হারিয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় জিলিপির বাজার! মুখভার কেঞ্জাকুড়ার https://ift.tt/3Eq0uYv - MAS News bengali

হারিয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় জিলিপির বাজার! মুখভার কেঞ্জাকুড়ার https://ift.tt/3Eq0uYv

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ভাদু পুজো ও মানেই কেঞ্জাকুড়ার ! কে কত বড়ো করাতে পারেন তার প্রতিযোগিতা চলত। কিন্তু, বর্তমান কোভিড আবহে সেই সব এখন অতীত। এক ধাক্কায় মেগা জিলিপির আকার ও আয়তন কমে গিয়েছে। ফলে কাঁসা-পিতল শিল্পের গ্রাম বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ার মেগা জিলিপির বাজার এবার মন্দা। ‘মেগা জিলিপি’ নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, জিলিপির আকার ও আয়তন বিশালাকার। যুগ-যুগ ধরে কেঞ্জাকুড়ায় এই বিশাল দৈত্যাকৃতির জিলিপি তৈরির পরম্পরা চলে আসছে। মূলত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে ভাদু পুজো ও বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যেই মেগা জিলিপির বরাত আসে। কে কত বড়ো জিলিপি ময়রা দোকানে অর্ডার দেবেন তার প্রতিযোগিতা চলত। এমনকি বেয়াইবাড়িতেও মেগা জিলিপি পাঠিয়ে নিজের বড়াই জাহির করার চল ছিল। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরেই মেগা জিলিপর চাহিদা কমতে শুরু করে। আর গত বছর থেকে তো কোভিড আবহে কোনক্রমে নিয়মরক্ষার জিলিপি তৈরির অর্ডার আসছে। কেঞ্জাকুড়ার অভিজাত এক মিষ্টির দোকানি মুক্তা দত্তর কথায়, ‘বছর দুয়েক আগেও কয়েক কেজি ওজনের বিশালাকার জিলিপি তৈরির অর্ডার মিলত। এবছর তা কমে অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে।’ শুধু তাই নয়, আগে পার্শ্ববর্তী জেলা ও ভিন রাজ্য থেকেও মেগা জিলিপির অর্ডার পেতেন কেঞ্জাকুড়ার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। মুক্তা দত্তর আক্ষেপ, ‘ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা থেকেও অর্ডার মিলত। ওখানকার বনেদি বাঙালিরা ভাদু পুজোর আগেরদিন গাড়িতে করে এখান থেকে জিলিপি নিয়ে যেতেন। পুরুলিয়া, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেও অনেক ক্রেতা আসতেন। কিন্তু, গত বছর থেকে সেসব অতীত।’ এর কারণ যে কোভিড তাঁর অজানা নয়। কেঞ্জাকুড়ার আরেক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী জানান, কোভিড আবহে বাজারে মন্দা। মানুষের রোজগার শিকেয় উঠেছে। হাতে টাকা নেই। তাই বিশাল আকারের জিলিপির বরাত নেই এবার। মেগা জিলিপির অর্ডার না পেয়ে কারিগর অশোক ভুঁই, হারাধন কুম্ভকারদের মন ভালো নেই। তবে অন্যান্য জেলা ও ভিন রাজ্য থেকে অর্ডার না মিললেও কেঞ্জাকুড়ার বাসিন্দারা আজও পরম্পরা মেনে মেগা জিলিপি কিনতে হাজির হচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। কেঞ্জাকুড়ার বাসিন্দা যুথিকার মতো বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মেগা জিলিপি। যুথিকার সাফ কথা, ‘এই জিলিপি আমাদের পরম্পরার অঙ্গ। তাই ভাদু পুজোর দিন এই জিলিপি আজও কেঞ্জাকুড়ায় প্রতি ঘরে-ঘরে বিরাজ করে৷ এটা বাংলার মিষ্টান্ন শিল্পেরও গৌরব।’ তবে স্থানীয় অর্ডারে কী পেট ভরবে! ফলে কাঁসা-পিতল শিল্পের গ্রাম হিসাবে পরিচিত কেঞ্জাকুড়ার প্রাচীন এই শিল্প যেমন সঙ্গীণ হয়ে পড়েছে, গামছা ও তাঁত শিল্প যেমন ধুঁকছে, তেমনই মেগা জিলিপির বাজারেও ভাটা। ফলে ভাদু উৎসবেও মন খারাপ কেঞ্জাকুড়ার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের।


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3kgvB0X
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads