মঙ্গলে পা রাখল ল্যান্ডার, প্রাণের সন্ধান শুরুর পথে https://ift.tt/3s7BbDR - MAS News bengali

মঙ্গলে পা রাখল ল্যান্ডার, প্রাণের সন্ধান শুরুর পথে https://ift.tt/3s7BbDR

সুদীপ্ত তরফদার 'কনফার্মড...কনফার্মড। পার্সিভিয়ারেন্স টেকস প্লেস অন সারফেস অফ মার্স...' পাসাডেনার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরিতে মিশন অপারেশনস সেন্টারে টানা তিরিশ ঘণ্টা নিজের সিটে বসে থাকার পরেও প্যাশন, আবেগ আর উত্তেজনা স্পষ্ট ধরা পড়েছিল স্বাতী মোহনের গলায়। পার্সিভিয়ারেন্স-এর ফ্লাইট কন্ট্রোলের দায়িত্বের পুরোভাগে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্বাতী মোহন। তিনি একাই নন। নাসার এই সাফল্য, এই ইতিহাসের শরিক হলেন আরও বেশ কয়েকজন ভারতীয় এবং বঙ্গসন্তানও। লক্ষ্য ছিল মঙ্গলের বুকে জেঝেরো ক্রেটারে নামা। ২০৩ দিন আগে করোনা-ভরা পৃথিবীকে টা-টা করে ৪৭ কোটি কিলোমিটারের দূরে লাল গ্রহের পথে রওনা দিয়েছিল নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার। এ যাবৎ তাদের তৈরি সর্বাধুনিক রোভার বলে যাকে দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। পরের কথা পরে। সবার আগে চিন্তা ছিল এন্ট্রি-ডিসেন্ট এবং ল্যান্ডিং বা ইডিএল পর্যায় সফল ভাবে সম্পন্ন করা। আগেও মঙ্গলে ৮টি সফল অবতরণের পরে নবমটি নিয়ে তা হলে এত কেন চিন্তিত ছিল নাসা? আসলে গত ৮ বছর ধরে প্রতিদিন একটু একটু করে পার্সিভিয়ারেন্স মিশন এবং তার যন্ত্রাংশগুলিকে নিখুঁত করে তোলার কাজে মেতে ছিলেন প্রত্যক্ষ ভাবে হাজার দেড়েক এবং পরোক্ষ ভাবে আরও প্রায় হাজার চারেক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ। তাও অজানা বিপদ যে সব সময়েই থেকে যায় ইডিএল পর্যায়ের সময়! ১০ ফুট X ৯ ফুট X ৭ ফুটের ১,০২৫ কেজির রোভারকে মঙ্গলে নামানো কতটা শক্ত ছিল? পার্সিভিয়ারেন্স-এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার জন ম্যাকনামি টাচডাউনের পরে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে দুটো উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়েছেন। ১৮,০০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা বেগে ছুটছিল পার্সিভিয়ারেন্স, যে গতি ক্যালিবার ৫.৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে ছোড়া বুলেটের গতির ছ'গুণের সমান। মঙ্গলের মাটিতে কন্ট্রোলড কলিশনের আগে সেই গতিকে সাত মিনিটে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা (পরিভাষায় 'সেভেন মিনিটস অফ টেরর' বা আতঙ্কের ৭ মিনিট) ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়টা আরও কঠিন। ম্যাকনামির কথায়, ৪৭ কোটি কিলোমিটার দূরের মঙ্গলে ৭.৬৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের জেঝেরো ক্রেটারে ল্যাটিচিউড লঙ্গিচিউড মেপে পার্সিভিয়ারেন্স নামানো আর হোয়াইট হাউস থেকে একটি ডার্ট ছুড়ে ২,২০০ কিলোমিটার দূরে ডালাসে থাকা বুলস আই-এ ঠিক নিশানা লাগানো, একই রকম শক্ত কাজ ছিল। তো সেই আপাত অসম্ভব কাজ সাফল্যের সঙ্গে সেরে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এটি মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে চালানো প্রস্তাবিত ৩টি মিশনের মধ্যে প্রথম মিশনের প্রথম ধাপ। যেখানে প্রথমবার মঙ্গল থেকে তার মাটির উপাদান পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রকল্প হাতে নিয়েছে নাসা। তবে পার্সিভিয়ারেন্স থেকেই মঙ্গলে প্রাণ থাকার পাকাপোক্ত সন্ধান মিলবে, এ আশা না-করাই ভালো, এমন কথাও বলছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। পেটের মধ্যে বয়ে নিয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ দিয়ে চলার পথে গর্ত করে, সেখান থেকে মাটি-পাথর-ধূলিকণা সংগ্রহ করবে রোভার। বিশেষ উপায়ে যা সে ভরে ফেলবে সঙ্গে থাকা অত্যাধুনিক টিউবে। নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির পাঠানো পরবর্তী রোভার-ল্যান্ডার আগামী দিনে মঙ্গলে নেমে পার্সিভিয়ারেন্স-এর চলার পথ খুঁজে নিয়ে সেই পথেই চলে, কুড়িয়ে নেবে সেই সব টিউব। যা রিটার্ন রোভারে পৃথিবীতে ফেরত আসবে ২০৩০ সাল নাগাদ। বাস্তবিক পক্ষে তখন শুরু হবে আসল প্রাণের সন্ধান। নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট গৌতম চট্টোপাধ্যায় সেই ২০১৩ সাল থেকে এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত। টাইগার টিম অফ এক্সপার্ট-এর সদস্য হিসেবে ল্যান্ডিং রেডার এবং ইনজেনুয়িনিটি ফ্লাইং রোভার, যা প্রথমবার মানুষের ওড়ানো যন্ত্র মঙ্গলপৃষ্ঠে, তৈরিতে এই প্রজেক্টে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাঁর। ক্যালিফোর্নিয়ায় এ দিন ফোনে ধরা হলে সাফল্যের খুশির ঝলক পাওয়া গেল তাঁর গলায়। তাঁর কথায়, 'প্রাণের সন্ধান থাকলে, তা কবে থেকে ছিল, বা আদৌ ছিল কি না, সেই প্রাণের সৃষ্টির উৎস বা ধ্বংসের কারণ, এই সব নিয়ে পরীক্ষা সবে শুরুর পথে। ২০২৬ এবং ২০৩০-এর পরের দুটো অভিযান তাতে নির্দিষ্ট ভাবে আলো ফেলতে পারবে, মঙ্গলের উপাদান আমাদের হাতে আসার পর। বিজ্ঞানের ঝুলি কাঁধে এখন সবে যাত্রা শুরু রোভারের। আমাদের অস্ত্র- পার্সিভিয়ারেন্স!' এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড।।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3shhh9D
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads