এক অধ্যায়ের সমাপ্তি: নাইটিঙ্গেল লতা https://ift.tt/ajdEVSF - MAS News bengali

এক অধ্যায়ের সমাপ্তি: নাইটিঙ্গেল লতা https://ift.tt/ajdEVSF

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় তাঁকে বলা হয় 'প্রাইড অফ ইন্ডিয়া'। ১৯৭৪ সালে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন তিনি। নেপথ্য গায়িকা হয়েও লতা মঙ্গেশকরের গুরুত্ব অনেকটা। বলা চলে, দেশের যে কোনও মুভি মোগুলের তুলনায় বেশি প্রভাবশালী লতা। আজও তাঁর গান সারা বিশ্বের লাখ লাখ ভক্তের হৃদয় এবং কল্পনা জুড়ে রয়েছে। চিন-ভারত যুদ্ধের পটভূমিতে, লতা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর উপস্থিতিতে 'আয় মেরে ওয়াতান কে লোগো' দেশাত্মবোধক গানটি গেয়েছিলেন। ভারতের সি. রামচন্দ্রের সুর করা এবং কবি প্রদীপের লেখা গানটি তাঁর কণ্ঠে শুনে নেহরুর চোখে জল এসে গিয়েছিল বলে শোনা যায়। চলচ্চিত্রে মহিলা শিল্পীদের জন্য প্লে-ব্যাক গানের জগতে লতা মঙ্গেশকরের বেশ কয়েক দশক ধরে অবিসংবাদিত রাজত্ব ছিল। তিনি মীনা কুমারী থেকে শ্রীদেবী, উর্মিলা মাতন্ডকর থেকে প্রীতি জিনটা পর্যন্ত নায়িকাদের হয়ে তাঁর কণ্ঠ দিয়েছেন । ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর একজন মারাঠি ও কোঙ্কিনী সঙ্গীতজ্ঞ এবং মঞ্চ অভিনেতা ছিলেন। তাঁর মা হলেন শেবন্তী (পরে নাম পরিবর্তন করে সুধামতি রাখেন) বোম্বে প্রেসিডেন্সির তালনারের গুজরাতি নারী ৷ পাঁচ ভাইবোনের মধ্য লতাই সবচেয়ে বড় ৷ শৈশবে বাড়িতে থাকাকালীন কে এল সায়গল ছাড়া আর কিছু গাইবার অনুমতি ছিল না তাঁর। বাবা চাইতেন লতা শুধু ধ্রপদী গান নিয়েই থাকুন। জীবনে প্রথম রেডিও কেনার সামর্থ্য যখন হলো, তখন তাঁর বয়স আঠারো। কিন্তু, রেডিওটা কেনার পর 'নব' ঘোরাতেই লতা কে এল সায়গলের প্রয়ানের খবর শোনেন। শোকে বিহ্বল লতা রেডিওটা ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন। সালটা ১৯৪২। লতার বয়স যখন মাত্র ১৩। তখন তাঁর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নবযুগ চিত্রপট সিনেমা কোম্পানির মালিক মাস্টার বিনায়ক (বিনায়ক দামোদর কর্ণাটকি) ছিলেন মঙ্গেশকর পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনিই লতাকে গায়িকা ও অভিনেত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে সাহায্য করেছিলেন। প্রথমে মারাঠী ছবিতে কণ্ঠ দেন তিনি ৷ ১৯৪৫ সালে লতা মুম্বইতে চলে আসেন। তিনি ওস্তাদ আমান আলি খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঠ নিতে শুরু করেন। বসন্ত জোগলেকারের হিন্দি-ভাষার ছবি আপ কি সেবা মে (১৯৪৬) -এর জন্য 'পা লাগুন কার জোরি' গান গেয়েছিলেন তিনি ৷ এর আগে লতা এবং তাঁর বোন আশা বিনায়কের প্রথম হিন্দি ভাষার সিনেমা বাদি মা (১৯৪৫) -এ ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেই সিনেমায় লতা একটি ভজনও গেয়েছিলেন, 'মাতা তেরে চরন মে'। তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বিভিন্ন সংগীতকার ও সুরকারের তৈরি গান গেয়েছেন লতা ৷ যাঁদের মধ্যে ছিলেন অনিল বিশ্বাস শংকর জয়কিশান, নৌশাদ আলী, শচীন দেব বর্মন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, খৈয়াম, রবি, রোশন, কল্যাণজি-আনন্দজি, মদন মোহন, এবং উষা খান্না প্রমুখ। আবার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, মুকেশ মহম্মদ, রফি প্রমুখ গায়কদের সঙ্গেও দ্বৈত সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি ৷ সুরসাম্রাজ্ঞি বাংলা ভাষায় মোট ১৮৫টি গান গেয়েছেন ৷ ১৯৫৬ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর করা 'প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে' হিট গানের মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। একই বছর, তিনি ভূপেন হাজারিকার সুর করা "রঙ্গিলা বাঁশিতে" রেকর্ড করেন, যা হিটও হয়েছিল। পাঁচের দশকের শেষের দিকে, তিনি "যারে উড়ে যারে পাখি", "না যেওনা" এবং "ওগো আর কিছু তো নয়" এর মতো হিট গান রেকর্ড করেন, সবগুলোই সলিল চৌধুরী রচিত ৷ ১৯৬০ সালে, তিনি "আকাশ প্রদীপ জোল" রেকর্ড করেছিলেন, যা আজও একটি স্ম্যাশ হিট। পরবর্তীতে দশকগুলিতে তিনি গেয়েছেন আরও বহু কালজয়ী গান৷ ভারতের এই স্বনামধন্য গায়িকা এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় ছবিতে গান করেছেন। ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তারই রয়েছে। ১৯৮৯ সালে ভারত সরকার তাকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করে। তার অবদানের জন্য ২০০১ সালে তাকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্নে ভূষিত করা হয়৷ তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, ৪টি শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দু'টি বিশেষ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।


from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/ThDjAnw
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads