করোনা টিকাকরণে প্রেরণা প্রবীণেরাই https://ift.tt/38QwJlL - MAS News bengali

করোনা টিকাকরণে প্রেরণা প্রবীণেরাই https://ift.tt/38QwJlL

অনির্বাণ ঘোষ এক দিনে পৌনে তিন লাখ ডোজ টিকাকারণ। দু'লক্ষাধিককে প্রথম ডোজ। এর মধ্যে প্রবীণ নাগরিক দেড় লক্ষেরও বেশি। বাংলায় প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ১৭ মার্চ। সে দিক থেকে অতিমারীর বর্ষপূর্তির প্রাক্‌-মুহূর্তে এবং টিকাকরণ শুরুর দু'মাসের মাথায় সোমবার তিন-তিনটি কৃতিত্ব অর্জন করল বাংলা। এর মধ্যে বয়স্কদের টিকাকরণে গতি ও সাফল্যে তৃপ্ত স্বাস্থ্যকর্তারাও। টিকায় অনীহা বা ভ্যাকসিন হেজিটেন্সির হারও প্রায় শূন্য প্রবীণদের ক্ষেত্রে। সোমবার রেকর্ড টিকাকরণের দিন দেখা গেল, মোট প্রায় ২,৭০,৫৩২ লক্ষ টিকা-প্রাপকের মধ্যে ৫৬% (১.৫০ লক্ষ) প্রবীণ। তাঁরা সকলেই প্রথম ডোজ পেয়েছেন। অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ২,০৮,৮৩১ জন। তাঁদের মধ্যে বয়স্ক ৭২%। উচ্ছ্বসিত স্বাস্থ্যকর্তারা মনে করছেন, প্রবীণদের এই দৃষ্টান্তই টিকাদানে গতি আনবে নবীনদের মধ্যেও। মঙ্গলবারও রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ১,৮৮,১৭০ জনের টিকাকরণ হয়েছে রাজ্যে। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১,৪৮,৬৫৮ জন। আর মোট হিসেবে গত ১ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২৭.৮৩ লক্ষ টিকা প্রাপকের মধ্যে ১০,৮১,৭৩০ জন ষাটোর্ধ্ব। দেশে করোনার সার্বিক টিকাকরণ মঙ্গলবার দু'মাস পেরোলেও চিকিৎসাকর্মী কিংবা পুলিশ-পুরকর্মীদের মতো কোভিড যোদ্ধাদের মধ্যে অল্প হলেও এখনও রয়ে গিয়েছে ভ্যাকসিন হেজিটেন্সি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভোটকর্মীদের টিকাকরণেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু বয়স্কদের টিকাকরণ দু'সপ্তাহ পেরোনোর আগেই দেখা যাচ্ছে, ব্যাপক সাড়া মিলছে। লম্বা পথ উজিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বয়স্কদের এ ভাবে টিকা নিতে দেখে আনন্দিত স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলছেন, 'দ্বিতীয় ঢেউ এলেও ঝুঁকিপূর্ণ বয়সের এই মানুষজনের সিংহভাগকেই মনে হচ্ছে বাঁচিয়ে নিতে পারব। অসংখ্য প্রাণরক্ষা হবে।' কেন এই উৎসাহ? অধিকর্তার ব্যাখ্যা, 'সচেতনতা বড় কারণ। কম বয়সিদের মধ্যে করোনায় ভুগলেও যেহেতু মৃত্যুহার কম, তাই তাঁরা অনেক বেপরোয়া। কিন্তু বয়স্করা দেখেছেন, কোভিডের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার পর বাঁচা-মরা অনেকটাই নির্ভর করে বয়স ও কো-মর্বিডিটির উপরে। ষাটোর্ধ্বদের সিংহভাগই যেহেতু কোনও না কোন কো-মর্বিডিটির শিকার, তাই তাঁরা ঝুঁকি নিতে নারাজ।' তিনি জানান, সে জন্যই কম বয়সিদের মধ্যে অনেকে ভ্যাকসিনের নানা সীমবদ্ধতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলে যেখানে পিছিয়ে আসছেন, সেখানে বয়স্করা বুঝতে পারছেন, এই টিকাই রক্ষাকবচ। স্বাস্থ্যভবনের পদস্থ আমলা-আধিকারিকরা মনে করছেন, কো-উইন পোর্টালের গতিবৃদ্ধির পাশাপাশি বয়স্কদের উৎসাহে সঙ্গত করছে অন-সাইট ওয়াক-ইন ভ্যাকসিনেশনের বন্দোবস্তও। কো-উইনে নাম তোলার ঝঞ্ঝাটে কমই যাচ্ছেন বয়স্করা। বরং সচিত্র পরিচয়পত্র নিয়ে সশরীরে পৌঁছে যাচ্ছেন টিকাকেন্দ্রে। সরকারি টিকাকরণের সঙ্গে যুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুই যোগ করছেন, 'কম বয়সিদের তুলনায় বয়স্করা চিকিৎসকের সান্নিধ্য ও যোগাযোগে থাকেন বেশি। প্রবীণরা যখন চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসা করছেন টিকা নেওয়ার ব্যাপারে, তখন সব চিকিৎসকই টিকার পক্ষে বলছেন। ফলে কম বয়সিদের চেয়ে অনেক বেশি আস্থা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে টিকা নিতে যাচ্ছেন প্রবীণরা।' বার্ধক্যরোগ বিশেষজ্ঞ ধীরেশ চৌধুরী সংযোজন, 'বাঁচবো, দ্যুতি, ডিগনিটি ফাউন্ডেশনের মতো বয়স্কদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন উদ্যোগী হয়ে প্রবীণদের নাম নথিভুক্তিকরণ থেকে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, সবই করছে। এতে খুব সুবিধা হচ্ছে প্রবীণদের।' অনেক চিকিৎসক মনে করছেন, টিকার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেহেতু বয়স্কদের অনেক কম হয় তরুণ বা মধ্যবয়সিদের তুলনায়, তাই ভ্যাকসিন নিয়ে তাঁদের মনে নেতিবাচকতা কম। সেটাও সাফল্যের বড় কারণ। টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3rVnacI
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads