল ঢুকেছে। ভাঙন কবলিত মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়ায় চিনাই নদীর বাঁধে বড়সড় ফাটল তৈরি হয়েছে, জোয়ারে নোনা জলও ব্যাপক ভাবে ঢুকেছে এলাকায়। এলাকার বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে সাইক্লোন সেন্টারে। একই ছবি ঘোড়ামারা দ্বীপের মন্দিরতলা এবং ঘাসিমারা এলাকায়। পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে প্রায় ৫ কিমি বাঁধ টপকে সমুদ্রের জল ঢুকে প্লাবিত চাষের জমি। দিঘা উপকূলে দিনভর বৃষ্টির পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই ঝোড়ো হাওয়া বইছে। জল উঠেছে তাজপুর-শঙ্করপুর মেরিন ড্রাইভের চাঁদপুর ও জামুয়া শ্যামপুর এলাকায়। তবে কলকাতার জন্য স্বস্তির বাণী থাকছে। কারণ ইয়াসের ল্যান্ডফল হতে চলেছে বালেশ্বরের দক্ষিণে, যা কলকাতা থেকে প্রায় দুশো কিলোমিটার দূরে। ফলে মহানগরে ঝড়-বৃষ্টি হলেও প্রবল দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হবে না। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের দাবি, ল্যান্ডফলের সময় কলকাতায় হাওয়ার গতিবেগ থাকবে সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তার বাইরে কলকাতাবাসী ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭০ কিমি বেগে হাওয়ার সম্মুখীন হতে পারেন, সঙ্গী হতে পারে ভারী বৃষ্টিও। তবে তা গত বছরের উম্পুনের মতো তাণ্ডব সৃষ্টি করবে না। উম্পুনের সময় আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার, দমদমে ১৩৩ কিলোমিটার/ঘণ্টা। যদিও আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই অতি ভারী বৃষ্টি হবে দুই মেদিনীপুর-সহ ঝাড়গ্রামে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ কলকাতায়। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরে ৪ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১ লক্ষের বেশি মানুষকে পাড়া-প্রতিবেশীদের নিরাপদ আশ্রয় বা বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি মানুষজনকে ত্রাণ বা আশ্রয় শিবিরে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র দিঘায় সেচ দপ্তরের বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছেন। নেমেছে সেনাবাহিনী। ঝড়ে গাছ পড়লে দ্রুত তা সরিয়ে রাস্তা খালি করার জন্য শতাধিক দল তৈরি। পশ্চিম মেদিনীপুরে দাঁতন, মোহনপুর থেকে বালেশ্বরের দূরত্ব বড়জোর ৫০ কিলোমিটার। ফলে ইয়াস বালেশ্বরের কাছে মাটি ছোঁয়ার পর বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে দাঁতন-১, দাঁতন-২, মোহনপুর, কেশিয়াড়ি-সহ আশপাশের ব্লক এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়। সে কথা মাথায় রেখেই জেলায় ১০৩৩টি রেসকিউ সেন্টার চালু করা হয়েছে। আশ্রয় শিবিরে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সুবর্ণরেখা, কংসাবতী ও শিলাবতী, রূপনারায়ণ নদীতে জল বেড়ে বন্যা হতে পারে।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3yFSrEk
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads