Raw-IB-র প্রধানদেরও মেয়াদ বৃদ্ধি https://ift.tt/3kATU9x - MAS News bengali

Raw-IB-র প্রধানদেরও মেয়াদ বৃদ্ধি https://ift.tt/3kATU9x

এই সময়: রবিবারই দু'টি অর্ডিন্যান্স জারি করে ED ও অধিকর্তাদের কার্যকালের মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বাধিক পাঁচ বছর করা হয়েছিল। তা নিয়ে রবিবারই বিরোধীরা হইচই শুরু করলেও কেন্দ্র যে তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, তা ফের বুঝিয়ে দিল সোমবার। এ বার গেজ়েট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বাড়িয়ে দেওয়া হল প্রতিরক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, 'র' প্রধান ও আইবি প্রধানেরও। তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ আরও ২ বছর বাড়ানো হতে পারে, তবে তা কখনওই দু'বছরের বেশি হবে না। সংবিধানের ৩০৯ ধারা প্রয়োগ করে এই বদল আনা হয়েছে। গত ২৭ মে 'র' প্রধান সামন্তকুমার গোয়েল এবং আইবি-র ডিরেক্টর অরবিন্দ কুমারের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছিল কেন্দ্র। ১২ অগাস্ট এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্রসচিব অজয়কুমার ভাল্লার মেয়াদ। এদিন যে গেজ়েট নোটিফিকেশন জারি করা হয়, সেখানেও ওই দু'টি অধ্যাদেশের মতোই বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে বা গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। পুরোটাই 'কেস টু কেস', অর্থাৎ নির্ভর করছে সেই মামলার গুরুত্বের উপর। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এখানেই অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বিরোধীদের হাতে। এমনিতেই সংসদকে এড়িয়ে কেন অধ্যাদেশ জারি করে এই কাজ করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এ বার 'গুরুত্ব' বিচারের বিচারকর্তা কে, সে প্রশ্নও আসবে অনিবার্য ভাবে। এমনিতেই বিরোধী দলগুলির দাবি, ২০২৪ সালের ভোট বৈতরণী পেরোতে এই সংস্থাগুলির সাহায্য লাগবে মোদীর। সে জন্যই সব ক'টার মাথায় নিজের লোক বসিয়ে রেখেছেন। তাঁদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ভোট-বৈতরণী পেরোবেন। আর যদি কেউ 'কথা না শোনেন', তা হলে তাঁকে সরিয়ে নিজের পছন্দের লোক বসাবেন তিনি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রবিবারের অর্ডিন্যান্স প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের চূড়ান্ত। এত দিন নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিতে এবং বিরোধী দলকে হেনস্থা করতে এই সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হত। বিরোধী নেতাদের ওপর ও হানা রোজকার ঘটনা হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদী কণ্ঠকে রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।' একটি টুইটে রণদীপ লেখেন, 'মোদী সরকারে সিবিআই ও ইডির সংজ্ঞা আলাদা। এখানে সিবিআই মানে 'কম্প্রোমাইজড ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন' এবং ইডি মানে 'ইলেকশন ডিপার্টমেন্ট'। এর আগেও সরকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি করেছে, এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।' কংগ্রেসের আর এক মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি টুইট করে বলেন, 'সিবিআই ও ইডি নিয়ে জারি করা বিজেপি সরকারের নির্দেশিকা জৈন হাওয়ালা রায়ের বিরুদ্ধে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, সিবিআই ইডি অধিকর্তাদের কাজে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।' মণীশের প্রশ্ন, 'কেন দু'বছর থেকে মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হলো? দেশে কি কোনও যোগ্য অফিসার নেই? দ্বিতীয় প্রশ্ন, এই প্রতিষ্ঠানগুলির যতটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা বেঁচে আছে, আধিকারিকদের মেয়াদ বাড়িয়ে কি সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে দিতে চাইছে সরকার?' তিনি এর পরে বলেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হতে পারে। আলাদা আলাদা ভাবে সব রাজনৈতিক দল তা করতে পারে। অর্থাৎ এখানে ফের বিরোধী ঐক্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনও এদিন সকালে একটি টুইট করে বলেন, 'আর দু'সপ্তাহের মধ্যে সংসদের অধিবেশন বসছে। সেখানে বিরোধীরা যা করার করবে। আমরা কিছুতেই ভারতকে 'নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র' হতে দেব না।' দলীয় সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরার জন্য অর্ডিন্যান্সের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় স্ট্যাটুটরি রেজোলিউশন পেশ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল৷ সোমবার এই মর্মে রাজ্যসভার নবনিযুক্ত সেক্রেটারি জেনারেল পি সি মোদীকে আনুষ্ঠানিক নোটিস দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে৷ সংবিধানের ১২৪ ধারার ক্লজ ২, উপধারা(এ) অনুযায়ী দাখিল করা এই নোটিসের বলে সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভা কক্ষে বিতর্ক দাবি করবে তৃণমূল। দলীয় সূত্রের দাবি, দলনেত্রী মমতার নির্দেশেই সোমবার তৃণমূলের তরফে এই নোটিস জারি করা হয়েছে৷ তৃণমূলই প্রথম বিরোধী দল, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংসদে এই রেজোলিউশন পেশ করেছে৷ স্ট্যাটুটরি রেজোলিউশনের তাৎপর্য হল, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান প্রথমেই তা খারিজ করতে পারবেন না৷ এই রেজোলিউশন নিয়ে প্রয়োজনে সংসদের উচ্চকক্ষে ভোটাভুটির দাবি করতে পারবে তৃণমূল৷ অন্য বিরোধী দল যদি এই রেজোলিউশনের প্রসঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা চায়, সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়, তা হলে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই৷ জোড়াফুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদ বলেন, 'আমরা বিরোধী ঐক্যের বিপক্ষে নই৷ আমাদের দল আগে সরকারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটুটরি রেজোলিউশন নিয়ে এসেছে, এটা কোনও অহঙ্কারের বিষয় নয়৷ গুজরাট মডেলে দেশের পরম্পরা, সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অংশীদার হতে রাজি তৃণমূল কংগ্রেস৷' রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শীতকালীন অধিবেশন বসার আগে সরকারই বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বাদল অধিবেশনে যেমন পেগাসাস নিয়ে উত্তাল হয়েছিল সংসদ, এ বার হয়তো 'গণতন্ত্রকে ধ্বংস' করাকেই হাতিয়ার করবে বিরোধী শিবির।


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3kFazZF
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads