ধনখড়ের কথায় ক্ষোভ তৃণমূলে, প্রশ্নে নিরপেক্ষতা https://ift.tt/3s7BgaD - MAS News bengali

ধনখড়ের কথায় ক্ষোভ তৃণমূলে, প্রশ্নে নিরপেক্ষতা https://ift.tt/3s7BgaD

এই সময়, বোলপুর ও কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় চূড়ান্ত ভাবে রাজনৈতিক বার্তা শোনা গেল রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের গলায়। শুক্রবার বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পর স্বাধীনতা আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের কথা তুলে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের মন্তব্য, 'স্বাধীনতার ৭৫ বছরে পরিবর্তন আসা উচিত।' রাজ্যপালের দাবি, এই মুহূর্তে গোটা দেশ এগিয়ে চলেছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই রাজ্যে 'পরিবর্তন' আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন ধনখড়। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যপাল এ ভাবে আসলে গেরুয়া শিবিরের পক্ষেই সওয়াল করছেন। ধনখড়ের মন্তব্যের পর রাজ্যপালের পদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এদিন বাঙালির আবেগে ঘা দেওয়ার চেষ্টা করে রাজ্যপাল বলেন, '২০২১-এ স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি। স্বাধীনতার সময় পশ্চিমবঙ্গ কোন শিখরে ছিল। কত উদ্যোগ ছিল। দেশের জন্য কত অবদান ছিল। কিন্তু দশকের পর দশক তা ক্রমশ নেমেছে। ভাবুন, কেন এমন হল? কী কারণে হল? স্বাধীনতার ৭৫ বছরে পরিবর্তন আসা উচিত।' কেন তিনি এই মন্তব্য করলেন, তা বোঝাতে গিয়ে ধনখড়ের ব্যাখ্যা, 'পশ্চিমবঙ্গের শিখরে যাওয়া উচিত। পুঁজি এবং শিল্পের এই রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া বন্ধ হওয়া উচিত। ক্ষুদ্র ভাবনা এবং নেতিবাচক মানসিকতা দিয়ে কখনওই কোনও কার্যসিদ্ধি হয় না। দেশ কত ব্যাপক এবং মৌলিক ভাবে বদলেছে। গোটা দুনিয়ায় আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে। এটা ভাবতে হবে।' এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, 'ধনখড়ের পদমর্যাদা বোধ নেই, সম্মানবোধ নেই। ওই পদে বসে কী বলা উচিত আর কী বলা উচিত নয়, সেটা ভুলে গেলে চলে না।' তাঁর অভিযোগ, 'উনি ওঁর বিজেপি মনিবদের খুশি করা চেষ্টা করছেন।' কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আইনজীবী অরুণাভ ঘোষও। তিনি বলেন, 'শুনেছি, আমাদের রাজ্যপাল পেশায় আইনজীবী। তা যদি হয়ে থাকে, তবে উনি আইনজীবীদের কলঙ্ক। রাজ্যপাল কেন, কোনও পদে থেকেই কেউ এ ভাবে নিরপেক্ষতা জলাঞ্জলি দিতে পারেন না।' অরুণাভর দাবি, ভোট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে ভোটপর্ব না-মেটা পর্যন্ত রাজ্যপাল যেন কোনও পক্ষ না-নেন, তা নিশ্চিত করা। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য আবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন অন্য ভাবে। তিনি রাজভবনের মুখপাত্র নন, এ কথা বলে শমীকের বিশ্লেষণ, 'উনি (রাজ্যপাল) তো ঠিকই বলেছেন। আমরা গতানুগতিক ভাবে কিছু জিনিসকে দেখি। উনি তো সরকারের পরিবর্তনের কথা বলেননি। সর্বস্তরে চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সামগ্রিক ভাবে আধুনিক পরিবর্তন আসা উচিত। একে রাজনৈতিক চোখে দেখাটা উচিত হবে না।' ধনখড় কিন্তু শুধু 'পরিবর্তন'-এর ডাক দিয়েই থামেননি। ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, 'রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সবাই জানে, কিন্তু কেউ ভয়ে বলতে পারে না। রক্তপাতহীন, নির্ভীক ভাবে ভোট হোক, এটা চাই।' এই সূত্রে প্রশাসনিক কর্তাদেরও রাজ্যপালের হুঁশিয়ারি, 'যে আইন হাতে নেবে, সে পুলিশ বা প্রশাসন যেই হোক সে ছাড় পাবে না। আমি ওঁদের বলছি, আপনাদের কাজ রাজনীতি করা কাজ নয়। আমি জানি, যখন গাছ পড়বে তখন ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই সাবধান করে দিচ্ছি। আইনের উপরে রাজ্যপালও নন। যে আইন নিয়ে খেলবে, সে আসলে আগুন নিয়ে খেলবে।' সরকারি কর্মচারীদেরও ফের একবার রাজনীতি না-করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল। কিন্তু আপনার যদি মনে হয় রাজ্যের পরিবেশ এমনই, তা নিয়ে কি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন? বৃহস্পতিবারও তো রাজভবনে আপনাদের দেখা হয়েছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যা আলোচনা করেছি তা কখনও প্রকাশ্যে আনিনি। উনিও আনেননি।' এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3azlijC
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads