‘১৪ বছর কেটে গেল, দিদি কথা রাখেননি’ https://ift.tt/394X0N8 - MAS News bengali

‘১৪ বছর কেটে গেল, দিদি কথা রাখেননি’ https://ift.tt/394X0N8

শীর্ষেন্দু দেবনাথ, এই সময় ডিজিটাল এক্সক্লুসিভ খোয়া ওঠা এবড়ো খেবড়ো গলির রাস্তা ঘরে কিছুটা এগোতেই আচমকাই শাসক-বিরোধী দলের ফ্লেক্স ফেস্টুন বাড়বাড়ন্ত চোখে পড়ল। ঠিক যে জায়গায় ‘জড় পদার্থ’-গুলির দাপট সবচেয়ে বেশি তার পাশেই বাড়ি ভরত মণ্ডল, পুষ্পেন্দু মণ্ডলের। নন্দীগ্রামে () পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় শহিদ হয়েছিলেন তাঁরা। দুপুরবেলায় বাড়ির উঠোনে বসে জিরিয়ে নিচ্ছিলেন শহিদ ভরতের বাড়ির লোকজন। এগিয়ে যেতেই একরাশ বিরক্তি। সাংবাদিক অনুমান করে ভরতের স্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেই বললেন, ‘কী হবে আর কথা বলে! ১৪ বছর কেটে গেল। দিদি কথা রাখেননি। কী করেছেন আমাদের জন্য?’ কাট টু ৭ জানুয়ারি, ২০০৭। ভাঙাবেড়া ব্রিজের কাছেই গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ভরত মণ্ডল, শেখ সেলিম ও বিশ্বজিৎ মাইতিরা। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনে গুলি চালনার ঘটনায় মৃত্যু হয় একাধিকজনের। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ওই ঘটনা থেকেই বাম জমানার শেষের শুরু। ২০০৬ সালে তৎকালীন বাম সরকার নন্দীগ্রামে একটি বিজনেস হাব তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে হলদিয়া মহকুমার ১৭৪টি মৌজার মোট ৩৫,০০০ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদে প্রবল প্রতিরোধ শুরু করেন। রাতারাতি তৈরি হয় একটি সংগঠন, ‘ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি।’ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। এদিকে তৎকালীন বাম সরকারও আইনের শাসন জারি করতে তৎপর হয়ে ওঠে। আন্দোলন প্রতিরোধে মাঠে নামেন CPIM-কর্মীরাও। শাসানি, মারধরের পাশাপাশি খুনের অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। মৃত্যু বাড়ে, বাড়ে নিখোঁজের সংখ্যাও। তারপর হলদি নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। বামেদের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মা-মাটি-মানুষের সরকারেরও প্রায় ১০ বছর অতিক্রান্ত। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বেশকিছু পূরণ হয়েছে। অভিযোগ, অপ্রাপ্তির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ফ্ল্যাশব্যাক থেকে ফিরে ক্ষোভের সুরে কেউ কেউ বলছেন, ‘দিদি আমাদের জন্য কী করলেন? সেটাই আগে জানতে চাইছি।’ কথা বলে স্পষ্ট অনেকে এবার দাদা শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে। ভরতের স্ত্রী রিঙ্কু মণ্ডল বললেন, ‘প্রথমে কেউ কেউ পাশে ছিলেন। পরে অনেকে ভুলে যান। যেটুকু যা দেওয়ার দাদাই দিয়েছেন। দিদি আমার স্বামীর নাম জানেন কি না সন্দেহ!’ ভরত মণ্ডলের এক ভাই পলাশের কথায়, ‘মুখে অনেক কথাই বলেছিল। তবে আমরা দাদাকেই পাশে পেয়েছি। আমাদের সুখ দুঃখের সঙ্গী তিনি।’ আরেক শহিদ জননী সুভাষিনী মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের তো কেউ মনে রাখেনি। সেরকম সরকারি সুযোগ সুবিধাও পাইনি। খারাপ লাগে, তাই তো কারও নামও তুলতে ইচ্ছা করে না।’ নন্দীগ্রামে শহিদ পরিবারগুলির একাংশ যে তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ তা একপ্রকার স্পষ্ট। আবার এক পক্ষের কাছে যে শুভেন্দু ছিলেন নন্দীগ্রামের নয়নের মণি তিনি এখন শত্রু। জমি আন্দোলনকারীদের একটি অংশের অভিযোগ, তাঁর ইন্ধনেই আবারও তুলে আনা হয়েছে জমি আন্দোলনের মামলাগুলিকে। যার জেরে নির্বাচনের মুখে বর্তমান তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হলদিয়ার আদালতে। শহিদ পরিবারগুলিকে নিয়ে এর আগেও দড়ি টানাটানি হয়েছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, নিহতদের পরিবারগুলি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে। যদিও এর প্রভাব কতটা ব্যালট বাক্সে পড়বে তা সময়ই বলবে। টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3tPmea6
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads