সংক্রামিতদের অধিকাংশই আবাসনের, উদ্বেগ দক্ষিণে https://ift.tt/3xkurG3 - MAS News bengali

সংক্রামিতদের অধিকাংশই আবাসনের, উদ্বেগ দক্ষিণে https://ift.tt/3xkurG3

শ্যামগোপাল রায় দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া এলাকায় গত বুধবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। এঁদের ৩২ জনই কোনও না কোনও আবাসনের বাসিন্দা। বুধবার বালিগঞ্জে সংক্রামিত ২০ জনের ১৯ জনের ঠিকানা বহুতল। বস্তুত গত কয়েক সপ্তাহে বালিগঞ্জ, গড়িয়া, টালিগঞ্জ, ভবানীপুর, যোধপুর পার্ক, ঢাকুরিয়ায় ছবিটা একই। এই ৬ এলাকার আবাসনগুলিতে যে ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে চিন্তিত কলকাতা পুরসভা। দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় অবশ্য উত্তরে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেকটা কম। যেমন, বুধবার গড়িয়ায় ৫১ জনের আর মানিকতলা ও টালায় এলাকায় যথাক্রমে ৬ ও ৭ জনের শরীরে সংক্রমণের হদিস মিলেছে। শহরের দক্ষিণ প্রান্তের আবাসনগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও সেগুলিকে যথাযথ ভাবে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তুলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসক অংশুমান মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, 'এক একদিনে এক একটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। এরপরেও কনটেনমেন্ট জোন চালু করা না-হলে কবে হবে?' জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অরুণাভ মজুমদার বলেন, 'প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ অনেক তাড়াতাড়ি ছড়াচ্ছে। তাই কনটেনমেন্ট জোন চালু করা ভীষণ প্রয়োজন।' একই দাবিতে সরব গড়িয়া এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর চয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, 'দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের অনেকেই উপসর্গহীন। বাড়িতে থাকা এই রোগীরা অনেক সময় ৭-৮দিন পরে বেরিয়ে পড়ছেন। যার জেরে রোগ ছড়াচ্ছে। তাই দরকার কনটেনমেন্ট জোন।' এক সুর কলকাতা পুরসভার ১ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তরুণ সাহার গলায়। কেউ আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়ি বা আবাসন অবিলম্বে জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি কনটেনমেন্ট জোন চালু এবং টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন চিকিৎসক কুণাল সরকার। তাঁর কথায়, 'বর্তমানে আক্রান্তদের বেশিরভাগই উপসর্গহীন। তাই আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে যাতে চিহ্নিত করা যায়, সে কারণে টেস্ট বাড়ানো ভীষণ জরুরি।' দেখা যাচ্ছে, গত বছর ১৭ মে কলকাতায় মোট অ্যাক্টিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৭৩। কনটেনমেন্ট জোন ছিল ২২১টি। আর এখন দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার পার। তা হলে আর কীসের আলোচনা প্রয়োজন, সে প্রশ্ন তুলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পুরসভা সূত্রে খবর, নির্বাচনের কারণেই আপাতত থমকে কনটেনমেন্টের বিষয়টি। এখন টেস্ট বাড়ানো হয়েছে এবং জীবাণুনাশক প্রয়োগে পুরসভা জোর দিয়েছে বলে দাবি এক কর্তার। আবাসনে সংক্রামিতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ায় চিন্তিত বিধাননগর পুরনিগমও। ওই এলাকায় এখন দিনে ২৭০-২৮০ জন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। এঁদের ৬০ শতাংশই আবাসনের বাসিন্দা। সল্টলেকের বৈশাখী আবাসনে ১৬ জন করোনা আক্রান্ত। সেখানকার সভাপতি রাধাগোবিন্দ শীলের কথায়, 'আবাসন জুড়ে ভয়ের পরিবেশ। বিধানননগর পুরনিগম এখনও জীবাণুনাশক প্রয়োগে উদ্যোগী হয়নি। আবাসন কমিটিই তা জীবাণুমুক্ত করেছে।' কেষ্টপুরের আশাবরী আবাসনে করোনা আক্রান্ত ন'জন। তাঁদেরও অভিযোগ, আবাসন জীবাণুমুক্ত করতে পুরনিগমের হেলদোল নেই। যদিও বিধাননগরের পুর প্রশাসক দেবাশিস ঘোষের দাবি, 'কেউ আমাদের খবর দিলেই পুরকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে চলছে প্রচারও।' টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3eqYT8N
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads