Bangla News
News in Bengali
এই সময়: Bengali News
কলকাতা খবর - Ei Samay
বাংলা নিউজ
বাংলা সংবাদ
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/KFv27fy
শিল্পাঞ্চলের খামোশি কি কাটবে ভোটযুদ্ধের আঁচে https://ift.tt/9f1PFeL
হিমাদ্রি সরকার, আসানসোল দুপুরের পুড়িয়ে দেওয়া গরম। দেন্দুয়া মোড় থেকে রূপনারায়ণপুর হয়ে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তাটা গর্তে গর্তে ঢেউ খেলানো। আর তার দু'পাশে দোতলা, তিনতলা কোয়ার্টারগুলো যেন খণ্ডহর। বেশির ভাগেই লোকজন থাকেন না। দরজা-জানলা তো বটেই, কয়েকটি বাড়ির দেওয়াল থেকে ইটও খুলে নেওয়া হয়েছে। কারেন্ট কাটা হয়েছে কবেই। বাড়িগুলোর কঙ্কাল দেখলে ভরদুপুরেও বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠতে পারে। দেখে বোঝার উপায় নেই, বছর পাঁচ-ছয়েক আগেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্থান কেবলসের এই কোয়ার্টারগুলো ছিল জমজমাট। এই পথ ধরেই ঘণ্টা দেড়েক বাদে গত রবিবার বিকেলে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভসের তিন নম্বর গেটের কাছে এসে পৌঁছলেন ()। এখান থেকে হুডখোলা গাড়িতে জনসংযোগে বেরোনোর কথা আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থীর। ছিয়াত্তর পেরোনো সুপারস্টার যে লড়াইটাকে (Asansol ) মোটেই হালকা ভাবে নিচ্ছেন না, বোঝা যায় রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া চেহারাতেই। তাঁকে একবার দেখার জন্য চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কোয়ার্টার্সের শ'আড়াই তরুণ-যুবকেরও উৎসাহের অন্ত নেই। শত্রুঘ্ন গাড়িতে উঠতেই একটাই দাবি, ''দাদা, একবার বলুন 'খামোশ'।'' গত কয়েক দিনে এমন আবদার অনেকবার মেটাতে হয়েছে শত্রুঘ্নকে। তাতেও তাঁর গলায় 'খামোশ' শুনতে কচিকাঁচাদের উৎসাহের কমতি নেই। স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে তখন যেন আবছা কয়েক কিলোমিটার দূরে দেখা খণ্ডহর। যেখানে এখন ছেয়ে আছে 'সন্নাটা'। এই 'খামোশি', এই 'সন্নাটা'ই এখন বাস্তব বছর ঊনষাটের মদন বেরিওয়ালের কাছে। হিন্দুস্থান কেবলসের প্রায় ৩০ বছরের কর্মী ওই খণ্ডহরকে অনেক জমজমাট দেখেছেন। দেখেছেন, একটু একটু করে জৌলুস হারিয়ে একেবারে পাততাড়ি গুটিয়ে দিতেও। ২০১৭-তে যখন কারখানার গেটে পাকাপাকি তালা পড়ে গেল, তখনও বছর ছয়েক চাকরি বাকি ছিল তাঁর। বলছিলেন, ''আস্তে আস্তে জলের লাইন, কারেন্টের কানেকশন কেটে দেওয়া হল। আমার ভাই কাজ করে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভে। আপাতত ওরই কোয়ার্টারে ভাগাভাগি করে রয়েছি।'' আসানসোলে ভোট মানেই হিন্দুস্থান লোকোমোটিভ, বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের মতো প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প গত দেড়-দশকে এক-এক করে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইস্যু। এই উপনির্বাচনেও তাই। উঠছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) প্রসঙ্গও। আসানসোল থেকে বিজেপির দু'বারের সাংসদ দল ও সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়াতেই এ বার ভোট হচ্ছে এখানে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া মঞ্চেই এ বার তৃণমূলের প্রার্থী 'বিহারিবাবু'। বাবুল এখানে প্রচারে আসেননি। কিন্তু না-থেকেও তিনি সমান প্রাসঙ্গিক, যুযুধান দুই শিবিরের কাছেই। কেন? তা টের পাওয়া যায় বেরিওয়াল আর তাঁর পাশে বসা শিবম উপাধ্যায়ের কথাতেই। তাঁরা বলছিলেন, ''কারখানায় তালা পড়ে যাওয়ার পরে হিন্দুস্থান কেবলসের শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যাওয়া হয়েছিল বাবুলের কাছে। উনি বলেছিলেন, খোলার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন। মাঝে একবার খবরও এলো, কারখানা খুলতে পারে। তার পর যে কে সেই।'' তার পর থেকে যত দিন গিয়েছে, হিন্দুস্থান কেবলসের কোয়ার্টারগুলো একটু একটু করে খণ্ডহরের চেহারা নিয়েছে। স্থানীয় 'দাদা'দের মদতে কোয়ার্টারের দরজা-জানলা-গ্রিল খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আবার ঘুরপথে একটু বাসযোগ্য কোয়ার্টারে বাসের সুযোগও নিয়েছে, সেই 'দাদা'দের উপযুক্ত মূল্য ধরে দিয়েই! এই আতঙ্ক এখন একটু একটু করে চোখ রাঙাচ্ছে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভসেও। এখনও এখানে কর্মরত প্রায় সাড়ে ন'হাজার কর্মী। কিন্তু নতুন নিয়োগ নেই। পুরোনো কর্মীরা অবসরের পর যে সব কোয়ার্টার ছাড়ছেন, সেখানেও হাত পড়ছে দরজা-জানলায়। আগামী দিনে কি এখানকার অবস্থাও হবে হিন্দুস্থান কেবলসের মতোই? অভিজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের সঙ্গে পাল্লা দিতে না-পেরেই বন্ধ করতে হয়েছে হিন্দুস্থান কেবলসের জেলিফিল্ড ফাইবার কারখানা। কিন্তু বন্ধ, রুগণ শিল্পাঞ্চলের ইস্যুতে মোদী সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলছে তৃণমূল। কিন্তু সেই সময়ে তো বাবুল সুপ্রিয়ই ছিলেন কেন্দ্রের মন্ত্রী? তৃণমূলের চিত্তরঞ্জন টাউন ব্লক সভাপতি তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ''বাবুল চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকারই তাঁকে কাজ করতে দেয়নি। তাই তো তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।'' তাঁর সংযোজন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমরা আবেদন করেছি, হিন্দুস্থান কেবলসের সাড়ে ন'শো একরের বেশি জমিতে নতুন করে শিল্প গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হোক।' বাবুল নিজে কলকাতায় প্রচারে একাধিকবার বলেছেন, ''আমি আসানসোলের সাংসদ হিসাবে কী করেছি, তা মানুষ জানেন।'' এলাকার মানুষও বলছেন, আসানসোলের কুমারপুর ব্রিজ হোক অথবা শিল্পাঞ্চলের দূষণ রোধে বনগ্রাম প্রকল্পের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু কেন্দ্রের শাসক আর রাজ্যের শাসকদলের টানাপড়েনে ব্রিজের কাজ এগোলেও বনগ্রাম প্রকল্প দিনের আলো দেখেনি। বাবুলের সঙ্গে আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তৃণমূলের জিতেন্দ্র তেওয়ারির 'সুসম্পর্কে'র কথাও বলছেন অনেকে। দল বদলে যিনি এখন আবার বিজেপিতে। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের প্রচারেও অবধারিত ভাবে উঠে আসছে বন্ধ শিল্পাঞ্চলের প্রসঙ্গ। তাঁর প্রচারসভায় জিতেন্দ্রও আশ্বাস দিচ্ছেম, ''কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের উন্নয়নে সামিল হতেই আসানসোলের মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের পুনরুজ্জীবনও তাঁর হাত ধরেই সম্ভব। অগ্নিমিত্রা পলকে জেতালে আসানসোলেরই উন্নয়ন হবে।'' এমনিতে ২০১৯-এ লোকসভা ভোটের পর থেকে খনি-শিল্পের শহরে হাওয়া বদলেছে অনেকটাই। গত বছর বিধানসভা ভোটে আসানসোল লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটি দখলে রাখতে পেরেছিল বিজেপি। ক'মাস আগে পুরভোটে আসানসোলের ১০৬টি আসনের মধ্যে ৯১টিই নিজের দখলে রেখেছে তৃণমূল। তবু কিছুটা হলেও এই আসানসোলেই হাওয়া ঘোরার আশায় রয়েছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে রানিগঞ্জ, কুলটি, পাণ্ডবেশ্বরের অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকার ভোট নিজেদের বাক্সে ফেলতে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, জিতেন্দ্র তেওয়ারিরা অগ্নিমিত্রার প্রচারের জন্য ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করছেন। কিন্তু বেলুন, মালা, মেক শিফট রথের আয়োজন, কর্মীদের ভিড় থাকলেও সন্ধের ব্যস্ত শহরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ তেমন একটা চোখে পড়ল না। একই ছবি আর এক খনি-শহর রানিগঞ্জেও। উপনির্বাচন বলেই কি এই নিস্পৃহতা, নাকি ক্রমাগত অপ্রাপ্তিতে ক্লান্ত জনতা- বোঝা কঠিন। আসানসোল, রানিগঞ্জ, চিত্তরঞ্জনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেল, দেওয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানারে খানিকটা পিছিয়েই বাম প্রার্থী পার্থ মুখোপাধ্যায়। এমনকী, ক'দিন আগে দু'দিনের শ্রমিক ধর্মঘটেও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের মতো একসময়কার লালদুর্গে সে ভাবে প্রভাব পড়েনি। তবে শিল্পবান্ধব পরিচয় তুলে ধরতে মরিয়া বামেরাও। সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের হতশ্রী চেহারা নিয়ে কেন্দ্র আর রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধে চলছে প্রচার। ভোট আসবে-যাবে। কিন্তু শিল্পাঞ্চলের 'খামোশি' আর 'সন্নাটা' কি কাটবে? প্রশ্নটা তুলছেন ভোটযুদ্ধে নিস্পৃহ বেরিওয়ালদের মতো অনেকেই।
from এই সময়: Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা খবর - Ei Samay https://ift.tt/KFv27fy
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment