পদক্ষেপ রাজ্যপালের এক্তিয়ারে? দ্বিধাবিভক্ত সংবিধান বিশেষজ্ঞরা https://ift.tt/3fo8spD - MAS News bengali

পদক্ষেপ রাজ্যপালের এক্তিয়ারে? দ্বিধাবিভক্ত সংবিধান বিশেষজ্ঞরা https://ift.tt/3fo8spD

এই সময়, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দুই মন্ত্রী, এক বিধায়ক এবং এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছিলেন জগদীপ ধনখড়। ৯ মে দেওয়া এক মেমোয় রাজভবনের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ১৬৩ এবং ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ করতেই পারেন রাজ্যপাল। কিন্তু মন্ত্রী-বিধায়কদের গ্রেপ্তারিতে কি সত্যিই এ ভাবে অনুমোদন দিতে পারেন রাজ্যপাল? সোমবার দিনভর এই সাংবিধানিক প্রশ্নটাই ঘুরে বেড়াল বাংলা-রাজনীতির অলিন্দে। রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশ্য স্পষ্ট দাবি, 'ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের যে ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ, কলকাতা হাইকোর্ট জানতে চেয়েছিল, কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। আমাদের কাছে এ বিষয়ে সিবিআই কিছু জানতেও চায়নি। কোনও চিঠিও দেয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আমার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল হাইকোর্টে সে কথা জানিয়েও দিয়েছিলেন।... হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্যপাল যেদিন মামলার চার্জশিটে তাঁর অনুমোদন দিলেন, তখন স্পিকার ইজ ভেরি মাচ অন হিজ সিট। তখন কিন্তু আমি স্পিকার পদে কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছি। এমন নয় যে, তখন স্পিকারের চেয়ারটি খালি ছিল। এই কাজটা সম্পূর্ণ ভাবে বেআইনি হয়েছে। চার নেতা-মন্ত্রীর জামিনের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দাবি, 'যদি সংবিধানের ১৬৩ নম্বর ধারা রাজ্যপাল প্রয়োগ করতে চান, তা হলেও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। কিন্তু তিনি কারও পরামর্শ নেননি। জানুয়ারি মাসে সিবিআই অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল, উনি সেটা ড্রয়ারবন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। তার পর হঠাৎ উনি ৯ মে চার্জশিটের অনুমতি দিয়ে দিলেন। আমরা আদালতে যুক্তি দিয়েছি, এই অনুমতি বৈধ নয়। সিবিআই ব্যাকডোরে কাজটা করার চেষ্টা করছিল এবং রাজ্যপাল তাতে সায় দিচ্ছিলেন।' রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্রও বলছেন, 'রাজ্যপালের অনেক ক্ষমতা। তবে এ ভাবে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে কি না, জানা নেই। আমার প্রশ্ন, রাজ্যপাল অনুমতি দেন কী করে? এঁরা তো সবাই বিধানসভার সদস্য। তাই রাজ্যপাল এ ক্ষেত্রে যা করেছেন, তা অন্যায়। উনি বিজেপির হয়ে কাজ করে রাজ্যপাল পদের সম্মান নষ্ট করছেন।' আইনজীবী ও কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি মনে করছেন, 'এই গ্রেপ্তারি কেন্দ্রীয় সরকার ও সিবিআইয়ের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা৷ কাউকে গ্রেপ্তারির আগে তার প্রয়োজনীয়তা থাকা উচিত৷ যে রাজ্যপালের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ স্পষ্ট, এই গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে তাঁর অনুমোদনের প্রশ্ন আসছে কেন? তিনি ২০১১ সালে মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ করিয়েছিলেন কি? ২০১৬ সালের টেপের ৫ বছর পরে এই গ্রেপ্তারির অনুমোদন কেন? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভরাডুবিই কি এর মূল কারণ? রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়৷ বিচারবিভাগীয় অনাস্থা, প্রতিহিংসামূলক গ্রেপ্তারি এবং গ্রেপ্তারির সময়- সব কিছু একযোগে আছড়ে পড়ে প্রমাণ করছে সস্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা৷ মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার করা হয়েছে দ্রুত গতিতে।' লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচার্যের ব্যাখ্যা, 'গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা যেতেই পারে৷ তবে তার আগে রীতি মেনে সমন বা নোটিস জারি করার স্তরটি থাকছে৷ দ্বিতীয় বিষয় হলো, বিধানসভা গঠন হয়ে গিয়েছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে বেছে নেওয়া মন্ত্রীরা সংবিধান মেনে শপথ নিয়েছেন, তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতেও শুরু করেছেন৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের অনুমতি গ্রহণ না-করে কী ভাবে বিনা নোটিসে সিবিআই একজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে?' তাঁর সংযোজন, 'মন্ত্রী হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিধায়ক হয়েছেন, তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করার আগে বিধানসভার অধ্যক্ষকে জানাতেই হবে৷ যদি বিধানসভার গঠন না-হতো, তা হলে রাজ্যপালকে জানালেই চলত৷ সিবিআইয়ের এদিনের কার্যাবলি দেখে বারবারই মনে হয়েছে, এক অদৃশ্য শক্তির দ্বারা তারা চালিত হয়েছে। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করা যেতেই পারে৷ তা না-হলে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ থাকলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি কেন?' সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় অবশ্য এঁদের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলছেন, 'নারদ স্টিং অপারেশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চৌহদ্দির বাইরে ঘটেছিল৷ তাই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত বিধায়কদের গ্রেপ্তার করতে গেলে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়৷ বিধানসভার অধ্যক্ষ শুধু বিধানসভারই অভিভাবক, তার বাইরে ক্ষমতা প্রয়োগ করার কোনও এক্তিয়ার তাঁর নেই৷ অন্য দিকে, রাজ্যপাল গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক অভিভাবক৷ সংবিধানের ১৬৩ এবং ১৬৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার বলে রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত যে কোনও বিষয়ে তিনি নিজের অনুমোদন দিতে পারেন, না-ও পারেন৷'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3yerZBz
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads