হাথরস ধর্ষণ মামলা: সিবিআই তদন্তে আস্থা নেই ধর্ষিতার পরিবারের https://ift.tt/36wfZjq - MAS News bengali

হাথরস ধর্ষণ মামলা: সিবিআই তদন্তে আস্থা নেই ধর্ষিতার পরিবারের https://ift.tt/36wfZjq

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, সিবিআইয়ের তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না হাথরসের নির্যাতিতার পরিবার। শনিবার প্রিয়াঙ্কা ও হাথরসে গিয়ে দলিত কন্যার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এর অব্যবহিত পরেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দফতর থেকে এক ট্যুইট বার্তায় জানানো হয়, সিবিআইয়ের হাতে গণধর্ষণ মামলা তুলে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্ত খুশি করতে পারেনি দলিত পরিবারটিকে। মৃত তরুণীর ভাই বলেন, 'আমরা তো সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা বলিনি। সিট তো তদন্ত শুরু করে দিয়েছিল। তা হলে আবার কেন?' স্পষ্ট করে ভেঙে না-বললেও হাবেভাবে নির্যাতিতার ভাই বুঝিয়ে দিয়েছেন, সিবিআইয়ে তাঁরা আস্থা দেখাতে পারছেন না। যোগী সরকারের শনিবার (৩ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে কংগ্রেস নেত্রী বড্রা () হাথরসের গণধর্ষিতা তরুণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেসময় একটি নিউজ চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, 'আমরা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।' সেইসঙ্গে হাথরসের জেলাশাসকের অপসারণ কথাও বলেন। হাথরসের জেলাশাসকের বিরুদ্ধে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জেলাশাসক ঘটনার বয়ান বদলাতে পরিবারটিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। জেলাশাসকের হুঁশিয়ারি, 'মিডিয়া কিন্তু সবসময় এ ভাবে থাকবে না। তাঁরাই এখানে থাকবেন। ফলে...।' হাথরসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। রাহুল বলেন, 'দুনিয়ার কোনও শক্তি এই পরিবারের কণ্ঠ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।' প্রিয়াঙ্কার সংযোজন, 'পরিবারটি শেষবারের মতো তাঁদের মেয়েকে দেখতে পায়নি। পুলিশ জোর করে দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দায়িত্ব বোঝা উচিত। মৃত তরুণী ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।' আরও পড়ুন: হাথরসের দলিত তরুণীর ধর্ষণ মামলার তদন্তে গত বুধবারই তিনি তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিলেন। তদন্ত শেষ করে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সিটকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রাথমিক একটি রিপোর্টও জমা দেয় সিট। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে হাথরসের পুলিশ সুপার, ডেপুটি পুলিশসুপার-সহ একাধিক পুলিশকর্তাকে তিনি সাসপেন্ড করেন। কিন্তু, হাথরস নিয়ে চারপাশ থেকে যে ভাবে চাপ আসছিল, তার জেরে শনিবার তিনি সিবিআইয়ের হাতে চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলা হস্তান্তর করার কথা জানান। আরও পড়ুন: হাথরসের ঘটনায় প্রথম থেকেই রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ দোষীদের আড়াল করতে চাইছে বলে নানা তরফে অভিযোগ করা হয়। গত মঙ্গলবার, ধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যুর পর পুলিশ রাতের অন্ধকারে যে ভাবে তড়িঘড়ি মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়, তাতে সন্দেহ আরও জোরদার হয়। তরুণীর সত্‍‌কারে পরিবারের অনুমতি নেওয়া তো দূর অস্ত, তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যকে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। সারারাত তাঁদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়। স্বভাবতই পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানান। ইতিমধ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে রাজ্য পুলিশের বড়কর্তাদের তলব করেছেন। আরও পড়ুন: রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী উমা ভারতীও। স্পষ্টতই তিনি বলেছেন, হাথরসের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা সন্দেহজনক। তিনি এ-ও বলেন, পুলিশের কার্যকলাপের কারণে উত্তরপ্রদেশ সরকারেরব পাশাপাশি বিজেপির ভাবমূর্তিও কলঙ্কিত হয়েছে। কেন পুলিশ গোটা গ্রাম ঘিরে রেখেছে, কেন নির্যাতিতার পরিবারকে পুলিশ নজরবন্দি করে রেখেছে, কাউকে সেখানে যেতে দিচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমা। যোগীর কাছে আর্জি জানান, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের সেখানে যেতে দেওয়া হোক। এ ভাবে তাঁদের বাধা দিলে, লোকের মনে সন্দেহ আরও বাড়তে। বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী এ-ও জানান, তিনি সুস্থ থাকলে নিজেও যেতেন হাথরসে। ওই দলিত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3niBhGS
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads