ন্যানো কারখানা অতীত, এখন মাছের চাষই ভবিষ্যত সিঙ্গুরের https://ift.tt/YwAJ4dos7 - MAS News bengali

ন্যানো কারখানা অতীত, এখন মাছের চাষই ভবিষ্যত সিঙ্গুরের https://ift.tt/YwAJ4dos7

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ছিল শিল্পের জমি হয়ে গেল মাছের ভেড়ি।যে জমি টাটাদের ন্যানো (Tata Nano Car) তৈরির কারখানার জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল ও যে জমির জন্য রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেছিল সেই জমি এখন রূপ বদলে মাছের ভেড়ি । ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো টাটার কারখানার জন্য অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সেই জমি চাষযোগ্য নয় বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন এলাকার চাষিদের একাংশ।বাধ্য হয়েইসেই জমির অন্তর্গত সিঙ্গুরের () গোপালনগর মৌজায় শুরু হয়েছে মাছের ভেড়ি তৈরির কাজ। সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও মিলেছে সরকারের তরফে। রাজ্যের বিরোধী দলগুলির কটাক্ষকে তোয়াক্কা না করেই রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সেই মতো গোপালনগরের বাসিন্দা দিলীপ সামন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খাসের ভেরি মৌজার যে ৯ বিঘে জমি আছে তার মধ্যে ৩ বিঘে জমিতে তাঁরা পুকুর খনন করে মাছ চাষ করবেন।সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন দিলীপ।বহুবার পুলিশের মার খেয়েছেন আন্দোলন করতে গিয়ে । টাটা অধিকৃত ৯৯৭ একর জমির মধ্যে খাসেরভেরি মৌজায় তাঁদের তিন ভাইয়ের যৌথ জমি ছিল ৯ বিঘা। এছাড়া গোপালনগর মৌজায় এক্সপ্রেসওয়ের ধার ঘেঁষেও প্রায় বিঘে চারেক জমি ছিল তাঁদের। দিলীপ ঠিক করেছেন, তাঁদের বাকি ৬ বিঘে জমিতে আলুর চাষ করবেন এবং আলুর ফলন হলে অন্য ফসলও চাষ করবেন। এই চাষের জন্য যে জলের প্রয়োজন তা মেটাবে তাঁদের এই জলাশয় বলে মনে করছেন দিলীপ। যেখানে শিল্প হওয়ার কথা ছিল শেষে সেখানে পুকুর কেটে মাছ চাষ হবে? প্রশ্নটা করতেই ফুঁসে উঠেছিলেন সিঙ্গুরের কৃষক দিলীপ সামন্ত। তাঁর জমিতে তিনিকী করবেন তার জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে রাজি নন। তাঁর সাফ জবাব, পুকুর কাটা হচ্ছে তাঁদের জমির একটা অংশে। বাকি অংশে চাষ করা হবে । বর্তমানে শারীরিক ভাবে অসুস্থ দিলীপ। গত চারমাস আগে শিরদাঁড়ায় অপারেশন হয়েছে ।এদিন নিজের বাড়িতে বসেই দিলীপ জানান, এই ব্যাপারে তাঁর পরের দুই ভাই সুশান্ত ও জয়ন্তর সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে। তারা সম্মতি দিয়েছে। তবে নিজের জমি হলেও পুকুর খনন করতে গেলে কিছু আইনগত ব্যাপার থেকে যায়। বিভিন্ন দফতরের কাছ থেকে সম্মতিপত্র আদায় করতে হয়। প্রাথমিকভাবে সবটাই সেরে নিয়েছেন দিলীপবাবুরা। এখন অপেক্ষায় বসে আছেন। দিলীপ বাবু জানান, মাছ চাষ করার পাশাপাশি অন্য চাষীদের প্রয়োজনে জলও দেবেন তিনি । দফতর থেকে বলা হয়েছে,ওই তিন বিঘা জমি পরিষ্কার করে রাখতে। পাশাপাশি, তাদের নাম লিখে রাখতে নির্দিষ্ট জমির চারধারে যে সমস্ত চাষীদের জমি ।উল্লেখ্য, দিন তিনেক আগে গোপাল নগর মৌজায় বনমালী মাইতির জমিতে সর্বপ্রথম পুকুর খননের কাজ শুরু হয়েছিল। নিজের ১০ বিঘা জমিতে চাষ না করে মাছের ভেরি তৈরি করছেন মাইতিরা। তাদের সাফ জবাব ছিল, ওই জমিতে আর চাষ হবে না। তাই বাধ্য হয়ে ভেরি করতে হচ্ছে মাছ চাষের জন্য। যদিও টাটারা আসার আগে ওই জমিতে পুকুরই ছিল বলে দাবি করেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক বেচারাম মান্না। তবে দিলীপ সামন্ত, বনমালীর মতো চাষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বরঞ্চ চাষের ব্যাপ্তি ঘটিয়ে শুধু জমিতে নয়, জলেও চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। দিলীপ দাবি করেন, তাঁর প্রস্তাব সরকারের কাছে গৃহীত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুকুরের চারধারে আম, মেহগনি, নারকেল, ইউক্যালিপটাস লাগিয়ে দেওয়া হবে। তাই দিলীপের আশা আবার তাঁদের সুদিন ফিরে আসবে।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/BDKlCpLxS
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads