জাতীয় রাজনীতিতে মমতা কি একা হয়ে গেলেন? https://ift.tt/io8qS7b - MAS News bengali

জাতীয় রাজনীতিতে মমতা কি একা হয়ে গেলেন? https://ift.tt/io8qS7b

প্রশান্ত ভট্টাচার্য বাইশ মাসে প্রথম হার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০২১-এর পরে প্রথম পরাজয়। তা-ও আবার সেই সাগরদিঘিতে, ২০১১ সালে মুর্শিদাবাদে একমাত্র কেন্দ্র যেখান থেকে জিতেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী। সে কারণেই মনে করা হচ্ছে, সাগরদিঘির ভোটের ফল সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতির জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। তাই সাগরদিঘির ভোটের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্নে যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তা নিয়ে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে অনেক রকম জল্পনা শুরু হয়েছে। CPIM, কংগ্রেস, BJP সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক স্তরের রাজনৈতিক দলের নেতারা বলাবলি শুরু করেছেন জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তৃণমূলনেত্রী সম্ভবত একা হয়ে গেলেন। তিনি BJP সহ কংগ্রেস এবং CPIM কে এক ব্যাকেটে রেখে যেভাবে দেগে দিলেন তাতে তিনি নিজেই একা হয়ে গেলেন। মোদীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কার সঙ্গে তাহলে তিনি জোট করবেন? আমরা তো জানি কিছুদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো বলতেন, আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে তিনি BJP বিরোধী জোট করবেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্যে সেই ঘোষণার গুরুত্ব অনেক কমে গেল। তেলঙ্গানার ভারত রাষ্ট্র সমিতির প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ছাড়া কোন আঞ্চলিক দল এখন আর তৃণমূল নেত্রীর ডাকে সাড়া দেবেন না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা অনেকেই। এমনটাও হতে পারে যে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও দূরে থাকতে পারেন। অথচ অখিলেশ এতদিন পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে চলবেন না বলেই বলে এসেছেন এবং কিছুটা হলেও তিনি মনে করেন, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চলাটাই শ্রেয়। কিন্তু পয়লা মার্চ ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের জন্মদিনে তাঁকে দেখা গেল কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে একই মঞ্চে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিবু সোরেনের সঙ্গে কংগ্রেসের সখ্য বরাবরই ভালো, তাই জিএমএম কংগ্রেসকে ছেড়ে মমতার ডাকে সাড়া দেবে না ধরেই নেওয়া যায়। আপ পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে সংগঠন গড়ার চেষ্টায় আছে, তাতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মমতাকে সঙ্গ দেবেন বলে মনে হয় না। প্রশ্ন উঠেছে তবে কি মোদীকে গতিচ্যুত করার ভাবনা দূরে রেখে মমতা এখন শুধুই রাজ্য রাজনীতিতে মন দেবেন। মানুষের সঙ্গে জোটের কথা বলার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে তেমন কোনো ওজন নেই। কারণ মানুষ সেই অর্থে কোনও জোট করে না, মানুষকে নিয়ে দল করা হয় আর জোটটা হয় দলের সঙ্গে দলের। সাগরদিঘির ফলের পরে মমতা যে ভাবে পরিষ্কার বললেন, যে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল একাই লড়বে, সেখানে একটা জিনিস স্পষ্ট যে তিনি তাঁর নিঃসঙ্গতাকেই তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, সাগরদিঘিতে সাফল্য পাওয়ার পর বাম এবং কংগ্রেস অনেকটাই কাছে এসে গেছে। জোট আর ঘোঁট নেই, এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর কাছে চ্যালেঞ্জ ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট। 'রাজ্যে কুস্তি আর দিল্লিতে দোস্তি' এমন নীতি নিয়ে BJPবিরোধী জোটে তিনি যে যাবেন না, বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্যে সে কথা পরিষ্কার। সাগরদিঘির ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ করবেন। একইসঙ্গে তাঁর মাথায় আছে নওশাদ সিদ্দিকি নিয়ে রাজ্য পুলিশ যেভাবে কাজ করল, তাতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে এক ধরনের ধাক্কা তৃণমূল খেয়েছে। তার জন্য চাই ইমিডিয়েট ড্যামেজ কন্ট্রোল। সেটা মমতা জানেন। যদিও তাঁর কথা হচ্ছে সাগরদিঘিতে যে জোট হয়েছে তা অনৈতিক জোট। মমতা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য সামনে এনেই প্রশ্ন তুলেছেন, এইরকম অনৈতিক জোট করার ফলে BJPর বিরুদ্ধে কংগ্রেস বা বামপন্থীরা কীভাবে লড়বে? কীভাবে তারা নিজেদের BJP বিরোধী বলে প্রমাণ করবে? ২২ মাস পরে সবুজ আবিরের ছড়রার আনন্দে অধীর চৌধুরী সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি স্বীকার করেছেন, ' BJPর ভোটাররা যাঁরা এই ভোটে তৃণমূলের পরাজয় চেয়েছিলেন, তাঁরাও কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’ এটাকে ব্যাঙ্ক করেই তৃণমূলনেত্রী রাম-বাম-কং তত্ত্ব দাঁড় করিয়ে দাবি করেছেন অনৈতিক জোট। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, 'সাগরদিঘি উপনির্বাচনে আমরা হেরেছি। কাউকে দোষ দেব না। গণতন্ত্রে হার-জিত লেগেই থাকে। কিন্তু এখানে অনৈতিক একটি জোট হয়েছে। যার তীব্র নিন্দা করছি আমরা।’ এখানে একটা প্রসঙ্গ আসেই, ভোটপ্রচারে গিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসকে ঠিক করে দিয়েছেন BJP নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কংগ্রেস প্রার্থীকে জেতাবার জন্য তলায় তলায় BJPর সঙ্গে অলিখিত চুক্তি হয়েছে অধীর চৌধুরীর। তাই মমতার দাবি, একুশের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে BJP প্রার্থী যে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, তা এবার ১৩ শতাংশে নেমে আসাটাই অনৈতিক জোটের ও অলিখিত চুক্তির তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলায় BJP, কংগ্রেস এবং CPIMের মধ্যে ‘লেনদেনের সম্পর্ক’ রয়েছে। তবে অধীরের দাবি বা মমতার ভাষ্য পুরোপুরি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। যাচ্ছে না দুটি কারণে। একটি সাংগঠনিক অন্যটি পরিসংখ্যান। নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের একটা বড় অংশকে ইভিএমে অন্য প্রতীকে সংগঠিতভাবে ট্রানস্লেট করতে সংগঠনের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ও কোমরের জোর দরকার, মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্তত BJPর তা নেই। আর পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, এবার তৃণমূল প্রার্থী ৬৪,৬৮১টি ভোট পেয়েছেন, সেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘিতে সুব্রত সাহা পেয়েছিলেন ৯৫,১৮৯টি ভোট। অর্থাৎ তৃণমূলের ভোট কমেছে ৩০,৫০৮টি। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস প্রার্থী ৮৭,৬৬৭টি ভোট পেয়েছেন, যা একুশের তুলনায় ৫১,৩২৩টি ভোট বেশি। এবার গেরুয়া শিবির পেয়েছে ২৫,৮১৫টি ভোট। ২০২১ সালে তারা পেয়েছিল ৪৪,৯৮৩টি ভোট। তার মানে BJPর ভোট কমেছে ১৯,১৬৮টি। মমতা ও অধীরের বক্তব্যকে যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই ঠিক, অর্থাৎ পদ্মের কমে যাওয়া ১৯,১৬৮টি ভোট হাতে গিয়েছে, তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, বায়রন আরও ৩২,১৫৫টি ভোট কোথা থেকে পেলেন? তবে কি ধরে নিতে হবে, তৃণমূলের যে ৩০,৫০৮টি ভোট কম পড়েছে, তা সবটাই হাতে চলে গিয়েছে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি এই সরল পাটিগণিতে বিশ্বাস করি না। call a spade a spade. আর সেটা না করতে পারলে অশনি সঙ্কেত। বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর পক্ষে BJPর ভোট চলে যাওয়া যদি এই হারের একটা কারণ হয়ে, তবে এটা বিবেচনায় না আনলে সত্যের অপলাপ হবে যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে যে তোলপাড় হচ্ছে, তারও প্রত্যক্ষ ছাপ পড়েছে সাগরদিঘির ফলে। সরল পাটিগণিতের হিসাব যা বলছে, তাতে সাগরদিঘিতে ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ ভোট হয়েছে। মানুষ যেন এককাট্টা হয়ে তৃণমূলকে হারাতে চেয়েছে। তারপরই যেভাবে CPIM ও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে ২৪-এর ভোটে এবং তারও আগে পঞ্চায়েত ভোটে এই তথাকথিত 'অনৈতিক' জোটের খেলা চলবে। আর এটাই ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। চিন্তায় রেখেছে তৃণমূল সুপ্রিমোকেও।


from Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Ajker Khobor, Latest Bengali News - Ei Samay https://ift.tt/YGpb1e2
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads