আজ শনতর ভট? সবই তদর ইচছ https://ift.tt/8Q3EKVW - MAS News bengali

আজ শনতর ভট? সবই তদর ইচছ https://ift.tt/8Q3EKVW

এই সময়: চলেছে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা। বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। রাজনৈতিক দলগুলির তরজায় গত একমাস সরগরম হয়েছে বঙ্গ-রাজনীতি ও একাধিক বাংলা চ্যানেলের স্টুডিও। সব কিছু পেরিয়ে আজ, শনিবার চূড়ান্ত পরীক্ষা- পঞ্চায়েত নির্বাচন। কতটা নির্বিঘ্নে হবে এ বারের গ্রামবাংলার ভোট? পঞ্চায়েত ভোটের দিন সন্ত্রাসের চেনা ছবিটা কি এ বার পাল্টাবে? কে জিতবে, কে হারবের থেকেও অনেক বড় প্রশ্ন, ভোট কি শান্তিতে হবে? আপাতত সে দিকেই নজর সবার। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ-শাসক, বিরোধী, রাজ্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, এমনকী রাজভবনের কাছেও এই মুহূর্তে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ, নির্বিঘ্নে পঞ্চায়েত ভোট করে দেখিয়ে দেওয়া যে, বদলাচ্ছে বাংলা। ভোট হিংসায় এখন পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১৮ জনের। রাজনৈতিক সন্ত্রাসে আগুন জ্বলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় আর মুর্শিদাবাদের ডোমকল সমেত রাজ্যের নানা দিকেই। ভোটের আগের দিনও ইসলামপুর থানা এলাকার রানিনগরে অরবিন্দ মণ্ডল (৬৫) নামে এক কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও বর্ধমান-সহ একাধিক জেলা থেকে গন্ডগোলের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে দড়ি টানটানি শুধু শাসক-বিরোধীর মধ্যেই ঘুরপাক খায়নি, জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত কোর্টের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এ বারের হচ্ছে। রাজ্যে ৬১ হাজার বুথের মধ্যে কতগুলি স্পর্শকাতর? তার কতগুলিতে শোনা যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভারী বুটের শব্দ? রাজ্য পুলিশের ভূমিকাই বা কী হবে ভোটের দিন? এ সব প্রশ্ন তো থাকছেই, কিন্তু সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছা। নির্বিঘ্নে ভোট করাতে তারা কতটা বদ্ধপরিকর? কারণ, রাজনৈতিক দলগুলি যদি ভোটের দিন ঐক্যবদ্ধ ভাবে শান্তি বজায় রাখতে চায়, তা হলে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য- কোনও বাহিনী ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোট সম্ভব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উল্টোটাও একই ভাবে সত্যি। অর্থাৎ, রাজনৈতিক নেতারা না চাইলে হাজার কেন্দ্রীয় পুলিশও শান্তিতে ভোট করাতে পারবে না। আজ, শনিবার তাই তাঁদের ভূমিকার উপরেই নির্ভর করছে সন্ত্রাসমুক্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন বাংলার মানুষ দেখবে কি না। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বারবার নির্বিঘ্নে ভোট করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও একইসঙ্গে তিনি এবং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রশ্নে বিরোধীদের ভূমিকার কথাও। শুধু শাসকের সদিচ্ছা থাকলেই যে ভোটে আশান্তি এড়ানো যায় না, সে কথা নির্বাচনী সভাগুলিতে তাঁদের বারংবার বলতে শোনা গিয়েছে। ভোট প্রচারের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও অভিষেক রক্তপাতহীন ভোটের বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, 'আমরা সবাই চাই নির্বাচন মৃত্যুহীন, রক্তপাতহীন হোক। বারবার এ কথা আমরা বলেছি। সন্ত্রাস-সংস্কৃতির ইতি হোক বাংলায়। এটা আমরা আন্তরিক ভাবে চাই। আমরা চেষ্টাও করেছি তার জন্য।' পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে এ বছর কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে ঠিকই। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, অতীতের বছরগুলির তুলনায় তা কম। এমনকী, ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যে পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছিল, এ বছর তার সিকিভাগও পড়েনি। গত পঞ্চায়েতে ৩০ শতাংশের বেশি আসনে বিরোধীরা মনোনয়নই জমা দিয়ে পারেনি। এ বছরের ছবিটা পুরোপুরি ভিন্ন। বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকা ছাড়া বেশিরভাগ জায়গাতেই বিরোধীরা নির্বিঘ্নে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিজেপি নেতারাও দলের অন্দরে সে কথা কবুল করেন। অতীতের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই ফারাক তৃণমূল ভোট-প্রচারেও তুলে ধরেছে। দলের নবজোয়ার যাত্রায় বেরিয়ে অভিষেককেও বলতে শোনা গিয়েছে, 'অতীতের নির্বাচনে শ'য়ে শ'য়ে লোক মারা গিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন, এই ভোট-সংস্কৃতির ইতি তো তৃণমূল টেনেছে। কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেগুলি না ঘটলেই ভালো হতো। পরবর্তীকালের ভোটে যাতে একজন মানুষও মারা না যান, সেটা আমরা সুনিশ্চিত করবই।' তৃণমূলের একাংশের মতে, সাধারণ মানুষ তৃণমূল সম্পর্কে কী ভাবছে, সেটা যাচাই করার জন্যও পঞ্চায়েত নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন, বিশেষত ২০১৮-র অভিজ্ঞতার নিরিখে। বিষয়টি অস্বীকার করেন না অভিষেকও। তিনিও একাধিকবার প্রকাশ্যেই বলেছেন, 'তৃণমূলের জনপ্রিয়তা মাপার মাপকাঠি হচ্ছে নির্বাচন। আমি সে কারণে নির্বাচন চাই।'রাজ্য প্রশাসন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস এবং তৃণমূলের নির্বিঘ্নে ভোটের পক্ষে জোরালো যুক্তির পরও কিন্তু সন্দিহান বিরোধীরা। তাঁরা বল ঠেলছেন শাসকদলের কোর্টেই। বিরোধীদের যুক্তি, ভোট নির্বিঘ্নে হবে কি না, সেটা পুরোপুরি নির্ভর করছে তৃণমূলের রণকৌশলের উপরেই। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'তৃণমূল বহিরগতদের দিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা করলে প্রতিরোধ হবেই। আমরা জানি না, কী হতে চলেছে।' সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায়, 'আমরা চাই নির্বিঘ্নে ভোট হোক। কিন্তু তৃণমূল সেটা চায় না। ওরা জায়গায় গন্ডগোল বাধাবে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।' এ দিন ইসলামপুরে দলীয় কর্মী খুন হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্য পুলিশের উপর তাঁর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসমুক্ত পঞ্চায়েত ভোটের লক্ষ্যে আজ কত ধাপ এগোতে পারে বাংলা।


from Bengali News, আজকের বাংলা খবর, News in Bangla, Bengali News Live Today, বাংলা সংবাদ https://ift.tt/QJLrAqU
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads