'মেয়েরা তো মা হবে! মন্ত্রী হওয়া ওদের কম্মো নয়' https://ift.tt/3nnhDwb - MAS News bengali

'মেয়েরা তো মা হবে! মন্ত্রী হওয়া ওদের কম্মো নয়' https://ift.tt/3nnhDwb

কাবুল: মেয়েরা মন্ত্রী হতে পারে না...ওদের কাজ তো জন্ম দেওয়া- টিভি সাক্ষাৎকারে খুব উদ্ধত ভঙ্গিতে এ কথা বলছেন 'নরমপন্থী' তালিবানের মুখপাত্র! জোর গলায় প্রশ্ন তুলছেন, 'কে বলেছে মেয়েরা সমাজের অর্ধেক অংশ? আমরা তা মানি না!' নারী স্বাধীনতা, সমানাধিকার, ইসলামি রীতি মেনে মেয়েদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার- আশ্বাসের ফিরিস্তি শুনিয়ে মাত্র চার দিন আগে সরকার গঠন করা তালিবানের নিজমূর্তি আরও একবার প্রকাশ্যে এল। সৌজন্যে 'টোলো নিউজ'কে দেওয়া তালিবানের অন্যতম মুখপাত্র সইদ জেকরুল্লাহ হাশিমির একটি সাক্ষাৎকার। নারী-শরীর দেখা যাওয়ার যুক্তিতে আফগান মেয়েদের খেলাধুলো বন্ধ করেছে তালিবান। পুরুষসঙ্গী ছাড়া পথে বেরোনো আগেই নিষিদ্ধ হয়েছিল, এখন ক্লাসরুমেও পুরুষ ও মহিলা সহপাঠীর মধ্যে পর্দার আড়াল। স্বাস্থ্যক্ষেত্র ছাড়া অন্যত্র মহিলা কর্মীদের প্রবেশ নিষেধ। তার মধ্যেও আশা ছিল, হয়তো আফগান প্রশাসনে থাকবে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব। কারণ, আফগান সমাজের সব অংশের প্রতিনিধিত্ব রেখে মন্ত্রিসভা গঠনের আশ্বাস দিয়েছিল তালিবান। কিন্তু মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণার পর দেখা গিয়েছে, সেখানে মহিলাদের উল্লেখমাত্র নেই! কিন্তু কেন? তার জবাবেই তালিব-মুখপাত্র হাশিমির এই যুক্তি। পুশতু ভাষার সাক্ষাৎকারের একটি অংশ ইংরেজি অনুবাদ-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক নাতিক মালিকজাদা। যা দেখে নারী অধিকারকর্মীদের প্রশ্ন, এটাই কি তবে আফগান নারীদের ভবিষ্যৎ? মুখে বদলে যাওয়ার কথা বললেও পরিস্থিতি যে এমনই হতে চলেছে, তা অবশ্য আগেই আঁচ করেছিলেন আফগান মহিলারা। আর তাই ১৫ অগাস্ট তালিবান কাবুল দখল করার পর থেকেই শিক্ষা, চাকরি ও প্রশাসনে সমানাধিকারের দাবিতে পথে নামছেন তাঁরা। কাবুল থেকে সে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়াচ্ছে অন্যান্য প্রভিন্সেও। ক'দিন আগে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে 'ভাগ ভাগ পাকিস্তান' স্লোগান তুলতেও দেখা গিয়েছে মহিলাদের। এই প্রতিবাদের ছবি তুলতে গিয়ে তালিবানের রোষের মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরাও। কিন্তু এত দাবি, উল্টো দিকে এত আশ্বাসের পরেও কেন তালিবানের মন্ত্রিসভায় স্থান নেই মহিলাদের? হাশিমির স্পষ্ট জবাব, 'মহিলারা মন্ত্রী হতে পারেন না। তাঁদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অর্থ এমন কিছু ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া, যে বোঝা তাঁরা বইতে পারবেন না। মহিলাদের ক্যাবিনেটে থাকা আবশ্যিক নয়...তাঁদের উচিত সন্তানের জন্ম দেওয়া।' সঞ্চালক থামিয়ে বলেন, 'কিন্তু মহিলারা তো সমাজের অর্ধেক অংশ...' হাশিমির পাল্টা, 'কিন্তু আমরা তো ওদের অর্ধেক বলে মানি না। অর্ধেকের মানে কী? এই অর্ধেকের ঠিক ব্যাখ্যাই তো নেই। অর্ধেকের অর্থ শুধু ওদের ক্যাবিনেটে রাখতে হবে, আর কিছু নয়? ওদের অধিকার ভঙ্গ হলে সেটা কোনও ব্যাপার নয়! যেমন ধরুন, গত ২০ বছর ধরে আমেরিকা, আফগানিস্তানে পুতুল সরকার বসিয়ে রেখে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে কাজের যে সংস্কৃতি দেখিয়েছে, সেটা অফিসে দেহব্যবসা ছাড়া আর কী?' মহিলাদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য হজম করতে পারেননি সঞ্চালক। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, 'আপনি সব মহিলাকে এ ভাবে যৌনকর্মী বলতে পারেন না...' তালিব মুখপাত্রের সুর একটু নরম হলেও হাবভাবে বদল আসেনি। হাশিমির স্পষ্ট বক্তব্য, 'আমি সব আফগান মহিলাদের কথা বলিনি। রাস্তায় প্রতিবাদ জানানো চার জন আফগানিস্তানের পুরো মহিলা সমাজের প্রতিনিধি নন। আফগানিস্তানের মহিলা তাঁরাই, যাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম দেন, সন্তানদের ইসলামিক মতাদর্শে শিক্ষিত করে তোলেন।' তালিব মুখপাত্রের এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নারী অধিকার সংক্রান্ত ইনচার্জ প্রমিলা প্যাটেন অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আফগান মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তালিব শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্কের মাঝেও চুপ। কাবুলের রাস্তায় প্রতিবাদী মহিলাদের সংখ্যা বেড়ে চলা তালিবানের অস্বস্তি যে বাড়াচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। বৃহস্পতিবারই আফগান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক ফতোয়া জারি করেছে, তালিব-প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে কোনও প্রতিবাদ করা যাবে না। কিন্তু বন্দুকের নলে প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে কি?


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3A3jVE9
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads