জুনেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিখরে বঙ্গ? https://ift.tt/2PfQpby - MAS News bengali

জুনেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিখরে বঙ্গ? https://ift.tt/2PfQpby

এই সময়: তখন সদ্য লকডাউন উঠেছে। ২০২০-র জুনের সেই আনলক পর্বের গোড়ার দিনগুলোয় গুচ্ছ বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য ছিল সকলে। তখন বাংলায় রোজ গড়ে ৩৫০-৪০০ জন নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলত। কাট টু মার্চ ২০২১। এখনও গড়ে ৩৭০-৩৮০ জন কোভিড আক্রান্তের খোঁজ মিলছে রোজ। শনিবারও ৩৮৩ জন করোনা পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছেন রাজ্যে। অথচ শিকেয় করোনা বিধি! বাদুড়ঝোলা ট্রেনে-বাসে সিংহভাগ লোকই হয় মাস্কবিহীন অথবা নাক-মুখের মাস্ক ঝুলছে থুতনিতে। স্কুল-কলেজ বাদ দিলে মোটামুটি সব কিছু খোলা একেবারে প্রাক-করোনা পর্বের দিনগুলোর মতোই। চিকিৎসকদের আক্ষেপ, সাধারণ মানুষ ভুলেই গিয়েছে যে হাজারো বিধিনিষেধ মেনেও গত বছর জুনের সেই দৈনিক ৪০০ আক্রান্তের ছবিটা অক্টোবরে বদলে গিয়েছিল দৈনিক ৪,০০০-এ। গত পাঁচ সপ্তাহে বাংলায় দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পরেও টনক নড়ছে না কারও! ফলে বাংলায় দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়া এবং মাস তিনেকের মাথায় সেই গ্রাফের শিখর ছোঁয়ার সিঁদুরে মেঘ দেখে তটস্থ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে দৈনিক ফের হাজার চারেক করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তাদের। স্বাস্থ্যভবনের জনস্বাস্থ্য শাখার অফিসারদের আশঙ্কা, বাংলায় ভোটপর্ব মেটার পরই ফের সেই সময়টা চলে আসবে যখন গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীদের ভিড়ে আবার উপচে পড়বে কোভিড হাসপাতালগুলো, আইসিইউ-তেও শুরু হবে বেডের আকাল। কেন এমন আশঙ্কা? সরকারি কোভিড টিকাকরণের সঙ্গে যুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুইয়ের ব্যাখ্যা, বর্তমানে সারা দেশে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজারের কিছু বেশি করোনা রোগী চিহ্নিত হচ্ছেন। ঠিক সমসংখ্যক রোগী রোজ দেখা যেত গত বছর জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে। আর তার ঠিক দু'মাসের মাথায় ৯০ হাজারের আশপাশে করোনা রোগী মিলতে শুরু করে দেশে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রোগীর (৯৭,৮৬০ জন) খোঁজ মেলে। ঠিক তার এক মাস ছ'দিনের মাথায় (২২ অক্টোবর) একদিনে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত (৪,১৫৭) চিহ্নিত হয় বাংলাতেও। অনির্বাণের কথায়, 'প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতাই বলছে, বর্তমানে যা দেশের পরিস্থিতি, সেই অবস্থায় পৌঁছাতে এ রাজ্যের আর মাস খানেক সময় লাগবে। আর তার দু'মাসের মাথায় শিখর ছুঁয়ে ফেলবে রাজ্যের করোনা-লেখচিত্র।' যদিও মহামারী বিশেষজ্ঞ, নাইসেডের এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান দীপিকা শূরের মতে, এতটা সময়ও লাগবে না। দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিখর হয়তো আরও দ্রুতই ছুঁয়ে ফেলবে বাংলা। তিনি বলেন, 'এর কারণ দ্বিবিধ। প্রথমত, ভোটের বাজার, যেখানে রাজ্যজোড়া নির্বাচনী মিটিং-মিছিল-সমাবেশে মাস্কের বালাই নেই। আর দ্বিতীয়ত, আমজনতার দৈনন্দিন অভ্যাসে করোনা বিধি শিকেয় উঠে যাওয়া।' তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রথম ঢেউয়ের সময়ে এগুলোর কোনওটাই কিন্তু ছিল না। তাও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছিল দ্রুত গতিতে। একবার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির গতি হবে আরও অনেক দ্রুততর। 'ফলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় মাস্কের চেয়ে বড় অস্ত্র আর দ্বিতীয়টি নেই,' সতর্ক করছেন আর এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের প্রাক্তন অধিকর্তা গিরীশকুমার পাণ্ডে। তাঁর মতে, দৈনিক টেস্টের সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ করে পজিটিভ চিহ্নিতকরণ বাড়ানো এবং করোনা রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানোর সেই সনাতন পন্থা অবলম্বন না-করলে বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য। তবে আশার আলোও আছে। গিরীশের আশ্বাস, 'বয়স্ক ও অসুস্থ প্রৌঢ়দের টিকাকরণ চলছে। এঁরাই করোনার সবচেয়ে সহজ শিকার। এই মানুষগুলো টিকার কল্যাণে সুরক্ষিত হয়ে গেলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো যাবে। সঙ্কটকালে এটাই একমাত্র আশার কথা।' টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3r9mbo6
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads