হাসপাতাল থেকে হঠাৎ ফোন! ৫ বছর আগে নিখোঁজ ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা https://ift.tt/6qGXSgN - MAS News bengali

হাসপাতাল থেকে হঠাৎ ফোন! ৫ বছর আগে নিখোঁজ ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা https://ift.tt/6qGXSgN

: পাঁচ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেল পরিবার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর এলাকার ঘটনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কর্নাটকের মাইসোর থেকে বাড়ি এসে পৌঁছয় তয়ন সিং (২৭)। দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে চোখের জল বাঁধ মানেনি বাবা মা-র৷ এদিকে দীর্ঘদিন পর বাড়ি এলেও মানসিক ভাবে সুস্থ নয় তয়ন। মাইসোরের চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধেই চলছে চিকিৎসা। তবে কত দিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন তা নিয়ে ধন্দে পরিবার। আর্থিক অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। পরিবারে বাবা দাদাদের পাশাপাশি মা রয়েছেন। যিনি চোখে দেখতে পান না। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন পরিবার। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে কৃষ্ণপুরের তয়ন সিং ওরফে তরুন সিং ভিন রাজ্যে কাজের জন্য সেকেন্দ্রাবাদে যান। সেই সময় সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল তয়ন। এদিকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার কিছু দিন পরই হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় সে৷ তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ মেলেনি৷ এদিকে ছেলে নিখোঁজের খবর পেয়েই ওই এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর করেন বাবা ধীরেন সিং। কিন্তু কোনও কিছু করেও ছেলের খোঁজ পাননি। এরপর এক দুই করতে কেটেছে পাঁচ পাঁচটি বছর৷ ছেলের আর কোনও খোঁজ মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ না পাওয়ায় ছেলের খুঁজে পাবেন সেই আসা একরকমই ছেড়েই দিয়েছিলেন পরিবার। অবশেষে গত মাসের তিন তারিখে মাইসোর এইচডি কোর্ট এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে তিনি চিঠি পান। যাতে ছেলের ছবি দিয়ে সে কোথায় আছে তা উল্লেখ করা আছে। ছেলে বেঁচে আছে জানতে পেরেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় পরিবার। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত মাসের ২৩ তারিখ মাইসোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বাবা ধীরেন সিং। হাসপাতাল থেকে ছেলেকে নিয়ে এদিন সকালে বাড়ি আসেন বাবা। এদিকে ছেলে বাড়ি ফিরলেও এখন সে পুরোপুরি সুস্থ নয় বলেই জানা গিয়েছে। এদিকে গ্রামে তয়ন আসতেই সকলে তাকে দেখতে আসেন। এই বিষয়ে তয়নের বাবা ধীরেন সিং বলেন, “ছেলে ভিন রাজ্যে কাজের জন্য যাওয়ার পর হারিয়ে যায়। এর পর মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করানো হয়। এদিকে প্রথম দিকে তয়ন নাম ও বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেনি৷ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত থাকলেও নাম বলতে পারেনি৷ কিছু দিন আগে নিজের নাম ঠিকানা বলতে পারতেই হাসপাতালের তরফে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ছেলেকে ফিরে নিয়ে আসি”। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে আমরা পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তাই সকলে মিলে অর্থ সাহায্য করে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পাঠিয়েছিলাম। আজ সে বাড়ি ফিরেছে। বাড়ির লোক সকলেই ভেবেছিল ছেলেকে হয়তো আর ফিরে পাবেন না। এই পরিবারে পাশে সকলে দাঁড়ালে তয়নের চিকিৎসাটা করা সম্ভব হবে”। অন্যদিকে বালুরঘাট ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুশান্ত প্রামাণিক বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসেনি। এমন কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে পরে অসহায় পরিবারের পাশে সব রকম ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে ব্লক প্রশাসন”।


from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/O9Jrs84
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads