দুটো নির্দিষ্ট উত্তর, বাকি খাতা ফাঁকা! https://ift.tt/XBt9kDA - MAS News bengali

দুটো নির্দিষ্ট উত্তর, বাকি খাতা ফাঁকা! https://ift.tt/XBt9kDA

এই সময়: ফাঁকা ওএমআর শিটে (OMR Sheet) চাকরি হয়েছে বলে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে শিক্ষক-নিয়োগ দুর্নীতির () তদন্তে। কিন্তু কাদের আলাদা করে রাখতে হবে, তা বোঝা যেত কী ভাবে? তার জন্যে ওএমআর শিটেই গুপ্ত সঙ্কেত থাকত বলে দাবি করল ইডি। বুধবার ইডির কৌঁসুলি ফিরোজ় এডুলজি দাবি করেন, ওই রহস্যময় সঙ্কেতের মাধ্যমেই লক্ষ লক্ষ ওএমআর শিটের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হতো নিয়োগের জন্যে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদেরও। শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় ওএমআর শিটেই উত্তর দিতে হয়। মাল্টিপল চয়েজ় প্রশ্নের জন্যে যে বিশেষ উত্তরপত্র দেওয়া হয়, সেখানেই থাকে উত্তরের অপশন। সঠিক উত্তরের গোলাকৃতি চিহ্ন ভরাট করতে হয়। পরে সেই উত্তরপত্র কম্পিউটারে স্ক্যান করে চাকরিপ্রার্থীরা কে কতগুলি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়েছেন--তা বের করা হয়। ইডির (ED) দাবি, ২০১২ এবং ২০১৪-য় প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এই ওএমআর শিট ব্যবহার করেই চলেছে দুর্নীতি। আর তাতে সরসারি যুক্ত পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এবং হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষ।কী ভাবে হয়েছে সেই দুর্নীতি?আদালতে ফিরোজের দাবি, অনেকগুলি উত্তরের মধ্যে সঠিক উত্তর বাছার জন্যে যে গোল জায়গাগুলি থাকত, সেখানেই সঙ্কেতের ব্যবহার হতো। নির্দিষ্ট দু'টি প্রশ্নের জন্যে ওএমআর শিটে গোল শূন্যস্থান পূরণের নির্দেশ থাকত আগে থেকেই। বাকি ওএমআর ফাঁকা রাখা যেত। বেআইনি ভাবে যাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হতো, তাঁদের ওএমআর শিটের ওই দু'টি গোল চিহ্নেই চিহ্নিত করা হতো। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে যে সংস্থা ওএমআর শিট পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল, তারাও কি ওই চিহ্ন দেখেই আলাদা করে রাখত ওএমআর শিট? তারাও কি দুর্নীতিতে যুক্ত? ক'দিন আগে কলকাতা হাইকোর্টও প্রশ্ন তুলেছিল ওএমআর শিট পরীক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে। এ দিন কলকাতা নগর দায়রা আদালতের বিশেষ এজলাসে ইডির দাবি, কুন্তলকে জেরা করে সঙ্কেতের তথ্য উঠে এসেছে। আরও তদন্ত প্রয়োজন। মানিকের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্তের পাল্টা বক্তব্য, 'কতটা মারাত্মক হলে ইডি এটা বলতে পারে, যে এখনও তদন্ত প্রয়োজন? তদন্ত কবে শেষ হবে কিছু না বলতে পেরেই ইডি দোষারোপ চালিয়ে যাচ্ছে। বিচার শুরু না হওয়ায় আমরা জবাব দিতে পারছি না। ইডিও প্রমাণ তুলে ধরছে না।'এ দিন মানিক-কুন্তলের পাশাপাশি জেলবন্দি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী () সঙ্গেও মানিকের সম্পর্ক টেনে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয় ইডি। তাদের দাবি, মানিক-পার্থ জুটি বেসরকারি ডিএলএড, বিএড কলেজগুলিকে ছাড়পত্র এবং এনওসি সার্টিফিকেট দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন। এর জন্যে কলেজ-পিছু পার্থ পেতেন ৬-৮ লক্ষ টাকা। মানিক ২-৫ লক্ষ টাকা। ম্যাকবেথের প্রসঙ্গ টেনে এডুলজি বলেন, 'ম্যাকবেথে যেমন একটি খুন করা হয়েছিল তেমনই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে খুন করা হয়েছে। এই দুর্নীতির কারণে বহু ভালো ছাত্র বাংলা ছেডে় অন্য রাজ্য বা ভিন দেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।' ইডির আরও দাবি, মানিকের বাড়ি থেকে একটি সিডি পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ৪০০০ চাকরিপ্রার্থীর তালিকা রয়েছে। তার মধ্যে ২৫০০ জন চাকরি পেয়েছেন। তা হলে কি টাকার বিনিময়ে চাকরি যাঁরা পেয়েছেন তাঁরাই রয়েছেন ওই আড়াই হাজারে? দুর্নীতি করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে যে সব শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, তাঁদের কেউ কি এই তালিকায় রয়েছেন? এর কোনও সদুত্তর অবশ্য এ দিন মেলেনি ইডির তরফে।


from Bengali News Eisamay: (বাংলা সংবাদ) Latest News, Vieos, Breaking News in Bangla | Ajker Khobor - Eisamay Bangla https://ift.tt/X5F1EQA
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads