বিদেশের ধার শোধ অসম্ভব, ঘোষণা দ্বীপরাষ্ট্রের https://ift.tt/OKj9Fgk - MAS News bengali

বিদেশের ধার শোধ অসম্ভব, ঘোষণা দ্বীপরাষ্ট্রের https://ift.tt/OKj9Fgk

এই সময়, কলম্বো: মাথার উপর পাঁচ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ। এ দিকে ধুঁকতে ধুঁকতে পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে। বিদেশি মুদ্রার কোষাগার কার্যত ঠনঠন করছে। তাই মেয়াদ ফুরোলেও ওই দেনা মেটানো আর কোনও ভাবেই সম্ভব নয়- মঙ্গলবার এ ভাবেই নিজেদের ঋণখেলাপি ঘোষণা করল আর্থিক সঙ্কটে জেরবার শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। বিরোধীদের অভিযোগ, নানা মহল থেকে লাগাতার তাগাদা সত্ত্বেও গত দু'বছরে এক বারও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (IMF) দ্বারস্থ হয়নি গোতাবায়া রাজাপক্ষের সরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে আইএমএফ-এর অর্থ সাহায্যই যে তাদের একমাত্র ভরসা, ঠেকায় পড়ে তা মানতে বাধ্য হলো কলম্বো। তবে দ্বিতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা না-করে এ ভাবে একতরফা নিজেই নিজেকে দেউলিয়া বা ঋণখেলাপি ঘোষণা করা যায় কি না, তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে চরম আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কায় ()। করোনা-আবহে (Corona Virus Pandemic) টানা দু'বছর মার খেয়েছে পর্যটনশিল্প। গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায় লাগাতার বৈদেশিক ঋণ নিয়ে গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা। ও দিকে আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে। রাস্তায় আলো নেই, থমকে একাধিক হাসপাতালের রুটিন অস্ত্রোপচার। গুঁড়ো দুধ, চিনি, নিউজপ্রিন্ট থেকে শুরু করে জ্বালানির জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। এক কিলো চাল কিংবা ডালের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। নারকেল তেলের দাম পৌঁছেছে লিটার-পিছু ৮৫০ টাকায়। একটি ডিম কিনতে লাগছে ৩০ টাকা! প্রেসিডেন্টের ইস্তফার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি ঋণ শোধ এবং দেশের আর্থিক সঙ্কট সমাধানের উপায় খুঁজতে সম্প্রতিই একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে সরকার। সেই প্যানেলের সুপারিশেই এ দিন শ্রীলঙ্কার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ''অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটির বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আপাতত সব রকমের বিদেশি ঋণ পরিশোধের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'' তার মানে কি দেনা মেটানোর ক্ষেত্রে পুরোপুরি হাত তুলে নিল শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)? আপাতত দু'টি বিকল্প ঘোষণা করেছে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থ মন্ত্রক। প্রথমত, ঋণদাতা দেশ বা সংস্থা চাইলে এখনই সেই ঋণকে ক্যাপিটালাইজ় করতে পারে। অর্থাৎ, প্রাপ্য সুদের পরিমাণ মূলধনের সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে। আর দ্বিতীয় বিকল্পটি হল- শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় ধার শোধ করতে পারে রাজাপক্ষে সরকার। তবে বিদেশি ঋণদাতারা কোনও দ্বিতীয় বিকল্পের পথে হাঁটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষত চিন কোনও ভাবেই তা মানবে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, শ্রীলঙ্কার এই অসময়ে পাশে থাকা তো দূরের কথা, বরং ঋণ শোধ নিয়ে তারা চাপ বাড়াতে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলম্বোর এক শীর্ষ কর্তার দাবি, দু বছরের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার ফেরত চাইছে বেজিং। যা কার্যত অসম্ভব। ভাঁড়ার যে খালি! নিজেকে 'দেউলিয়া' বা 'ঋণখেলাপি' ঘোষণা করা ছাড়া তাই শ্রীলঙ্কার কাছে কোনও উপায় ছিল না বলে দাবি একাংশের। কলম্বো জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ার প্রায় খালি হয়ে আসার কারণেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে- ''আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের সহায়তায় একটি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে সকল ঋণদাতার সঙ্গে ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা সরকারের।''


from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/gf4xWnA
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads