অগ্নিশুদ্ধ নয়, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ক্ষত নিয়েই বিয়ে ধানবাদে https://ift.tt/Rw1bAGC - MAS News bengali

অগ্নিশুদ্ধ নয়, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ক্ষত নিয়েই বিয়ে ধানবাদে https://ift.tt/Rw1bAGC

বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, ধানবাদছিল আনন্দানুষ্ঠান, আচমকা অগ্নিকাণ্ড তাকে শ্মশানে পরিণত করল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানবাদের (Dhanbad) ব্যাঙ্ক রোড থানা এলাকার জোড়াপুকুরে আশীর্বাদ টাওয়ারের বিধ্বংসী আগুনে () প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন মহিলা ও ৩ শিশু সহ ১৪ জন। এই ঘটনার কাঁটাছেড়ায় উঠে এসেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও উদাসীনতারই ছবি। শহরের অভিজাত এলাকার ১০ তলার ওই টাওয়ারে ৬৮টি পরিবারের বাস। তারই চতুর্থ তলায় সুবোধ লাল মাহাতোর কন্যা শ্বেতার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন আত্মীয়রা। সন্ধ্যাতেই চলে আসেন গিরিডির আশ্রম মোড়ের বাসিন্দা বর সৌরভ কুমার। বিয়ের সাজের জন্য তখন পার্লারে ছিলেন শ্বেতা। আবাসনে সাজগোজে ব্যস্ত মহিলারা। পাশেই সিদ্ধি বিনায়ক ম্যারেজ হলে বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাইকে চলে আসার জন্য তাড়াও দিচ্ছিলেন অনেকে। আর তখনই অপ্রত্যাশিত ভাবে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল আগুন।টাওয়ারের দ্বিতীয় তলে পঙ্কজ আগরওয়ালের ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। পুজোর জন্য জ্বালানো প্রদীপ একটি শিশু ফেলে দিলে আগুন ধরে যায় ঘরের কার্পেটে। ঘরে প্লাস্টিক, ফাইবার ও কাঠের মতো দাহ্য পদার্থ থাকায় নিমেষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই আগুন ওই তলাতেই আটকে না থেকে উঠতে থাকে উপরের দিকে। ক্রমশ তা গিয়ে পৌঁছয় চতুর্থ তলায়। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে হাজারিবাগ, ঝরিয়া, বোকারোর মতো এলাকা থেকে আসা সুবোধ লালের আত্মীয়রা টাওয়ার থেকে বেরনোর পথ জানতেন না। আগুনের হলকা ও ধোঁয়ায় তাঁরা দিশাহার হয়ে পড়েন। আতঙ্কে শুরু হয় চিৎকার। বাঁচার জন্য তাঁরা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে থাকেন। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেননি, দোতলা থেকে চার তলার পথ ছেয়ে গিয়েছে আগুনে। ফলে মারণগ্যাসে লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। অথচ ওই টাওয়ারেরই অন্তত ১০০ বাসিন্দা ছাদে উঠে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন শ্বেতার মা মালা দেবী। বাবা সুবোধ কুমারকে আত্মীয়রা নিয়ে যান অন্যত্র। ঘটনার আকস্মিকতায় নির্বাক হাজারিবাগ ও বোকারো থেকে আসা তাঁর দুই ভাই জিতেন লাল ও বচন লাল। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিয়েবাড়িতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকার কথা তাঁরা দূর কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি। তাঁদের গলায় ঝরে পড়ছে আফশোস। বলছেন, "আমরা বারবার সবাইকে বলছিলাম তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তে। আর কিছু আগে বিয়েবাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লে এই ঘটনার মুখোমুখি হতে হতো না।"তবে এরই মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ঝরে পড়েছে টাওয়ারের আবাসিক ও প্রতিবেশীদের মধ্যে। ওই টাওয়ারের বাসিন্দা গুরমিত সিং জানিয়েছেন, ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে পর পর ৬ বার তিনি ফোন করেছিলেন দমকলে কিন্তু, কোনও সাড়া পাননি। শেষে ফায়ারের ডেপুটি কমিশনারকে ফোন করায় আসে। ততক্ষণে আগুন নিভাতে এগিয়ে আসেন লাগোয়া পাটুলিপুত্র নার্সিংহোমের কর্মীরা। সেখান থেকে ৩ লাখ গ্যালন জল ব্যবহার করা হয় আগুন নিভাতে। যদিও ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আক্রান্ত পরিবার ও টাওয়ারের অন্য বাসিন্দাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারি তরফে উদ্যোগ দেখা যায়নি। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের আশ্রয় দিতে এগিয়ে আসে টাওয়ারের উল্টোদিকে থাকা একটি গুরুদোয়ারা। সেখানেই আবাসিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুদোয়ারার পক্ষ থেকে বলদেও সিং বলেন, "অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা সবসময় মানুষের সেবার জন্য কাজ করি। আবাসনের অসহায় মানুষদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। গুরুদোয়ারা থেকে সবরকম সাহায্য করা হবে।" বাড়ি পুড়ে ছাই। মারা গিয়েছেন মা, দাদু, মাসতুতো বোন, খুড়তুতো ভাইয়েরা। পার্লারে থাকায় বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছেন কনে শ্বেতা। কিন্তু শুভক্ষণে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে তাঁকে বসানো হয় বিয়ের পিঁড়িতে। নমো নমো করে সেরে ফেলা হয় বিয়ে। তার পরেই নববধূকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন বর সৌরভ কুমার। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড থেকে নতুন জীবনের শপথ নিয়ে।


from Bengali News Eisamay: (বাংলা সংবাদ) Latest News, Vieos, Breaking News in Bangla | Ajker Khobor - Eisamay Bangla https://ift.tt/p3AykC9
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads