Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3a1D1iW
ভোটের লাইনে বলি, মানতে পারছে না আনন্দের পরিবার https://ift.tt/3wVJSEy
এই সময়, কোচবিহার: বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন গৃহকর্ত্রী। শয্যাশায়ী গৃহকর্তাও। তবে যে চোট শরীরে লেগেছে, তা এখন আর যন্ত্রণা দিচ্ছে না। সন্তানশোক পাথর হয়ে চেপে বসেছে বুকে। কৃষক পরিবার স্বচ্ছলতা না থাকলেও, শান্তিটুকু ছিল। বড় ছেলে গোবিন্দ বর্মন BJP-র শক্তি প্রমুখ। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বরাবর দূরেই থাকতেন ছোট ছেলে আনন্দ (২১)। কিন্তু সেই রাজনীতিই প্রাণ কাড়ল ছোট ছেলেটার। শনিবার সাতসকালে শীতলকুচির পাঠানটুলি এলাকায় ৮৫ নম্বর বুথে দল বেঁধে ভোট দিতে গিয়েছিলেন গোবিন্দ ও তাঁর দলবল। সঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা ও ভাই। একসঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, হঠাৎই বুথে আক্রমণ চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দু'পক্ষের সংঘর্ষে বোমাবাজি শুরু হয়। গুলিও চলে। ভয় পেয়ে ভোট দিতে আসা জনতা দৌড়োদৌড়ি শুরু করে। তার মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আনন্দের। চোট পান বাবাও। আহত হন আরও তিন জন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাঠানটুলি এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় যায় পুলিশ, র্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। সংঘর্ষ থামাতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ঘটনায় রিটার্নিং অফিসারকে ফোন করে কমিশন। জনৈক এলাকাবাসী বলেন, 'সবে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎই তৃণমূল-BJP ঝামেলা শুরু হয়। এলোপাথাড়ি গুলি চলতে থাকে। ঘাবড়ে গিয়ে সবাই লাইন ভেঙে ছুটোছুটি শুরু করে। সেই সময় আনন্দের পিঠে গুলি লাগে।' গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনন্দকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ঘটনায় জখম এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, 'ওরা বাইকে করে ৩-৪ জন এসে বোমা মারতে শুরু করে। আমরা ভয়ে দৌড়ই। ওরা গুলি চালালে আনন্দ মারা যায়। আরও এক জনের গুলি লেগেছে। আমার এবং আরও এক জনের মাথা ফাটে।' এই ঘটনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, 'মিথ্যে অভিযোগ। এই ঘটনায় তৃণমূল জড়িত নয়। BJP-ই সন্ত্রাস চালিয়েছে। যে সব এলাকায় তৃণমূল ভালো ফল করবে, সেখানে BJP তাণ্ডব চালিয়েছে।' চোট পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন আনন্দর বাবা। ছেলের পরিণতি জানলেন যখন, স্ত্রীর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারেননি। বারবার ভেবেছেন, 'চোট তো আমারও লেগেছিল। তাহলে ছেলে কেন? খবরটা পাওয়ার পর আর জ্ঞান ফেরেনি মায়ের। সর্বত্র দারিদ্রের ছাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটায় কথা বলার লোক নেই। দু'কদম এগোলেই বাংলাদেশ সীমান্ত। কিন্তু খবর সংগ্রহের উপায় নেই। এলাকায় এতটাই ক্ষোভ জমেছে যে রীতিমতো হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে সংবাদমাধ্যমকেও। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আর স্বজন হারানোর কান্নার মিশেল জোড়াপাটকি এলাকাতেও। কোলের ছেলেটা কেঁদে চলেছে তারস্বরে। চুপ করাতেও ভুলে গিয়েছেন যেন মা। সকাল সকাল ভোট দিতে বেরিয়ে গিয়েছিল মানুষটা। খানিক আগেই খবর এসেছে, গুলিতে কেড়েছে প্রাণ। সংসারে একমাত্র রোজগেরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে এখন শোকের পাশাপাশি অনিশ্চয়তার বসত। গ্যাংটকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন মনিরুজ্জামান (২৮)। ভোট দিতেই বাড়ি এসেছিলেন তিনি। রবিবার সকালে গ্যাংটক ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কী করে যে কী হয়ে গেল, ভেবে পাচ্ছেন না পরিবারের লোকেরা। ছেলেকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা আমজাদ হোসেনের চোখে শুধুই শূন্যতা। বললেন, 'ছেলেটাকে ভোট দিতে আসতে বলাই ভুল হয়েছে। না-এলে এ ভাবে প্রাণটা খোয়াতে হত না। ছেলের বউটাকে এখন কে দেখবে?' ভোটের লাইনে পরপরই দাঁড়িয়েছিলেন মনিরুজ্জামানের আত্মীয় এক যুবক। বললেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি ঢুকতে দেখেই ভয়ে পালিয়ে যাই। মনিরুজ্জামানকে আর দেখতে পাইনি।' দেখা হল যখন, মনিরুজ্জামানের শরীর তখন প্রাণহীন। তাঁর শরীর ফুঁড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি। একই পরিস্থিতি হামিদুল মিঞার (১৯) পরিবারের। নতুন ভোটার হামিদুল খুবই উৎসাহিত ছিলেন ভোট দেবেন বলে। মাথাভাঙা কলেজের চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র হামিদুল স্বপ্ন দেখতেন, ভালো করে পড়াশোনা শিখে প্রতিষ্ঠিত হবেন। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতো গরিব পরিবারটিও। আচমকা সব স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছেন বাবা-মা। হামিদুলের দিদি সাবিনা বিবি বলেছেন, 'ভাইটাকে নিয়ে আমি ভোট দিতে গিয়েছিলাম। লাইনেই সবাই দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি করছে। ভোটের লাইন থেকে সবাই পালানোর চেষ্টা করছিল। পালানোর সময়ে গুলি খেল আমার ভাই।' নুর ইসলাম মিঞাও এ দিন ভোট দিতে গিয়েছিলেন। বুলেট ফুঁড়ে দেয় তাঁর শরীরও। আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। পেশায় দিনমজুর সামিউলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। ঘরে রয়েছেন বয়স্ক বাবা-মা। বাড়িতে ভিড় করেছেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরা। তাঁদের কাছে বারবার জানতে চাইছেন সামিউলের বাবা দিল মহম্মদ, 'কেন এমন হল? কী এমন হল যে, বাহিনী গুলি চালালো?' ভিড় বাড়তে থাকল। তখনও বিড়বিড় করে চলেছেন দিল মহম্মদ, 'আমার ছেলে কোনও রাজনীতি করত না। সে তো ভোট দিতে গিয়েছিল। তাহলে কেন?' জবাব এল না! টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3a1D1iW
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment