RT-PCR-কে ফাঁকি দিয়েও স্ক্যানে পাকড়াও করোনা https://ift.tt/3tCka5D - MAS News bengali

RT-PCR-কে ফাঁকি দিয়েও স্ক্যানে পাকড়াও করোনা https://ift.tt/3tCka5D

অনির্বাণ ঘোষ হালকা জ্বর। একেবারেই মৃদু শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক তা-ও কোভিড টেস্ট করাতে বলেছিলেন প্রৌঢ়কে। RT-PCR রিপোর্ট নেগেটিভ আসে বটে। কিন্তু স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে পরের দিনই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় নাগেরবাজারের ওই ব্যাঙ্ককর্মীকে। হাই রেজোলিউশন সিটি স্ক্যানে (HRCT) চিকিৎসক নিশ্চিত হন, করোনার সংক্রমণেই ফুসফুস প্রায় সাদা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের RT-PCR পরীক্ষায় দ্বিতীয় বারও কোভিড নেগেটিভ ভদ্রলোক! চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ে কিছু শ্বাসকষ্টের রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা যে একেবারে দেখা যায়নি, তা নয়। কিন্তু এখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের () সময়ে এই নজির বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, আসলে করোনা আক্রান্ত। কিন্তু নাক ও গলা থেকে নেওয়া নমুনার (ন্যাসো-ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব) RT-PCR পরীক্ষার রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে নেগেটিভ। এ দিকে থামছে না কাশি, অথবা শুরু হয়ে গিয়েছে শ্বাসকষ্ট। এমন রোগী মোটের উপর সংখ্যায় হয়তো খুবই কম, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বড়জোর শতকরা তিন-চার জন, কিন্তু আগের বারের মতো বিরলও নয়। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, জ্বর ও তার সঙ্গে বুকে চাপ অনুভূতি, শ্বাসের অসুবিধা, একটুতেই হাঁফ ধরে যাওয়া, প্রবল কাশি ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে যে সব রোগী RT-PCR পরীক্ষা করাচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের নেগেটিভ রিপোর্ট দেখে যেন ষোলো আনা আশ্বস্ত হয়ে না-পড়েন। বরং নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্য সেই সব রোগীদের সিটি স্ক্যান করিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। রেডিয়োলজি বিশেষজ্ঞ উৎপলেন্দু দাস বলেন, 'RT-PCR টেস্টকে ফাঁকি দিলেও কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের স্ক্যান করালে, তার ছবিতে সাফ বোঝা যায় ফুসফুসের অবস্থাটা। শ্বাসযন্ত্রের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলোর জন্যই ধরা পড়ে যায়, সত্যিই রোগী করোনায় আক্রান্ত কিনা।' কিন্তু চিকিৎসকদের আক্ষেপ, অনেকেই তাঁদের পরামর্শ মেনে সিটি স্ক্যান করাচ্ছেন না। ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রেই রোগীর বাড়াবাড়ি নিউমোনিয়া হয়ে যাওয়ার পর বোঝা যাচ্ছে রোগটা। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা শুরুতে দেরি হচ্ছে, অন্য দিকে তেমনই আবার নিজেকে নেগেটিভ ভেবে অনেককে সংক্রামিত করে বসছেন আসলে পজিটিভ ওই 'RT-PCR নেগেটিভ' রোগী। তাই শ্বাসনালীর গণ্ডগোল দেখলে, অনেক চিকিৎসকই এখন RT-PCR নেগেটিভ রোগীদেরও একবার সিটি স্ক্যান করিয়ে নেওয়ারই পক্ষে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার মজুমদারের বক্তব্য, 'এমন রোগীরা সাধারণত মাঝারি থেকে বাড়াবাড়ি উপসর্গের শিকার হন। থাকে মারাত্মক কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট। ফলে চিহ্নিতকরণে খুব সমস্যা হয় না। কিন্তু মুশকিল হলো, এমন রোগীদের RT-PCR রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও উপসর্গে উন্নতি না-হলে তাঁকে যখন সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়, অনেকেই তা মেনে চলেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আসল চিকিৎসাটা যথাসময়ে শুরু হয় না।' মনে করা হচ্ছে, করোনার নয়া অবতার যে সব মিউট্যান্ট বা ডাবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন, তার জন্যই সম্ভবত এমনটা হচ্ছে। মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ সৌগত ঘোষ বলেন, 'নতুন কয়েকটি স্ট্রেনের সংক্রমণে মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, নাক-গলায় কলোনি তৈরি করছে না ভাইরাস। বরং একেবারে ফুসফুসে চলে যাচ্ছে সরাসরি। ফলে ন্যাসো-ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব নমুনার যখন আরটি-পিসিরআর পরীক্ষা করা হচ্ছে, তখন নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে।' ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ অরিন্দম কর বলেন, 'গত বছরও এমন রোগী বেশ কিছু পেয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে সংখ্যাটা বেড়েছে। সিটি স্ক্যানে তাঁদের ফুসফুসে নিউমোনিয়ার প্যাচ পাচ্ছি ভয়াবহ ভাবে। অথচ তখনও দেখছি, রোগীর RT-PCR রিপোর্ট নেগেটিভ!' তিনি জানান, শ্বাসকষ্টের বেশ কিছু রোগীর RT-PCR রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয়, সত্যিই রোগটা করোনা তো! ফুসফুসের ইমেজ আর অন্যান্য রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দেখে অবশ্য সাফ বোঝা যায়, রোগটা কোভিড ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায়ও জানাচ্ছেন, এখন এমন রোগীর সংখ্যা বেড়েছ। তবে এর নেপথ্যে ভাইরাসের চরিত্র বদল ছাড়াও অন্যান্য কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'অনেক সময়েই যথাযথ ভাবে ন্যাসো-ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব সংগ্রহ করা হয় না। অনেক সময়ে আবার সোয়াব নমুনা ঠিকঠাক সংগৃহীত হলেও হয়তো তা যথাযথ ভাবে সংরক্ষিত হয় না। সে জন্যও নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু সিটি স্ক্যানে সাফ বোঝা যায়, সংক্রমণটা হয়তো একেবারে ফুসফুসে পৌঁছে গিয়ে নিউমোনিয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছে।' ইনফো (সিটি স্ক্যানে সুবিধা) * নাম: কমপিউটেড টোমোগ্রাফি স্ক্যান * কাজ: এক্স-রে টিউব দুরন্ত গতিতে চক্রাকারে ঘোর। বিশেষ অ্যালগরিদম মেনে অসংখ্য এক্স-রে ইমেজকে জুড়ে দেয় কমপিউটার। ছবিতে বিভিন্ন টিস্যুর সূক্ষ্ম ব্যবচ্ছেদ স্পষ্ট বোঝা যায় * HRCT: সিটি স্ক্যান মেশিনেই ছবি তোলা হয় হাই রেজোলিউশনে * সুবিধা কোথায়: RT-PCR-এ কোভিড রিপোর্ট যা-ই আসুক না কেন, ভাইরাস যদি ফুসফুসে সামান্য প্রদাহও তৈরি করে, তখন HRCT-র ছবিতে সাফ ধরা পড়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাই অংশের ছোট ছোট বদলগুলো। যা দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন, সংক্রমণটা করোনার কিনা * খরচ: কলকাতায় গড়ে ১৮০০ -২৫০০ টাকা টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3sDVKYl
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads