হোয়াটসঅ্যাপে 'বটনেট' হামলা https://ift.tt/3oHpSSi - MAS News bengali

হোয়াটসঅ্যাপে 'বটনেট' হামলা https://ift.tt/3oHpSSi

এই সময়: দক্ষিণ কলকাতার বন্দনা সাহা (নাম পরিবর্তিত) দিন দু'য়েক আগে বেঙ্গালুরু থেকে এক পরিচিতের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান। তাতে একটি ওটিপি-সহ লিঙ্ক দেওয়া ছিল। কৌতূহলবশত ওই লিঙ্কে ক্লিক করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই মহিলার পরিচিতরা তাঁকে ফোন করতে শুরু করেন। কারণ, তাঁর মোবাইল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পেয়েছেন ওই পরিচিতরা। অথচ কে পাঠাল ওই লিঙ্ক, বন্দনা জানেন না! পরে ওই মহিলা কলকাতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এবং জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই সাইবার অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল তাঁর মোবাইল। বেঙ্গালুরুর পরিচিতর মোবাইল থেকে পাঠানো যে লিঙ্কে এসেছিল তাঁর মোবাইলে, সেটাই ছিল অপরাধীদের পাতা 'ফাঁদ'। আর তাতে ক্লিক করতেই মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে অপরাধীদের হাতে। সাইবার ক্রাইমের পরিভাষায় একে বলে 'বোটনেট অ্যাটাক'। অর্থাৎ, সাইবার অপরাধীদের কারসাজিতে রোবটের মতো হয়ে যায় মোবাইল অথবা কম্পিউটার ডিভাইস। তখন ওই বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম পুরোপুরি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। সাইবার অপরাধ নিয়ে দিনরাত নাড়াচাড়া করা গোয়েন্দাদের পরামর্শ- যদি কোনও ভাবে মোবাইলে 'বোটনেট অ্যাটাক' হয়, তা হলে মোবাইলে থাকা সব তথ্যই হাতিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা। এই ধরনের অপরাধের জন্য হ্যাকাররা একটি লিঙ্ক তৈরি করে। অনেকটা ফেসবুকের লিঙ্কের মতো। স্প্যাম মেলেও লিঙ্ক পাঠায় হ্যাকাররা। আর সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই বিপদ। সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, সাইবার জগতে এই বোটনেট হামলার ফলে হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইস। এই ধরনের লিঙ্ক বানানো হ্যাকারদের কাছে কোনও বিষয়ই নয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনও খবরের লিঙ্কের মতো দেখতে হতে পারে। অথবা ব্যাঙ্ক থেকে পাঠানো কোনও এসএমএস-এর মতো লাগতে পারে।' অতি সম্প্রতি কলকাতায় এই রকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। লালবাজারে একের পর এক অভিযোগ আসছে। তদন্তে নেমে লালবাজারের সাইবার থানা জেনেছে, পারেছে, হোয়াটসঅ্যাপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেই ব্যক্তির তথ্য হাতিয়ে নিয়ে 'ব্ল্যাকমেল'-এর চেষ্টাও চলছে। সেই কারণে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মা টুইট করে হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের সতর্ক করেছেন। কোনও রকম ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করতে বারণ করেছেন। এমনকী, পরিচিতরাও যদি ওটিপি চান, তাতেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শনিবার গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, 'আমরা এখনও পর্যন্ত তিনটি ঘটনা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ যাঁরা ব্যবহারক করেন, তাঁদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।' যদিও হোয়াটসঅ্যাপের 'এন্ড টু এন্ট এনক্রিপশনে' নিরাপত্তায় তেমন কোনও গলদ মেলেনি। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করার সময়ে মোবাইলে ওটিপি আসে। তা কোনও ভাবে হ্যাক করে কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা। অথবা ওটিপি দিয়ে একটি লিঙ্ক বানিয়ে ফাঁদ পাতা হচ্ছে। বিভাস বলেন, 'কোনও অ্যাপ ইনস্টল করতে হলে ওই অ্যাপ-কোম্পানি আমাদের কাছে অনুমতি চায়। আমরা অনুমতি দিলে তবেই অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। তখন সিসটেমের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে সাইবার অপরাধীরা। কোন অ্যাপ আমরা ডাউলোড করছি বা ইনস্টল করছি, সেটাও একই ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3bL1uKa
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads