রোনাল্ডো রিজার্ভ বেঞ্চে, মরক্কোর জয় ও কয়েকটি প্রশ্ন https://ift.tt/oJSmd0u - MAS News bengali

রোনাল্ডো রিজার্ভ বেঞ্চে, মরক্কোর জয় ও কয়েকটি প্রশ্ন https://ift.tt/oJSmd0u

প্রশান্ত ভট্টাচার্য বিশ্বকাপ শুরুর আগেই পরিচিত একজন ভবিষ্যদ্বানী করলেন, ফাইনাল আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল। রোনাল্ডো () আর মেসিকে () মুখোমুখি দিয়ে ফিফা বলবে, দেখি কার কাপ জেতার হিম্মত আছে। এমন ফরচুনটেলারকে আমি বললাম, আপনি তো দেখছি সেই ডলফিনটি, পল হয়ে গেলেন। যে নাকি খেলায় কে জিতবে, তা আগে থেকে ইঙ্গিত করত। তবে আর কী! বসে যান চেম্বার করে। তাচ্ছিল্যের একটা হাসি দিয়ে তাঁর টিপ্পনী, তুমি তো পলিটিকাল অ্যানালিস্ট, ফুটবলের কী বুঝবে? এটাও সেটিং গেম! ফিফা সেভাবেই ছকে রেখেছে। তার মানে ফিক্সিং! আমার বিস্ময়ে তাঁর সংযোজন, সব মাছ নোংরা খায়, নাম পড়ে পাঙ্গাসের। এক কান থেকে অযুত কানাকানি কি না জানি না, তবে ধীরে ধীরে অনেকের মুখেই এরকম শুনতে শুরু করলাম। ততদিনে কাতারে বাঁশি বেজে গিয়েছে। লিগদশায় খেলার পর, রাউন্ড শুরু হল। যেভাবে ক্রস হচ্ছিল, আমিও দেখলাম হলেও হতে পারে পর্তুগাল-আর্জেন্তিনা ফাইনাল। কিন্তু মরক্কোর কাছে পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনালে () হেরে যেতেই, আমার দুটো কথা মাথায় এল: ১) ওসব ভবিষ্যদ্বানী কচু পোড়া, ২) মরক্কো কি কোনও অ্যাডভান্টেজ পেল? যেভাবে তেলের টাকায় এবার (Fifa World Cup 2022) ঠিক সেভাবে কি ফুটবল রফতানি করতে আফ্রিকাকে তুলে আনা হল? এমন কোনও রসায়ন কি আদৌ কাজ করছে? আমি জানি রে রে করে উঠবেন অনেকেই, কিন্তু আমায় বলুন তো, কেন (Cristiano Ronaldo) মতো দলের মেরুদণ্ডকে প্রথম থেকে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলানো হল না? খেলার ৫১ মিনিটে পরিবর্ত হিসাবে রোনাল্ডোকে মাঠে নামিয়ে দিলেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস। কিন্তু কেন প্রথম থেকে নয়, এ এক অমীমাংসিত রহস্য। পর্তুগালের প্রাক্তন বিশ্বতারকা লুইস ফিগো পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন, "রোনাল্ডোর মতো ফুটবলারকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখে বিশ্বকাপ জেতা যায় না। সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে রোনাল্ডো ছাড়া দলের জেতা আনন্দের। কিন্তু সব ম্যাচেই কি সেটা সম্ভব হয়? আমি আদৌ তা মনে করি না। মরক্কোর বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে বাইরে রাখা সবচেয়ে বড় ভুল। এর দায় নিতে হবে স্যান্টোস ও পর্তুগাল টিম কর্তাদের।" সত্যি তো, যেখানে পুরো টিমটাই দাঁড়িয়ে আছে রোনাল্ডোর ওপর। প্রধান খেলোয়াড় না খেললে টিমের গেমপ্ল্যানটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ছক ভেঙে যেতে পারে। রোনাল্ডো নামার পরে পরের পর আক্রমণে তীব্রতা আসে পর্তুগালের, আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ে। মরক্কোর অর্ধেই প্রায় খেলা হয়, কিন্তু মরক্কোর ব্যুহ ভাঙার হিম্মত হল না স্যান্টোসবাহিনীর। তাই সুপারস্টার রোনাল্ডোকে মাঠ ছাড়তে হল চোখের জলে। বিধ্বস্ত দশায়। যে ছেলেটার পায়ের কাছে ক্লাবগুলো, দেশগুলো লুটোপুটি খায়, সে ছেলেটা কেমন ভ্যাবলা হয়ে গেল। (Cristiano Ronaldo) ও ফার্নান্দো স্যান্টোসের (Fernando Santos) সম্পর্ক কি খুব শীতল? তাই সাইডলাইনে রোনাল্ডো? আমি জানি, আগের ম্যাচে এবং মরক্কো ম্যাচে প্রথম ৫০ মিনিট রোনাল্ডোকে বসিয়ে রাখার পিছনের গল্প কখনোই সামনে আসবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সি আর সেভেনের () ভক্ত নই, কিন্তু তাঁর মতো ধারাবাহিক ভাল খেলে আসা ফুটবলার সম্পর্কে অত্যন্ত শ্রদ্ধশীল। তাই একজন মহানায়কের এরকম ট্র্যাজিক প্রস্থান আমাকে ক্লান্ত করে, ক্লান্ত। সে ক্লান্তি নেই বুঝি ফিফার হৃদয়ে। আসলে ফিফার ইতিহাসটাই ক্লেদাক্ত। কিন্তু সে কথা অনেকেই জানে না কারণ মিডিয়া কখনও বলে না। ফিফার পক্ষে কাতারের মানবতাবিরোধী শাসকদের সঙ্গে যে কোনও প্রকার জালিয়াতি করাটাই সম্ভব। কাতারের তেলের শেখরা যেভাবে হাজার হাজার দরিদ্র শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে এই বিশ্বকাপ সংগঠিত করেছেন, তার আলোচনা মিডিয়াতে কোথাও নেই। যেখানে ৬,৫০০ পরিযায়ী শ্রমিকের অসহায় মৃত্যু কোথাও আলোচনায় আসেনি, সেখানে কোনওকিছুই অসম্ভব নয়। নাকি আরবের কোন ফুটবল দল সম্প্রতি অবিশ্বাস্য এক অর্থে কিনে নিয়েছে। তার শর্ত হিসেবেই কি অ্যাডভান্টেজ মরক্কো? এক ধরনের গড়াপেটা? এ সবের পোস্টমর্টেম কখনও হবে না। করা হবে না কোনও তদস্ত। কেউ খোলসা করবে না, মরক্কো সেমিফাইনালে যাওয়ার ফলে কত বিলিয়ন ডলার ইউরো দিনার হাতবদল হল? যদিও আমার এই বক্তব্য থেকে ধরে নেবেন না, আমি মরক্কোকে ছোট করছি। বরং ঠিক উলটোটাই বলব। আর আমি বলার ওপর কিছুই নির্ভর করছে না, পরিসংখ্যানই বলছে, এবারে বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত মরক্কোর বিরুদ্ধে কোনও দল গোল করতে পারেনি। একটি মাত্র গোল তারা খেয়েছে বটে, তবে তা আত্মঘাতী। সেমিফাইনালে উঠে আসার পথে বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগালকে তারা হারিয়েছে। এর আগে যোগ্যতা নির্ণয়ের খেলায় গ্রুপে সব ম্যাচ জিতে এরা কাতারে খেলতে আসে। সেই মরক্কো তো জিততে পারেই। মরক্কোর এই সাফল্যর দিনে ক্রিস্তিয়ানোর বিদায় আমাকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে। বেলজিয়াম, কানাডা ও স্পেনকে হারানো এবং ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করা মরক্কোকে আমার দুর্বল বলার কোনও স্কোপ নেই। কিন্তু (Fernando Santos) কৌশলটি আমাকে ভাবাচ্ছে। শাদাকে শাদা, কালোকে কালো বলার মতো সরল দৃষ্টিভঙ্গি আমার নেই। তাই আমার মনে হয়েছে,আগেই বলেছি আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। এবং মরক্কোর জয়লাভে আমি মোটেই অখুশি নই, বরং আপ্লুত। কিন্তু আমার প্রশ্ন আছে প্রমাণ নেই। ফিফার মতো দুর্নীতিবাজ সংস্থা হেন কাজ নেই করতে পারে না। এমনটা কোথাও অস্বাভাবিক নয়, অনেক বড় ড্রিলের জন্যই রোনাল্ডোকে বাইরে রেখে পর্তুগাল প্রথম একাদশ তৈরি করা হয়েছিল। আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই। শুধু প্রশ্ন আছে। যেমন, খেলা পরিচালনা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছে। অর্থাৎ রেফারির মান নিয়ে। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্তিনা ম্যাচের পরে। ফিফা কি এখানেও স্বচ্ছতা রাখতে পেরেছে? ক্রিকেট দুনিয়া অনেকদিনই স্রেফ ব্যবসা হয়ে গিয়েছে বলে অনেকেই ক্রিকেট থেকে মুখ ঘুরিয়েছেন। কে জিতল কে হারল, তা নিয়ে আর মাথা ঘামান না। জানি না, ফিফার পরিচালিত ফুটবল বিশ্ব নিয়েও এমন মানসিকতা তৈরি হবে কি না! (এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণ ভাবে লেখকের ব্যক্তিগত। এই সময় ডিজিটাল কোনও ভাবেই লেখার দায়ভার বহন করে না।)


from Bengali News Eisamay: (বাংলা সংবাদ) Latest News, Vieos, Breaking News in Bangla | Ajker Khobor - Eisamay Bangla https://ift.tt/yZglSaW
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads